১১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় লীজের মেয়াদ শেষ,দীঘি দখলে রাখার চেষ্টা,জমির মালিকদের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকির অভিযোগে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৬০ Time View
blank
blank

 

 

বাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের লিকড়া বিলে প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর খনন করা দুইটি দীঘির লীজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীঘি জমির মালিকদের কাছে হস্তান্তর না করে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার অভিযোগ উঠেছে লীজ গ্রহীতা জাহাঙ্গীর আলম ও মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জমির মালিক ও অংশীদারগণ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার খাঁপুর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে দীঘি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও লীজ গ্রহীতারা উল্টো সেখানে নতুন করে  মাছ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এতে জমির প্রকৃত মালিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জমির মালিক ইসরাইল হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন, আব্দুস সালাম, আমির উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, শ্রী রতন কুমার, মাস্টার আব্দুল করিম, আব্দুল আজিজ, হুমায়ুন ফরিদসহ আরও অনেকে।বক্তারা বলেন, প্রায় এক যুগ আগে বার্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে বিকাশ চন্দ্র ভৌমিক চেয়ারম্যানের নিকট দীঘিগুলো লীজ দেওয়া হয়।পরে তিনি সাব লীজ প্রদান করেন।তবে ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও লীজ গ্রহীতারা দীঘি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।বরং জমির মালিকরা নিজেদের সম্পত্তি ফেরত চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা ও উকিল নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।জমির মালিক ইসরাইল হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ৭০ জন এই দিঘির মালিক ও অংশীদার।১০ বছরের জন্য জমি লীজ দেওয়া হয়েছিল।এখন মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে দীঘি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা।কিন্তু তারা জোরপূর্বক দখলে রেখে মাছ চাষের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।আমরা কথা বলতে গেলেও আমাদের নামেই আদালত থেকে উকিল নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।দশ বছর আগের লীজ গ্রহীতা বিকাশ চন্দ্র ভৌমিক চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কৃষকদের নিকট থেকে জমি লীজ নিয়েছিলাম ২২ হাজার টাকা বিঘা।আমার সমস্যার কারণে আমি সেটা সাব লীজ দিয়েছিলাম। সেখানে ১২ বছর উল্লেখ করা নাই।আমি নিয়েছি ১০ বছরের জন্য আমি কিভাবে ১২ বছরের জন্য দিতে পারে।অন্যদিকে এ বিষয়ে লীজ গ্রহীতা মানিক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমির মালিকদের কাছ থেকে ১২ বছরের জন্য লীজ নেওয়া হয়েছে।বাংলা ১৪৩৫ সাল পর্যন্ত দীঘি আমাদের কাছেই থাকবে।জমির মালিকরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানববন্ধন করছে।এদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।একই সঙ্গে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান।অন্যদিকে লীজ গ্রহিতারা জমির মালিকদের ভয়-ভীতি, হুমকি ও উকিল নোটিশ পাঠায়।এ ঘটনার পর পুকুর মালিক আমির উদ্দিন সোনার ও ইসরাইল হোসেন বাগমারা থানায় লীজ গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

বাগমারায় লীজের মেয়াদ শেষ,দীঘি দখলে রাখার চেষ্টা,জমির মালিকদের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকির অভিযোগে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

Update Time : ০৪:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
blank
blank

 

 

বাগমারা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের লিকড়া বিলে প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর খনন করা দুইটি দীঘির লীজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীঘি জমির মালিকদের কাছে হস্তান্তর না করে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার অভিযোগ উঠেছে লীজ গ্রহীতা জাহাঙ্গীর আলম ও মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জমির মালিক ও অংশীদারগণ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার খাঁপুর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত মেয়াদ শেষে দীঘি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও লীজ গ্রহীতারা উল্টো সেখানে নতুন করে  মাছ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এতে জমির প্রকৃত মালিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জমির মালিক ইসরাইল হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন, আব্দুস সালাম, আমির উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, শ্রী রতন কুমার, মাস্টার আব্দুল করিম, আব্দুল আজিজ, হুমায়ুন ফরিদসহ আরও অনেকে।বক্তারা বলেন, প্রায় এক যুগ আগে বার্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে বিকাশ চন্দ্র ভৌমিক চেয়ারম্যানের নিকট দীঘিগুলো লীজ দেওয়া হয়।পরে তিনি সাব লীজ প্রদান করেন।তবে ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও লীজ গ্রহীতারা দীঘি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।বরং জমির মালিকরা নিজেদের সম্পত্তি ফেরত চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা ও উকিল নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।জমির মালিক ইসরাইল হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ৭০ জন এই দিঘির মালিক ও অংশীদার।১০ বছরের জন্য জমি লীজ দেওয়া হয়েছিল।এখন মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে দীঘি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা।কিন্তু তারা জোরপূর্বক দখলে রেখে মাছ চাষের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।আমরা কথা বলতে গেলেও আমাদের নামেই আদালত থেকে উকিল নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।দশ বছর আগের লীজ গ্রহীতা বিকাশ চন্দ্র ভৌমিক চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কৃষকদের নিকট থেকে জমি লীজ নিয়েছিলাম ২২ হাজার টাকা বিঘা।আমার সমস্যার কারণে আমি সেটা সাব লীজ দিয়েছিলাম। সেখানে ১২ বছর উল্লেখ করা নাই।আমি নিয়েছি ১০ বছরের জন্য আমি কিভাবে ১২ বছরের জন্য দিতে পারে।অন্যদিকে এ বিষয়ে লীজ গ্রহীতা মানিক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমির মালিকদের কাছ থেকে ১২ বছরের জন্য লীজ নেওয়া হয়েছে।বাংলা ১৪৩৫ সাল পর্যন্ত দীঘি আমাদের কাছেই থাকবে।জমির মালিকরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানববন্ধন করছে।এদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।একই সঙ্গে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান।অন্যদিকে লীজ গ্রহিতারা জমির মালিকদের ভয়-ভীতি, হুমকি ও উকিল নোটিশ পাঠায়।এ ঘটনার পর পুকুর মালিক আমির উদ্দিন সোনার ও ইসরাইল হোসেন বাগমারা থানায় লীজ গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।