০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন জলাবদ্ধতা নিরাসনে সরজমিনে পরিদর্শন করেন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ৩১ Time View
blank
blank

 

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা

ডুমুরিয়ায় উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষকের কাঁচা ফসল ও শত শত মাছের ঘেরের।

বুধবার ‌৯জুন সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাকা ও কাঁচা রাস্তায় হাঁটুপানি জমে আছে। অনেক দোকানপাট, বাজার ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার   সকাল ৯টা থেকে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে  বলেন, ‘আরও দুই দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

টানা বৃষ্টির কারণে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া , ডুমুরিয়া, গুটুদিয়া সাহস,সহ ১৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমন ধানের বিজতলা, সবজি খেত, মাছের ঘের, পুকুর, কাঁচা রাস্তা ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা নতুন রাস্তা বাজারের  শেখ মুনছুর আলী  বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আমন ধানের বিজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ধান রোপণের জন্য প্রস্তুত রাখা জমিও এখন থমথমে পানির নিচে। সবজির খেতেও হাঁটুপানি জমে আছে।

উখড়া গ্রামের মাছচাষি  এলাহী  শেখ বলেন, ‘ছোট ছোট মাছের ঘেরের ভেড়ি (বাঁধ) ভেঙে মাছ বেরিয়ে গেছে। বড় বড় ঘেরের অবস্থাও টলমল। যে কোনো সময় ভেড়ি ভেঙে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এবারও অতিবৃষ্টির কারণে ডুমুরিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি নানা প্রকল্পে কালভার্টগুলো সচল রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কালভার্ট বন্ধ থাকে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি কমিটি  পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। খর্নিয়া নদী খনন, খাস খালগুলো উন্মুক্ত রাখা এবং ড্রেনেজ-ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এ বছরও উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে আমন ধানের বিজতলা তলিয়ে গেছে এবং কাঁচা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আল আমিন বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা সরজমিনে পরিদর্শন করেন ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন জলাবদ্ধতা নিরাসনে সরজমিনে পরিদর্শন করেন

Update Time : ০৪:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
blank
blank

 

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা

ডুমুরিয়ায় উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষকের কাঁচা ফসল ও শত শত মাছের ঘেরের।

বুধবার ‌৯জুন সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাকা ও কাঁচা রাস্তায় হাঁটুপানি জমে আছে। অনেক দোকানপাট, বাজার ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার   সকাল ৯টা থেকে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে  বলেন, ‘আরও দুই দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

টানা বৃষ্টির কারণে ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া , ডুমুরিয়া, গুটুদিয়া সাহস,সহ ১৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমন ধানের বিজতলা, সবজি খেত, মাছের ঘের, পুকুর, কাঁচা রাস্তা ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খর্নিয়া ইউনিয়নের টিপনা নতুন রাস্তা বাজারের  শেখ মুনছুর আলী  বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আমন ধানের বিজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ধান রোপণের জন্য প্রস্তুত রাখা জমিও এখন থমথমে পানির নিচে। সবজির খেতেও হাঁটুপানি জমে আছে।

উখড়া গ্রামের মাছচাষি  এলাহী  শেখ বলেন, ‘ছোট ছোট মাছের ঘেরের ভেড়ি (বাঁধ) ভেঙে মাছ বেরিয়ে গেছে। বড় বড় ঘেরের অবস্থাও টলমল। যে কোনো সময় ভেড়ি ভেঙে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এবারও অতিবৃষ্টির কারণে ডুমুরিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি নানা প্রকল্পে কালভার্টগুলো সচল রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কালভার্ট বন্ধ থাকে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি কমিটি  পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। খর্নিয়া নদী খনন, খাস খালগুলো উন্মুক্ত রাখা এবং ড্রেনেজ-ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এ বছরও উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে আমন ধানের বিজতলা তলিয়ে গেছে এবং কাঁচা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আল আমিন বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা সরজমিনে পরিদর্শন করেন ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।