
মোঃ আহসান হাবীব সুমন, নিজেস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১), জামালপুর কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ২৬ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে জামালপুর পৌরসভা ও সদর থানাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ভাঙা গুঁড়ো ইয়াবা ০১ গ্রাম এবং মাদক বিক্রয়লব্ধ ২৮,০৮০/- টাকা সহ তিনজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়:১. খন্দকার আলী আকবর আজম (৪৬)
সাং: দয়াময়ী পাড়া, জামালপুর সদর ২. শাহরিয়ার আহমেদ শিপু (৩০)
সাং: বোষপাড়া, জামালপুর পৌরসভা ৩. সাগর রহমান শাকিল (২৫) সাং: কাচাসড়া, জামালপুর
ডিবি অফিসের সাধারণ ডায়েরী নং-৫৫৪, তারিখ ২৬/০৭/২০২৫ অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬:০৫ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর সদর থানাধীন দয়াময়ী মোড়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শাহরিয়ার আহমেদ শিপু এবং সাগর রহমান শাকিলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। ধৃত শিপুর প্যান্টের পকেট থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং শাকিল শিপুর সহযোগী বলে স্বীকার করে।
দ্বিতীয় ধাপ:
আটককৃত দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা যায়, তারা খন্দকার আলী আকবর আজম নামের একজন ব্যক্তির নিকট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট পাইকারি দরে সংগ্রহ করে খুচরায় বিক্রি করে। এরপর গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর পৌরসভার বোষপাড়া এলাকার এক সাততলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আকবর আজমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেহ ও বাসায় তল্লাশী চালিয়ে উদ্ধার করা হয়:
উদ্ধারকৃত আলামতের বিবরণ:
ধরণের আলামত । পরিমাণ । আনুমানিক মূল্য
ইয়াবা ট্যাবলেট । ৪০১০ পিস । ৳১২,০৩,০০০/-
ভাঙা ইয়াবা। ০১ গ্রাম । অন্তর্ভুক্ত
নগদ অর্থ। ৳২৮,০৮০/- । মাদক বিক্রয়লব্ধ
আইনানুগ ব্যবস্থা:
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(গ)/৪১ ধারা মোতাবেক জামালপুর সদর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ সোহেল মাহমুদ পিপিএম বলেনঃ
জামালপুর জেলা পুলিশ বরাবরই মাদক ও অপরাধ নির্মূলের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু ব্যক্তি নয়, একটি গোটা প্রজন্মকে ধ্বংস করতে সক্ষম। এই প্রেক্ষাপটে মাদকবিরোধী অভিযান আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জামালপুর জেলার গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১) সম্প্রতি যে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে, তা শুধু প্রশংসনীয় নয়, বরং অনুকরণীয়। এই অভিযান পরিচালনায় ডিবি-১ এর অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুস সাকিব এর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব, গোয়েন্দা দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর নিখুঁত পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের সমন্বয়ের ফলেই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং একাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে, যা জেলার মাদকবিরোধী অভিযানকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, অভিযান পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়াগুলোও অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে আমাদেরকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। আমি ডিবির সম্মানিত অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুস সাকিব ও তাঁর টিমের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই ধরনের অভিযান জেলা পুলিশকে জনসচেতনতার পাশাপাশি জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।











