০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুড়িয়ে মারতে রাতে খড়ের গাদায় আগুন দেয়ার অভিযোগ

blank
blank

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে পুড়িতে মারতে ঘরের পাশে খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এরপর চিৎকার ও গালাগাল করে প্রতিপক্ষকে বলেছেন, ঘর থেকে বের হলেই তাঁদের ওই আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে। পরে অবশ্য প্রতিবেশীরা এসে সে আগুন নেভান। শুক্রবার রাতে উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাধাইমুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধাইমুড়ি গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী বেলাল উদ্দিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে হুমকির ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার সকালে এ নিয়ে বাগবিন্ডার এক পর্যায়ে ইদ্রিস আলীর পরিবারকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন বেলাল উদ্দিন। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইদ্রিস আলীর ঘরসংলগ্ন খড়ের গাদার পালায় আগুন ধরিয়ে দেন বেলাল। আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাঁদের আগুন নেভাতে বাধা দেন বেলাল। এ সময় তিনি চিৎকার করে ইদ্রিসের ঘরে থাকা লোকজনকে বেরিয়ে আসতে বলেন। আর বের হলেই তাঁদের পুড়িয়ে মারা হবে বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে ওই ঘর থেকে লোকজন বেরিয়ে এসে ও প্রতিবেশীরা মিলে খড়ের গাদার আগুন নেভান। সে সময় বেলাল উদ্দিনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কৃষক ইদ্রিস আলী অভিযোগ করেন, বেলাল উদ্দিন সকালে হুমকি দিয়ে রাতে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করবেন, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। যেভাবে আগুন দিয়েছেন, তাতে আরেকটু দেরি হলেই আগুন ঘরে ছড়িয়ে পড়ত। প্রতিবেশি সাইফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগুন জ্বলতে দেখে তাঁরা দ্রæত ছুটে এসেছেন। প্রথমে পরিবারটিকে উদ্ধার করেন। আর কিছু সময় পার হলেই আগুন বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ত। খড়ের গাদার পাশেই বেলাল উদ্দিনকে চিৎকার করে প্রতিপক্ষকে গালাগাল করতে দেখেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলে হৃদয় হোসেন বলেন, তাঁর বাবা কাজটি ঠিক করেননি। এর আগে এসব কর্মকান্ডের জন্য পরিবারের পক্ষে বাবাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। চার মাস কারাভোগের পর বেরিয়ে এসেছেন।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, সকালে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

পুড়িয়ে মারতে রাতে খড়ের গাদায় আগুন দেয়ার অভিযোগ

Update Time : ০৪:৩১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
blank
blank

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে পুড়িতে মারতে ঘরের পাশে খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এরপর চিৎকার ও গালাগাল করে প্রতিপক্ষকে বলেছেন, ঘর থেকে বের হলেই তাঁদের ওই আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে। পরে অবশ্য প্রতিবেশীরা এসে সে আগুন নেভান। শুক্রবার রাতে উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাধাইমুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধাইমুড়ি গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী বেলাল উদ্দিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে হুমকির ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার সকালে এ নিয়ে বাগবিন্ডার এক পর্যায়ে ইদ্রিস আলীর পরিবারকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন বেলাল উদ্দিন। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইদ্রিস আলীর ঘরসংলগ্ন খড়ের গাদার পালায় আগুন ধরিয়ে দেন বেলাল। আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাঁদের আগুন নেভাতে বাধা দেন বেলাল। এ সময় তিনি চিৎকার করে ইদ্রিসের ঘরে থাকা লোকজনকে বেরিয়ে আসতে বলেন। আর বের হলেই তাঁদের পুড়িয়ে মারা হবে বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে ওই ঘর থেকে লোকজন বেরিয়ে এসে ও প্রতিবেশীরা মিলে খড়ের গাদার আগুন নেভান। সে সময় বেলাল উদ্দিনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কৃষক ইদ্রিস আলী অভিযোগ করেন, বেলাল উদ্দিন সকালে হুমকি দিয়ে রাতে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করবেন, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। যেভাবে আগুন দিয়েছেন, তাতে আরেকটু দেরি হলেই আগুন ঘরে ছড়িয়ে পড়ত। প্রতিবেশি সাইফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগুন জ্বলতে দেখে তাঁরা দ্রæত ছুটে এসেছেন। প্রথমে পরিবারটিকে উদ্ধার করেন। আর কিছু সময় পার হলেই আগুন বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ত। খড়ের গাদার পাশেই বেলাল উদ্দিনকে চিৎকার করে প্রতিপক্ষকে গালাগাল করতে দেখেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলে হৃদয় হোসেন বলেন, তাঁর বাবা কাজটি ঠিক করেননি। এর আগে এসব কর্মকান্ডের জন্য পরিবারের পক্ষে বাবাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। চার মাস কারাভোগের পর বেরিয়ে এসেছেন।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, সকালে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।