০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ওয়াকফ এস্টেটের অর্থ আত্মসাৎ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৪ Time View
blank
blank

সাইফুল ইসলাম,রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ওয়াকফ এস্টেটের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানাধীন চব্বিশনগর এলাকার হাজী হোসেন আলী সরকার দিং ওয়াকফ এস্টেটের ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অভিযোগকারীসহ ১১ জন কমিটির সদস্য। এ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মুশফিকুর রহমান শাহিন
আটককৃত শাহিন সরকার গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগর গ্রামের বসিন্দা। তিনি স্থানীয় চব্বিশনগর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি হিসেবে বর্তমানে দাযিত্ব পালন করে আসছিলেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, সদস্য সচিব হওয়ার সুযোগ নিয়ে মুশফিকুর রহমান কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা করলেও টাকা-পয়সার হিসাব নিকাশ অনন্য সদস্যরা চাইলে সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হন । এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চত্বরে বসে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল ও অফিসের সিল ব্যবহার করে একটি চেক প্রস্তুত করার অভিযোগ উঠেছে উল্লেখিত মুশফিকুর রহমান শাহিন এর বিরুদ্ধে।

এজাহার অনুযায়ী, ওই জাল চেক ব্যবহার করে রূপালী ব্যাংক পিএলসি,গোদাগাড়ীর উপজেলার কাকনহাট শাখা, থেকে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চেকটি আবু সাদাত সায়েম ইমন-এর নামে ইস্যু করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এছাড়া ২৭ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার রূপালী ব্যাংক, লক্ষ্মীপুর শাখায় একইভাবে জাল স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয় বলে জানা যায়।

চেকের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি রূপালী ব্যাংক পিএলসি, লক্ষ্মীপুর শাখার ম্যানেজারকে অবহিত করে। পরে তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। ইউএনও জানান, তিনি টাকা উত্তোলনের জন্য কোনো স্বাক্ষরিত চেক বা লেটার ব্যাংকে পাঠাননি।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগেও একই প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে এজাহারে সাক্ষী হিসেবে মাহফুজুর রহমান ও শওকত হোসেন রাজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন রুহুল কবির। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুশফিকুর রহমান শাহিন কে পহেলা সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আটক করা হয়। পরে আইনআনুগ ব্যবস্থা শেষে ২ সেপ্টেম্বর সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোদাগাড়ী থানা পুলিশ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

Popular Post
blank

মণিরামপুরে শ্যামকুড়বাসীর জন্য রফিকুলের প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান হলে প্রতি মাসে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ওয়াকফ এস্টেটের অর্থ আত্মসাৎ

Update Time : ০৫:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
blank
blank

সাইফুল ইসলাম,রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ওয়াকফ এস্টেটের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানাধীন চব্বিশনগর এলাকার হাজী হোসেন আলী সরকার দিং ওয়াকফ এস্টেটের ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অভিযোগকারীসহ ১১ জন কমিটির সদস্য। এ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মুশফিকুর রহমান শাহিন
আটককৃত শাহিন সরকার গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগর গ্রামের বসিন্দা। তিনি স্থানীয় চব্বিশনগর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি হিসেবে বর্তমানে দাযিত্ব পালন করে আসছিলেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, সদস্য সচিব হওয়ার সুযোগ নিয়ে মুশফিকুর রহমান কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা করলেও টাকা-পয়সার হিসাব নিকাশ অনন্য সদস্যরা চাইলে সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হন । এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চত্বরে বসে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল ও অফিসের সিল ব্যবহার করে একটি চেক প্রস্তুত করার অভিযোগ উঠেছে উল্লেখিত মুশফিকুর রহমান শাহিন এর বিরুদ্ধে।

এজাহার অনুযায়ী, ওই জাল চেক ব্যবহার করে রূপালী ব্যাংক পিএলসি,গোদাগাড়ীর উপজেলার কাকনহাট শাখা, থেকে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চেকটি আবু সাদাত সায়েম ইমন-এর নামে ইস্যু করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এছাড়া ২৭ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার রূপালী ব্যাংক, লক্ষ্মীপুর শাখায় একইভাবে জাল স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয় বলে জানা যায়।

চেকের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি রূপালী ব্যাংক পিএলসি, লক্ষ্মীপুর শাখার ম্যানেজারকে অবহিত করে। পরে তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। ইউএনও জানান, তিনি টাকা উত্তোলনের জন্য কোনো স্বাক্ষরিত চেক বা লেটার ব্যাংকে পাঠাননি।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগেও একই প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে এজাহারে সাক্ষী হিসেবে মাহফুজুর রহমান ও শওকত হোসেন রাজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন রুহুল কবির। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুশফিকুর রহমান শাহিন কে পহেলা সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আটক করা হয়। পরে আইনআনুগ ব্যবস্থা শেষে ২ সেপ্টেম্বর সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোদাগাড়ী থানা পুলিশ।