০৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় পরিশ্রম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার চিংড়ি চাষে সাবলম্বী তরুণ উদ্যোক্তা গোলাম কিবরিয়া রিপন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • ২৯ Time View
blank
blank

 

মোঃ ফসিয়ার রহমান,পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছায় উপকূলীয় অঞ্চলের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্পে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে হাজার হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানে সফল ব্যবসায়ী রয়্যাল ফিস ট্রেডিং ও রয়্যাল ফিস ক্যালচারের স্বত্তাধিকারী গোলাম কিবরিয়া রিপন। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত রিপন চাকুরির পিছনে না ছুটে চিংড়ি ঘের ও বাগদার পোনা উৎপাদন শিল্পে জড়িত হয়ে নিজে সফল ও স্বাবলম্বীর পাশাপাশি শতশত বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছেন।পেয়েছেন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের একাধিক শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষির মর্যাদা ও সম্মাননা পুরস্কার।

খুলনার জেলার বয়রা রায়ের মহলের বাসিন্দা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী  প্রয়াত নজির আহমেদ এর ছেলে গোলাম কিবরিয়া রিপন বিগত ২০০১ সালে পাইকগাছায় বাগদা চিংড়ি পোনা ব্যবসা ও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে দেড়’শ বিঘার ইজারাকৃত জমিতে লবন পানির চিংড়ি চাষ শুরু করেন। এখন তার সুন্দবন সংলগ্ন দু’উপজেলা পাইকগাছা-কয়রায় চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ৬টি। যার জমির পরিমান ১৮শ’ বিঘা। সরেজমিনে জানা যায়,এসব ঘেরের অধিকাংশ জমি ইজারাকৃত। তিনি উন্নত সনাতন পদ্ধতি’র চিংড়ি চাষ ও পোনা উৎপাদন ও ব্যবসা করে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেন। ৫০ কোটির অধিক বাগদার  হ্যাচারি পোনা উৎপাদন করেন। ঘের ও পোনা ব্যবসায়ীয় এবং তার দু’টি প্রতিষ্ঠানে ৭৫জন স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং প্রায় ২শ অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে উপজেলার বেকারত্বের দুরীকরনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।পরিবেশ প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় চিংড়ি ঘের ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি এখন খুলনা বিভাগীয় পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও পাইকগাছা উপজেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া তিনি ধর্মীয়,ক্রীড়া,সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে যথেষ্ট ভূমিকা রেখে চলেছেন। ইতোমধ্যে  তিনি স্বীকৃতি স্বরুপ খুলনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর-পর একাধিক শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষি হিসেবে পুরষ্কৃত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে পুরষ্কার স্বরুপ সম্মাননা ক্রেস্ট অর্জন করেছেন।  গোলাম কিবরিয়া রিপনের উদ্যোগ ও সাফল্য দেশের চিংড়ি শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তার কঠোর পরিশ্রম, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও সাহসিকতা তাকে আজ দেশের অন্যতম সফল চিংড়ি চাষীতে পরিণত হয়েছে।

 

রয়্যাল ফিস ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার বেলাল আহমেদ বলেন,আমি দীর্ঘ ২২বছর  এ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছি।প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা ঘেরে প্রতি বছর পর্যাপ্ত পরিমান বাগদা চিংড়ী উৎপাদন হয়ে আসছে।আমাদের সাহেবের এ বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা থাকায় তার দিক নির্দেশনায় কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছে।মাছ ধরার সময় কাজ করতে যেয়ে আমাদের হিমসিম খেতে হয়। এবং রয়্যাল ফিস ট্রেডিংয়ে চাকরি করে আমিসহ সকল কর্মচারীরা ভালো ভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো আছি।

