০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ Time View
blank
blank

 

রায়হান জনি, কেশবপুর

উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে যশোর জেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনী গ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার। পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ সম্পাদক মানব মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান জনি’সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে তুলে ধরে বলেন, মাথিনের কূপের নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্য ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর এই পাঁজিয়াতে জন্মেছিলেন এবং এই পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। দেশ বিভাগের পূ্র্বেই পরিবারসহ তারা চলে যান ওপার বাংলায়। সেখানে তিনি পুলিশে চাকুরি করেছেন, সিনেমাতে অভিনয় করেছেন এবং একজন সাহিত্যিক হিসেবেও অত্যন্ত সুনাম অর্জন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘ যখন পুলিশ ছিলাম’, ‘যখন নায়ক ছিলাম’। পুলিশে চাকরি করাকালীন তিনি বদলি হয়ে এসেছিলেন এপার বাংলার চট্টগ্রাম জেলাতে, সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয় টেকনাফ। সেখানে গিয়ে সঙ্গীত, নাটক, থিয়েটার পাগল ধীরাজ মগ রাজার কন্যা মাথিনের প্রেমে পড়েন। যে প্রেম কাহিনী লাইলী- মজনু, শিরি- ফরহাদ এর চেয়ে কোন অংশে কম নয়। মাথিনকে তিনি বিবাহ করতে চাইলেও অবশেষে তিনি তাকে বিবাহ না করে পালিয়ে ফিরে আসেন কলকাতা। মাথিন ধীরাজকে না পেয়ে টেকনাফ থানার কূপের কাছে নাওযা – খাওয়া ছেড়ে অনশন করেন,। অবশেষে সেখানে তিনি মারা যান। টেকনাফ থানার সেই কূপটি মাথিনের কূপ নামে পরিচিত। ধীরাজ ভট্টাচার্য কলকাতাতে ফিরে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন। তিনি নায়ক ও খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে বাঙালি হৃদয় জয় করেছেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে তার ১২১তম বার্ষিকীতে তারই জন্মভূমিতে বক্তরা তুলে ধরেন তার জীবনের এইসব কর্মকান্ড। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই গুণী অভিনেতার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

কেশবপুরে ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

কেশবপুরে ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

Update Time : ১২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
blank
blank

 

রায়হান জনি, কেশবপুর

উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে যশোর জেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনী গ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার। পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ সম্পাদক মানব মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান জনি’সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে তুলে ধরে বলেন, মাথিনের কূপের নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্য ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর এই পাঁজিয়াতে জন্মেছিলেন এবং এই পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। দেশ বিভাগের পূ্র্বেই পরিবারসহ তারা চলে যান ওপার বাংলায়। সেখানে তিনি পুলিশে চাকুরি করেছেন, সিনেমাতে অভিনয় করেছেন এবং একজন সাহিত্যিক হিসেবেও অত্যন্ত সুনাম অর্জন করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘ যখন পুলিশ ছিলাম’, ‘যখন নায়ক ছিলাম’। পুলিশে চাকরি করাকালীন তিনি বদলি হয়ে এসেছিলেন এপার বাংলার চট্টগ্রাম জেলাতে, সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয় টেকনাফ। সেখানে গিয়ে সঙ্গীত, নাটক, থিয়েটার পাগল ধীরাজ মগ রাজার কন্যা মাথিনের প্রেমে পড়েন। যে প্রেম কাহিনী লাইলী- মজনু, শিরি- ফরহাদ এর চেয়ে কোন অংশে কম নয়। মাথিনকে তিনি বিবাহ করতে চাইলেও অবশেষে তিনি তাকে বিবাহ না করে পালিয়ে ফিরে আসেন কলকাতা। মাথিন ধীরাজকে না পেয়ে টেকনাফ থানার কূপের কাছে নাওযা – খাওয়া ছেড়ে অনশন করেন,। অবশেষে সেখানে তিনি মারা যান। টেকনাফ থানার সেই কূপটি মাথিনের কূপ নামে পরিচিত। ধীরাজ ভট্টাচার্য কলকাতাতে ফিরে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন। তিনি নায়ক ও খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে বাঙালি হৃদয় জয় করেছেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে তার ১২১তম বার্ষিকীতে তারই জন্মভূমিতে বক্তরা তুলে ধরেন তার জীবনের এইসব কর্মকান্ড। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই গুণী অভিনেতার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়।