০৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে জলাবদ্ধতায় দেড় হাজার বিঘা আমন ধান হুমকিতে, সরেজমিনে ইউএনও

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৯ Time View
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল,মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আমিনপুর,শ্যামকুড়,হাঁসাডাঙ্গা, জামলা ও রামনগর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে চলতি আমন মৌসুমের প্রায় ১ হাজার ৫শত বিঘা জমির ধান ও অন্যান্য ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং চলতি আমন ধান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে রবিবার (২৭সেপ্টেম্বর) লিখিত আবেদন করেছেন পাঁচ গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ।

আবেদনে বলা হয়েছে,সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই বলদালী বিল,আমিনপুর মাঠ ও জামলা মাঠসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং মাঠে থাকা আমন ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে,ইতোমধ্যে অনেক স্থানে ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারি খাস খালের উভয় পাশে মৎস্য ঘের নির্মাণের কারণে খালের স্বাভাবিক প্রশস্ততা ও পানি প্রবাহের সক্ষমতা কমে গেছে,পাশাপাশি কেশবপুর উপজেলার ৬ নম্বর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মূলগ্রাম এলাকার সদ্য খনন করা খালের সঙ্গে খাস খালের সংযোগস্থলে কাঠের তক্তা ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করায় পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়,অতীতে আমিনপুর, জামলা, শ্যামকুড়, রামনগর ও চিনাটোলা গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত কুমোর খালের মাধ্যমে এসব এলাকার পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতো। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে মৎস্য ঘের নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের ওই পথ বাঁধাগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের মতে, কুমোর খালের মাধ্যমে পূর্বের মতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা গেলে পাঁচ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ও বসতবাড়িও জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে তারা আশা করছেন।

এ অবস্থায় বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত ও পরিদর্শন করে সরকারি খাস খাল ও পানি নিষ্কাশন পথের প্রতিবন্ধকতা দূর করা,প্রয়োজনীয় খাল খনন বা সংস্কার এবং কুমোর খালের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া বর্তমানে মাঠে থাকা আমন ধান ও অন্যান্য কৃষি ফসল রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (২৮সেপ্টেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন,উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ও কৃষি অফিসার।পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন,পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।আমরা সরেজমিনে ঘঠনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু কিছু জায়গা পানি নিষ্কাশনের বাঁধা অপসারণ করছি।আমরা জরুরি ভিত্তিতে ঘের মালিক এবং কৃষকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত সমস্যা সমাধান করবো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

Popular Post
blank

মণিরামপুরে শ্যামকুড়বাসীর জন্য রফিকুলের প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান হলে প্রতি মাসে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা

মণিরামপুরে জলাবদ্ধতায় দেড় হাজার বিঘা আমন ধান হুমকিতে, সরেজমিনে ইউএনও

Update Time : ০৭:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল,মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আমিনপুর,শ্যামকুড়,হাঁসাডাঙ্গা, জামলা ও রামনগর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে চলতি আমন মৌসুমের প্রায় ১ হাজার ৫শত বিঘা জমির ধান ও অন্যান্য ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং চলতি আমন ধান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে রবিবার (২৭সেপ্টেম্বর) লিখিত আবেদন করেছেন পাঁচ গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ।

আবেদনে বলা হয়েছে,সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই বলদালী বিল,আমিনপুর মাঠ ও জামলা মাঠসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং মাঠে থাকা আমন ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে,ইতোমধ্যে অনেক স্থানে ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারি খাস খালের উভয় পাশে মৎস্য ঘের নির্মাণের কারণে খালের স্বাভাবিক প্রশস্ততা ও পানি প্রবাহের সক্ষমতা কমে গেছে,পাশাপাশি কেশবপুর উপজেলার ৬ নম্বর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মূলগ্রাম এলাকার সদ্য খনন করা খালের সঙ্গে খাস খালের সংযোগস্থলে কাঠের তক্তা ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করায় পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়,অতীতে আমিনপুর, জামলা, শ্যামকুড়, রামনগর ও চিনাটোলা গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত কুমোর খালের মাধ্যমে এসব এলাকার পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতো। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে মৎস্য ঘের নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের ওই পথ বাঁধাগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের মতে, কুমোর খালের মাধ্যমে পূর্বের মতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা গেলে পাঁচ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ও বসতবাড়িও জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে তারা আশা করছেন।

এ অবস্থায় বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত ও পরিদর্শন করে সরকারি খাস খাল ও পানি নিষ্কাশন পথের প্রতিবন্ধকতা দূর করা,প্রয়োজনীয় খাল খনন বা সংস্কার এবং কুমোর খালের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া বর্তমানে মাঠে থাকা আমন ধান ও অন্যান্য কৃষি ফসল রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (২৮সেপ্টেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন,উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ও কৃষি অফিসার।পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন,পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।আমরা সরেজমিনে ঘঠনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু কিছু জায়গা পানি নিষ্কাশনের বাঁধা অপসারণ করছি।আমরা জরুরি ভিত্তিতে ঘের মালিক এবং কৃষকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত সমস্যা সমাধান করবো।