০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় সিনেমা স্টাইলে গু’লি’ব’র্ষ’ণ, সিসিটিভি ভেঙে উধাও স’ন্ত্রা’সী’রা— এলাকায় আ’ত’ঙ্ক

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৯ Time View
blank
blank

খুলনা ব্যুরো প্রতিনিধিঃ

 

খুলনা নগরের দৌলতপুরে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই টানা গুলির শব্দ— যেন হঠাৎ সিনেমার দৃশ্য নেমে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার পরপরই মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ার কুঠিরঘাট সড়কের মেহেদী হাসান ও কুয়েট কর্মচারীর বাড়িকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে পালায় দুর্বৃত্তরা। এতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের ছায়া।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখা যায়, চারটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরিহিত কয়েকজন যুবক বাড়ির প্রধান ফটকের একটু সামনে এসে দাঁড়ায়। মোটরসাইকেল থেকে নেমে কয়েকজন প্রধান ফটক দিয়ে মহসিনের রুম লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। গুলি ছোঁড়ার পর সিসিটিভি ভাঙচুর করে দ্রুতই সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মেহেদী হাসান ১১ বছর আগে ওই এলাকায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য কয়েক মাস আগে ভারত অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী ইসমাত জাহান। স্ত্রী ইসমাত জাহান জানান—কোনো বিরোধের কথা তিনি জানেন না। তারপরও কেন এই হামলা? প্রতিবেশীরা বলছে—এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ফের সক্রিয় হচ্ছে, ঘটনার মূল রহস্য হয়তো সেখানেই লুকানো।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল বাসার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নয় রাউন্ড কার্তুজের গুলি উদ্ধার করে।

এখানেই শেষ নয়! একই সময়ে কুয়েট কর্মচারী মো. মহসিন শেখ লিটুর বাড়িকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। তার বাড়ি থেকে ৬টি রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে। সর্বমোট পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে মোট ১৫ রাউন্ড গুলির খোসা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। তাই দ্রুত ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে এলাকায় টহল জোরদার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তারা।

দৌলতপুর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান— দুর্বৃত্তদের শনাক্তে কাজ চলছে। শিগগিরই সব পরিষ্কার হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এগোচ্ছে, তবে ততক্ষণে এলাকায় ভর করেছে উৎকণ্ঠা— এমন ‘অ্যাকশন সিন’ আবারও ফিরবে না তো? রহস্য ভেদ না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না কারওই।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

খুলনায় সিনেমা স্টাইলে গু’লি’ব’র্ষ’ণ, সিসিটিভি ভেঙে উধাও স’ন্ত্রা’সী’রা— এলাকায় আ’ত’ঙ্ক

Update Time : ০২:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
blank
blank

খুলনা ব্যুরো প্রতিনিধিঃ

 

খুলনা নগরের দৌলতপুরে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই টানা গুলির শব্দ— যেন হঠাৎ সিনেমার দৃশ্য নেমে এলো বাস্তবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার পরপরই মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ার কুঠিরঘাট সড়কের মেহেদী হাসান ও কুয়েট কর্মচারীর বাড়িকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে পালায় দুর্বৃত্তরা। এতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্কের ছায়া।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখা যায়, চারটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরিহিত কয়েকজন যুবক বাড়ির প্রধান ফটকের একটু সামনে এসে দাঁড়ায়। মোটরসাইকেল থেকে নেমে কয়েকজন প্রধান ফটক দিয়ে মহসিনের রুম লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। গুলি ছোঁড়ার পর সিসিটিভি ভাঙচুর করে দ্রুতই সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মেহেদী হাসান ১১ বছর আগে ওই এলাকায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য কয়েক মাস আগে ভারত অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী ইসমাত জাহান। স্ত্রী ইসমাত জাহান জানান—কোনো বিরোধের কথা তিনি জানেন না। তারপরও কেন এই হামলা? প্রতিবেশীরা বলছে—এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ফের সক্রিয় হচ্ছে, ঘটনার মূল রহস্য হয়তো সেখানেই লুকানো।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল বাসার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নয় রাউন্ড কার্তুজের গুলি উদ্ধার করে।

এখানেই শেষ নয়! একই সময়ে কুয়েট কর্মচারী মো. মহসিন শেখ লিটুর বাড়িকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। তার বাড়ি থেকে ৬টি রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে। সর্বমোট পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে মোট ১৫ রাউন্ড গুলির খোসা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। তাই দ্রুত ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে এলাকায় টহল জোরদার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তারা।

দৌলতপুর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান— দুর্বৃত্তদের শনাক্তে কাজ চলছে। শিগগিরই সব পরিষ্কার হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এগোচ্ছে, তবে ততক্ষণে এলাকায় ভর করেছে উৎকণ্ঠা— এমন ‘অ্যাকশন সিন’ আবারও ফিরবে না তো? রহস্য ভেদ না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না কারওই।