ঘেরে শেওলা বাচাইয়ের সময় নারী দিন মজুর যমুনা মন্ডল বলেন, আমরা ২০-২৫ জন মহিলারা রিপন সাহের চিংড়ী ঘের শেওলা বাচা,বাঁধ মেরামত,চিংড়ী বাচাই কাজ করে সংসার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করাই।তাছাড়া তার কাছ থেকে অন্যভাবে সাহায্য সহযোগিতা পেয়েও থাকি।

এ বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া রিপন কাছে তার সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাকরির প্রতি কখনোই আগ্রহ ছিল না। চাকরি দিবো এমনি মানসিকতা এবং বাবার অনুপ্রেরণায় ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন এবং বাগদার পোনা ব্যবসা দিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন।চিংড়ি ঘের ও পোনা ব্যবসায় যুক্ত হয়ে আমাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তিনি ‘রয়‍্যাল ফিস ট্রেডিং’ ও ‘রয়‍্যাল কালচার’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কক্সবাজার ও চালনা থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাগদার পোনা কিনে পাইকগাছায় সরবরাহ করেন। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় তার প্রায় ২হাজার বিঘার ৬টি চিংড়ি ঘের আছে। যেখান থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লাভ করেন। ২০২৪ সালে তার চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকার। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৭৫জন কর্মচারী স্থায়ীভাবে কাজ করছেন। চিংড়ি মৌসুমে অস্থায়ী আরো প্রায় ২শত মানুষের কর্মসংস্থান হয় তার দূ’টি প্রতিষ্ঠানে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন,উপজেলায় এখন ২০ হাজার হেক্টর জমিতে লবন পানির চিংড়ি চাষ হয়।চিংড়ি ঘের মালিকদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া রিপন একজন সফল চিংড়ি চাষী।তাছাড়া গোলাম কিবরিয়া রিপনের সনাতন পদ্ধতির চিংড়ি চাষে সাফল্য দেখে উপজেলার বেকার যুবকেরা চিংড়ি চাষে শুরু করেছেন।তিনি ব্যবসায়ী রিপনকে অনুসরণ করে উন্নত সনাতন পদ্ধতির চিংড়ি চাষে সফল হতে অন্যান্য চিংড়ি চাষীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

পাইকগাছায় পরিশ্রম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার চিংড়ি চাষে সাবলম্বী তরুণ উদ্যোক্তা গোলাম কিবরিয়া রিপন

Update Time : ১২:৩১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
blank
blank

 

মোঃ ফসিয়ার রহমান,পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছায় উপকূলীয় অঞ্চলের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্পে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে হাজার হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানে সফল ব্যবসায়ী রয়্যাল ফিস ট্রেডিং ও রয়্যাল ফিস ক্যালচারের স্বত্তাধিকারী গোলাম কিবরিয়া রিপন। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত রিপন চাকুরির পিছনে না ছুটে চিংড়ি ঘের ও বাগদার পোনা উৎপাদন শিল্পে জড়িত হয়ে নিজে সফল ও স্বাবলম্বীর পাশাপাশি শতশত বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছেন।পেয়েছেন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের একাধিক শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষির মর্যাদা ও সম্মাননা পুরস্কার।

