০৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে টাকার লোভে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মম নির্যাতন,গর্ভস্থ ভ্রূণ বলি

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ Time View
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল,মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ীর বিরুদ্ধে আদালতে ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়ের করেছে।

মামলার প্রধান আসামি জি এম ফাহিম আলমগীর। তিনি মনিরামপুর পৌর এলাকার জিএম আলমগীর হোসেনের ছেলে এবং মনিরামপুর বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায় বসবাস করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ক্যাফে ফাহিম’ নামে পরিচিত। জানা গেছে, মনিরামপুর বাজারে তার মালিকানায় মুনলিট ক্যাফে (Moonlit Cafe) ও গল্পকুঠি ক্যাফে নামে দুটি ক্যাফে রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী একজন পিতৃহীন। পিতৃহীন হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শত অত্যাচার সহ্য করে স্বামীর সংসারে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন।

জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্টে ক্যাফে দুইটা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা । সেসময় ভুক্তভোগী নারী তার পিতার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল গহনা বিক্রি ও বন্ধক রেখে ক্যাফেটি পুনরায় নতুন ডেকেরেশন করে চালু করতে টাকা দেন ।

ভুক্তভোগী নারীর পরিবার থেকে জানা যায় , বিয়ের পর থেকেই তাকে দশ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয়। পরে যৌতুক আদায়ের লোভে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।

ভুক্তভোগী নারী গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তাকে চুলের মুঠি ধরে আছাড় দেওয়া হয় এবং তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মারা হয়। এতে তার মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সামনেই এই নৃশংস নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে স্থানীয় এক কোয়াক ডাক্তারের মাধ্যমে নামমাত্র চিকিৎসা করানো হয়। পরে তাকে কয়েকদিন জোরপূর্বক আটক রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং একপর্যায়ে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা নথি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদনে গর্ভস্থ ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মামলার আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম রবি বলেন,
আদালত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকায় সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এলাকাবাসী এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি নারী নির্যাতন ও গর্ভস্থ শিশুহত্যার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

কেশবপুরে জমি দখলের চেষ্টায় সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মণিরামপুরে টাকার লোভে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মম নির্যাতন,গর্ভস্থ ভ্রূণ বলি

Update Time : ০৩:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল,মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ীর বিরুদ্ধে আদালতে ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়ের করেছে।

মামলার প্রধান আসামি জি এম ফাহিম আলমগীর। তিনি মনিরামপুর পৌর এলাকার জিএম আলমগীর হোসেনের ছেলে এবং মনিরামপুর বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের তৃতীয় তলায় বসবাস করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ক্যাফে ফাহিম’ নামে পরিচিত। জানা গেছে, মনিরামপুর বাজারে তার মালিকানায় মুনলিট ক্যাফে (Moonlit Cafe) ও গল্পকুঠি ক্যাফে নামে দুটি ক্যাফে রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী একজন পিতৃহীন। পিতৃহীন হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শত অত্যাচার সহ্য করে স্বামীর সংসারে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন।

জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্টে ক্যাফে দুইটা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা । সেসময় ভুক্তভোগী নারী তার পিতার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল গহনা বিক্রি ও বন্ধক রেখে ক্যাফেটি পুনরায় নতুন ডেকেরেশন করে চালু করতে টাকা দেন ।

ভুক্তভোগী নারীর পরিবার থেকে জানা যায় , বিয়ের পর থেকেই তাকে দশ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয়। পরে যৌতুক আদায়ের লোভে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।

ভুক্তভোগী নারী গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তাকে চুলের মুঠি ধরে আছাড় দেওয়া হয় এবং তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মারা হয়। এতে তার মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সামনেই এই নৃশংস নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে স্থানীয় এক কোয়াক ডাক্তারের মাধ্যমে নামমাত্র চিকিৎসা করানো হয়। পরে তাকে কয়েকদিন জোরপূর্বক আটক রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং একপর্যায়ে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা নথি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিবেদনে গর্ভস্থ ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মামলার আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম রবি বলেন,
আদালত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকায় সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এলাকাবাসী এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি নারী নির্যাতন ও গর্ভস্থ শিশুহত্যার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত, যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।