০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়ায় ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ নিয়ে অ’নি’য়’মে’র অ’ভি’যো’গ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৪ Time View
blank
blank

 

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ: তোপের মুখে আনসার ভিডিপি কমান্ডার মনোয়ারা

খুলনার ডুমুরিয়ায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কল্যাণমূলক উদ্যোগ ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ ঘিরে উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার মনোয়ারা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের না জানিয়েই গোপনে তালিকা তৈরি করে জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুবিধা বঞ্চিত সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে দেশের ১২টি উপজেলার তালিকায় ডুমুরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে ৬০ জন সদস্যের সাথে কথা বলে এবং কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহী ও দক্ষ ব্যক্তিদের নির্বাচনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা কমান্ডার মনোয়ারা খাতুন তার খেয়ালখুশিমতো অজ্ঞাত কারণে একটি মনগড়া তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

অনিয়মের বিষয়ে খর্নিয়া ইউনিয়ন কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি নিজে ৩২ জনের একটি তালিকা তৈরি করে উপজেলায় জমা দিয়েছিলেন। তবে এই তালিকা ও প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মনোয়ারা খাতুন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধমক দিয়ে অফিসে ডেকে পাঠান।

উপজেলা কর্মকর্তা মনোয়ারা খাতুন দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমরা কাউকে না জানিয়েই খুলনায় তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছি। যদি আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকে, তবে জেলা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেন।”

জেলা কর্মকর্তার বক্তব্য: এ বিষয়ে খুলনা জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মিনহাজ আরফিন জানান, সঞ্জীবন প্রকল্প একটি সময়োপযোগী প্রয়াস। এটি স্বচ্ছ, প্রশ্নাতীত এবং সর্বজনস্বীকৃত হতে হবে। প্রতিটি কর্মকাণ্ড সততা ও নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা রয়েছে যেন প্রকৃত দক্ষ ব্যক্তিরাই এর সুফল পায়।

ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা: সার্বিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

প্রকল্পের শুরুতেই এমন অস্বচ্ছতা ও কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে এই ‘মনগড়া’ তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

ডুমুরিয়ায় ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ নিয়ে অ’নি’য়’মে’র অ’ভি’যো’গ

Update Time : ১২:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
blank
blank

 

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

ডুমুরিয়ায় ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ: তোপের মুখে আনসার ভিডিপি কমান্ডার মনোয়ারা

খুলনার ডুমুরিয়ায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কল্যাণমূলক উদ্যোগ ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ ঘিরে উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার মনোয়ারা খাতুনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের না জানিয়েই গোপনে তালিকা তৈরি করে জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুবিধা বঞ্চিত সদস্যদের স্বাবলম্বী করতে দেশের ১২টি উপজেলার তালিকায় ডুমুরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে ৬০ জন সদস্যের সাথে কথা বলে এবং কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহী ও দক্ষ ব্যক্তিদের নির্বাচনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা কমান্ডার মনোয়ারা খাতুন তার খেয়ালখুশিমতো অজ্ঞাত কারণে একটি মনগড়া তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

অনিয়মের বিষয়ে খর্নিয়া ইউনিয়ন কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি নিজে ৩২ জনের একটি তালিকা তৈরি করে উপজেলায় জমা দিয়েছিলেন। তবে এই তালিকা ও প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মনোয়ারা খাতুন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধমক দিয়ে অফিসে ডেকে পাঠান।

উপজেলা কর্মকর্তা মনোয়ারা খাতুন দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমরা কাউকে না জানিয়েই খুলনায় তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছি। যদি আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকে, তবে জেলা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেন।”

জেলা কর্মকর্তার বক্তব্য: এ বিষয়ে খুলনা জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মিনহাজ আরফিন জানান, সঞ্জীবন প্রকল্প একটি সময়োপযোগী প্রয়াস। এটি স্বচ্ছ, প্রশ্নাতীত এবং সর্বজনস্বীকৃত হতে হবে। প্রতিটি কর্মকাণ্ড সততা ও নিষ্ঠার সাথে বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা রয়েছে যেন প্রকৃত দক্ষ ব্যক্তিরাই এর সুফল পায়।

ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা: সার্বিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

প্রকল্পের শুরুতেই এমন অস্বচ্ছতা ও কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে এই ‘মনগড়া’ তালিকা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।