০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় অসহায় মানুষের পাশে ‘ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • ১৬ Time View
blank
blank

 

মোঃ ফসিয়ার রহমান, পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি

“খুলনার পাইকগাছায় গরীব, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিরবে নিবৃতে কাজ করে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক দাতব্য সংস্থা Let’s Work for Bangladesh এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন’। ২০১৯ সাল থেকে অদ্যাবধি এ ফাউন্ডেশন এলাকার হতদরিদ্র মানুষের বাসস্থান,খাদ্য সামগ্রী, চিকিৎসা, সেলাই মেশিন,শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলসহ পাইকগাছা, কয়রার ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায়,আলমতলা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ শরিফুল ইসলাম খোকন সানা এবং মো.মাসুদ সানার তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আলমতলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমি গরীব মানুষ। এক সময় পলিথিন ফুটা হয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ত।ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের সহযোগিতায় এখন একটি নতুন ঘর পেয়েছি। শান্তিতে থাকতে পারছি।

মহেশ্বরপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সানজিদা আফরিন বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে চলাফেরায় অনেক সমস্যায় পড়তাম ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন আমাকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়াতে চলাফেরা করতে পারছি। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে এ সংগঠনটি কাজ করে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উপজেলার শ্রীকন্ঠপুর গ্রামের দরিদ্র হায়দার আলী বলেন, ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে থাকা মাসুদ সানা আমাদের ২৪ প্রকার বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন। যেটা পেয়ে সত্যিই আমরা ভালোভাবে দিনানিপাত করছি।

উপজেলার হরিনগর পাজ্ঞেখানা মসজিদের ইমাম মেহেদী হাসান জানান, এলাকার মসজিদ দূরে হওয়ায় মুসল্লিদের নামাজ পড়তে সমস্যা হতো সে কারণে মোঃ শরিফুল ইসলাম খোকন সানার সহযোগিতায় ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন। ফলে এলাকার মুসল্লিদের দূরের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া লাগছে না। মসজিদটি পেয়ে সত্যিই আমরা আনন্দিত।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত পাইকগাছা- কয়রা এলাকায় ৯৩টি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় সুপেয় পানির সংকট সমাধানে প্রায় ১শ’টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। প্রায় ১ হাজার পরিবারকে চাল-ডাল-তেলসহ ২৪ প্রকারের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নারীদের আত্ম কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ।ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ৪টি নতুন পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদে আযান দেওয়ার জন্য ৫টি মাইকসেট প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ৪ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, মৃতদেহ বহনের জন্য ৪টি খাটিয়া নির্মাণ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ ও ৬০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবক মো. শরিফুল ইসলাম খোকন সানা বলেন, ‘‘এলাকার মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন আমরা পাশে থাকি। এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘আমাদের এই উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে Let’s Work for Bangladesh। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই মানুষের প্রকৃত ধর্ম। আমরা চাই, সমাজের অন্যরাও এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসুক।’’

মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ‘ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন’ এর এমন মহতী উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছেন ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

পাইকগাছায় অসহায় মানুষের পাশে ‘ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন

Update Time : ১১:২৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
blank
blank

 

মোঃ ফসিয়ার রহমান, পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি

“খুলনার পাইকগাছায় গরীব, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিরবে নিবৃতে কাজ করে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক দাতব্য সংস্থা Let’s Work for Bangladesh এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন’। ২০১৯ সাল থেকে অদ্যাবধি এ ফাউন্ডেশন এলাকার হতদরিদ্র মানুষের বাসস্থান,খাদ্য সামগ্রী, চিকিৎসা, সেলাই মেশিন,শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলসহ পাইকগাছা, কয়রার ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায়,আলমতলা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ শরিফুল ইসলাম খোকন সানা এবং মো.মাসুদ সানার তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আলমতলা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমি গরীব মানুষ। এক সময় পলিথিন ফুটা হয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ত।ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের সহযোগিতায় এখন একটি নতুন ঘর পেয়েছি। শান্তিতে থাকতে পারছি।

মহেশ্বরপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সানজিদা আফরিন বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে চলাফেরায় অনেক সমস্যায় পড়তাম ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন আমাকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়াতে চলাফেরা করতে পারছি। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে এ সংগঠনটি কাজ করে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উপজেলার শ্রীকন্ঠপুর গ্রামের দরিদ্র হায়দার আলী বলেন, ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশনের দায়িত্বে থাকা মাসুদ সানা আমাদের ২৪ প্রকার বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন। যেটা পেয়ে সত্যিই আমরা ভালোভাবে দিনানিপাত করছি।

উপজেলার হরিনগর পাজ্ঞেখানা মসজিদের ইমাম মেহেদী হাসান জানান, এলাকার মসজিদ দূরে হওয়ায় মুসল্লিদের নামাজ পড়তে সমস্যা হতো সে কারণে মোঃ শরিফুল ইসলাম খোকন সানার সহযোগিতায় ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন। ফলে এলাকার মুসল্লিদের দূরের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া লাগছে না। মসজিদটি পেয়ে সত্যিই আমরা আনন্দিত।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত পাইকগাছা- কয়রা এলাকায় ৯৩টি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় সুপেয় পানির সংকট সমাধানে প্রায় ১শ’টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। প্রায় ১ হাজার পরিবারকে চাল-ডাল-তেলসহ ২৪ প্রকারের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নারীদের আত্ম কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ।ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ৪টি নতুন পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ ও মসজিদে আযান দেওয়ার জন্য ৫টি মাইকসেট প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ৪ হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, মৃতদেহ বহনের জন্য ৪টি খাটিয়া নির্মাণ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ ও ৬০ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবক মো. শরিফুল ইসলাম খোকন সানা বলেন, ‘‘এলাকার মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন আমরা পাশে থাকি। এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘আমাদের এই উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে Let’s Work for Bangladesh। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই মানুষের প্রকৃত ধর্ম। আমরা চাই, সমাজের অন্যরাও এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসুক।’’

মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ‘ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন’ এর এমন মহতী উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছেন ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা।