
রিপোর্ট,শেখ মোস্তফা কামাল
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামের কৃষক শাহিদুজ্জামান ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অর্জন করেছেন সাফল্য। বাড়ির উঠানে করেছেন আদা চাষ— যা এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়ভাবে ভাইরাল এই চাষপদ্ধতি অনুপ্রেরণা জাগাচ্ছে অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও।
শাহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, বাড়ির উঠানে মাত্র ৪ শতক জমিতে আদা চাষ করে তিনি পেয়েছেন ৩৫০ বস্তা উৎপাদন। প্রতিটি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রির আশা করছেন তিনি। এতে করে তার একটি উল্লেখযোগ্য লাভ হবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম উঠানে আদা চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত সহায়তা ও পরামর্শে কাজটা সহজ হয়েছে। এখন এলাকার অনেকেই জানতে চাইছেন আমি কীভাবে এভাবে চাষ করেছি।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শাহিদুজ্জামানের আদা চাষকে মডেল হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে তার খামার পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এভাবে বাড়ির উঠান, ছাদ বা পরিত্যক্ত জমিতেও আদা চাষ করা সম্ভব। শাহিদুজ্জামানের সাফল্য অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করছে।
স্থানীয়দের মতে, শাহিদুজ্জামানের এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সাফল্য নয়, এটি গ্রামীণ কৃষিতে নতুন দৃষ্টান্ত। সীমিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির যে সম্ভাবনা তিনি দেখিয়েছেন, তা কৃষির ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
কৃষিবিদদের ভাষায়, দেশজুড়ে ছোট পরিসরে এমন উদ্যোগ বাড়লে পারিবারিক কৃষি চর্চা নতুন প্রাণ পাবে। কেশবপুরের এই কৃষক যেন প্রমাণ করেছেন— সফলতার জন্য বিশাল জমি নয়, প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা ও একাগ্র পরিশ্রম।












