০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমবিবিএস পাস না করেই হাফডজন ডিগ্রী নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে মেহেদী হাসান রাসেল

blank
blank

চিকিৎসা সেবা পত্রে ( প্রেসক্রিপশন) নিজের নামের সাথে হাফডজন খানেক ডিগ্রী লাগিয়ে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রুগীদের চিকিৎসা করছেন ডাক্তার ডিগ্রীধারী মেহেদী হাসান রাসেল। #এমবিবিএস, সিসিডি (বারডেম), পিজিটি ( মেডিসিন), এমডি নিউরো মেডিসিন (অনকোর্স), ডি পিএম ( সিঙ্গাপুর), ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন এবং নিউরো মেডিসিন বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রেসক্রিপশন প্যাডে হাফডজন ডিগ্রী লিখে রুগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজার পিয়াজপট্টিতে অবস্থিত মায়া-বাঁধন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সততা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার করে রুগী দেখেন। রুগী প্রতি ভিজিট নেয় তিনশত টাকা করে।
মেহেদী হাসান রাসেল প্রতারণার কৌশল হিসেবে নিজেকে ডায়াবেটিস ও নিউরো মেডিসিন বিষয়ে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়। কারন বর্তমানে ডায়াবেটিস রুগীর সংখ্যা বেশি। তবে এই ভূয়া ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখে বোঝার উপায় নেই যে সে একজন এমবিবিএস ডাক্তার না। তার লিখা পরীক্ষা নিরিক্ষার করার পরামর্শ গুলো যেকোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতই। তবে এসব পরীক্ষা নিরিক্ষার রিপোর্ট দেখার মতো যোগ্যতা ও সে অনুযায়ী ঔষধ দেওয়া এবং সেই ঔষধ খেয়ে রুগী কতটা নিরাপদ থাকে এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন সচেতন মহলের।

মায়া- বাঁধন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “আমি তার সাথ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ গেটের বিপরীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচিত হই এবং আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসতে বলি তিনি গত দেড় বছর ধরে আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রুগী দেখে। শহরের মত জায়গায় চেম্বার করে দেখে আমি তার বিষয়ে সন্দেহ করিনি তাছাড়া আমি জানতাম না তিনি এমবিবিএস পাস না “।

লক্ষীপুরের অতিপরিচিত এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানায় সে আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বারে রুগী দেখতে চেয়েছিলো এবং সে নিজেই স্বীকার করে সে এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার না তাই আমি বসতে চেম্বার দিইনি।
ভুয়া ডাক্তার মেহেদী হাসান রাসেল সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায় তার নামে একটি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা আছে সেই মামলায় জেল খেটে বর্তমানে জামিনে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় চেম্বার করে রুগী দেখার সুযোগ খুঁজছে।

মেহেদী হাসান রাসেল সম্পর্কে রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন “সে এমবিবিএস পাস কি না সেটা তার কোড নাম্বার দিয়ে খোঁজ করলেই পাওয়া যাবে কোড নাম্বার না থাকলে বা না বললে বুঝে নিতে হবে সে এমবিবিএস পাস না। শুধু নাম দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না “।
ভুয়া ডাক্তার মেহেদী হাসান রাসেল বাঘা উপজেলার বাসিন্দা বর্তমানে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন সাগরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে।

এমবিবিএস পাস নাকরে হাফডজন ডিগ্রী ও জেল খাটার বিষয় নিয়ে ভুয়া ডাক্তার মেহেদী হাসান রাসেলের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি বরং তাকে ফোন করে বিরক্ত করতে নিষেধ করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

এমবিবিএস পাস না করেই হাফডজন ডিগ্রী নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে মেহেদী হাসান রাসেল

Update Time : ০৪:১২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
blank
blank

চিকিৎসা সেবা পত্রে ( প্রেসক্রিপশন) নিজের নামের সাথে হাফডজন খানেক ডিগ্রী লাগিয়ে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রুগীদের চিকিৎসা করছেন ডাক্তার ডিগ্রীধারী মেহেদী হাসান রাসেল। #এমবিবিএস, সিসিডি (বারডেম), পিজিটি ( মেডিসিন), এমডি নিউরো মেডিসিন (অনকোর্স), ডি পিএম ( সিঙ্গাপুর), ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন এবং নিউরো মেডিসিন বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রেসক্রিপশন প্যাডে হাফডজন ডিগ্রী লিখে রুগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজার পিয়াজপট্টিতে অবস্থিত মায়া-বাঁধন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সততা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সপ্তাহে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার করে রুগী দেখেন। রুগী প্রতি ভিজিট নেয় তিনশত টাকা করে।
মেহেদী হাসান রাসেল প্রতারণার কৌশল হিসেবে নিজেকে ডায়াবেটিস ও নিউরো মেডিসিন বিষয়ে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়। কারন বর্তমানে ডায়াবেটিস রুগীর সংখ্যা বেশি। তবে এই ভূয়া ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখে বোঝার উপায় নেই যে সে একজন এমবিবিএস ডাক্তার না। তার লিখা পরীক্ষা নিরিক্ষার করার পরামর্শ গুলো যেকোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতই। তবে এসব পরীক্ষা নিরিক্ষার রিপোর্ট দেখার মতো যোগ্যতা ও সে অনুযায়ী ঔষধ দেওয়া এবং সেই ঔষধ খেয়ে রুগী কতটা নিরাপদ থাকে এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন সচেতন মহলের।

মায়া- বাঁধন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “আমি তার সাথ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ গেটের বিপরীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচিত হই এবং আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসতে বলি তিনি গত দেড় বছর ধরে আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রুগী দেখে। শহরের মত জায়গায় চেম্বার করে দেখে আমি তার বিষয়ে সন্দেহ করিনি তাছাড়া আমি জানতাম না তিনি এমবিবিএস পাস না “।

লক্ষীপুরের অতিপরিচিত এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানায় সে আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বারে রুগী দেখতে চেয়েছিলো এবং সে নিজেই স্বীকার করে সে এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার না তাই আমি বসতে চেম্বার দিইনি।
ভুয়া ডাক্তার মেহেদী হাসান রাসেল সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায় তার নামে একটি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা আছে সেই মামলায় জেল খেটে বর্তমানে জামিনে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় চেম্বার করে রুগী দেখার সুযোগ খুঁজছে।

মেহেদী হাসান রাসেল সম্পর্কে রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন “সে এমবিবিএস পাস কি না সেটা তার কোড নাম্বার দিয়ে খোঁজ করলেই পাওয়া যাবে কোড নাম্বার না থাকলে বা না বললে বুঝে নিতে হবে সে এমবিবিএস পাস না। শুধু নাম দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না “।
ভুয়া ডাক্তার মেহেদী হাসান রাসেল বাঘা উপজেলার বাসিন্দা বর্তমানে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন সাগরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে।

এমবিবিএস পাস নাকরে হাফডজন ডিগ্রী ও জেল খাটার বিষয় নিয়ে ভুয়া ডাক্তার মেহেদী হাসান রাসেলের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি বরং তাকে ফোন করে বিরক্ত করতে নিষেধ করেন।