খুলনার জেলার বয়রা রায়ের মহলের বাসিন্দা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী  প্রয়াত নজির আহমেদ এর ছেলে গোলাম কিবরিয়া রিপন বিগত ২০০১ সালে পাইকগাছায় বাগদা চিংড়ি পোনা ব্যবসা ও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে দেড়’শ বিঘার ইজারাকৃত জমিতে লবন পানির চিংড়ি চাষ শুরু করেন। এখন তার সুন্দবন সংলগ্ন দু’উপজেলা পাইকগাছা-কয়রায় চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ৬টি। যার জমির পরিমান ১৮শ’ বিঘা। সরেজমিনে জানা যায়,এসব ঘেরের অধিকাংশ জমি ইজারাকৃত। তিনি উন্নত সনাতন পদ্ধতি’র চিংড়ি চাষ ও পোনা উৎপাদন ও ব্যবসা করে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেন। ৫০ কোটির অধিক বাগদার  হ্যাচারি পোনা উৎপাদন করেন। ঘের ও পোনা ব্যবসায়ীয় এবং তার দু’টি প্রতিষ্ঠানে ৭৫জন স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং প্রায় ২শ অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে উপজেলার বেকারত্বের দুরীকরনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।পরিবেশ প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় চিংড়ি ঘের ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি এখন খুলনা বিভাগীয় পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও পাইকগাছা উপজেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া তিনি ধর্মীয়,ক্রীড়া,সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে যথেষ্ট ভূমিকা রেখে চলেছেন। ইতোমধ্যে  তিনি স্বীকৃতি স্বরুপ খুলনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর-পর একাধিক শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষি হিসেবে পুরষ্কৃত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে পুরষ্কার স্বরুপ সম্মাননা ক্রেস্ট অর্জন করেছেন।  গোলাম কিবরিয়া রিপনের উদ্যোগ ও সাফল্য দেশের চিংড়ি শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তার কঠোর পরিশ্রম, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও সাহসিকতা তাকে আজ দেশের অন্যতম সফল চিংড়ি চাষীতে পরিণত হয়েছে।

 

রয়্যাল ফিস ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার বেলাল আহমেদ বলেন,আমি দীর্ঘ ২২বছর  এ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছি।প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা ঘেরে প্রতি বছর পর্যাপ্ত পরিমান বাগদা চিংড়ী উৎপাদন হয়ে আসছে।আমাদের সাহেবের এ বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা থাকায় তার দিক নির্দেশনায় কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছে।মাছ ধরার সময় কাজ করতে যেয়ে আমাদের হিমসিম খেতে হয়। এবং রয়্যাল ফিস ট্রেডিংয়ে চাকরি করে আমিসহ সকল কর্মচারীরা ভালো ভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো আছি।

ঘেরে শেওলা বাচাইয়ের সময় নারী দিন মজুর যমুনা মন্ডল বলেন, আমরা ২০-২৫ জন মহিলারা রিপন সাহের চিংড়ী ঘের শেওলা বাচা,বাঁধ মেরামত,চিংড়ী বাচাই কাজ করে সংসার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করাই।তাছাড়া তার কাছ থেকে অন্যভাবে সাহায্য সহযোগিতা পেয়েও থাকি।

এ বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া রিপন কাছে তার সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাকরির প্রতি কখনোই আগ্রহ ছিল না। চাকরি দিবো এমনি মানসিকতা এবং বাবার অনুপ্রেরণায় ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন এবং বাগদার পোনা ব্যবসা দিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন।চিংড়ি ঘের ও পোনা ব্যবসায় যুক্ত হয়ে আমাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তিনি ‘রয়‍্যাল ফিস ট্রেডিং’ ও ‘রয়‍্যাল কালচার’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কক্সবাজার ও চালনা থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাগদার পোনা কিনে পাইকগাছায় সরবরাহ করেন। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় তার প্রায় ২হাজার বিঘার ৬টি চিংড়ি ঘের আছে। যেখান থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লাভ করেন। ২০২৪ সালে তার চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকার। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৭৫জন কর্মচারী স্থায়ীভাবে কাজ করছেন। চিংড়ি মৌসুমে অস্থায়ী আরো প্রায় ২শত মানুষের কর্মসংস্থান হয় তার দূ’টি প্রতিষ্ঠানে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন,উপজেলায় এখন ২০ হাজার হেক্টর জমিতে লবন পানির চিংড়ি চাষ হয়।চিংড়ি ঘের মালিকদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া রিপন একজন সফল চিংড়ি চাষী।তাছাড়া গোলাম কিবরিয়া রিপনের সনাতন পদ্ধতির চিংড়ি চাষে সাফল্য দেখে উপজেলার বেকার যুবকেরা চিংড়ি চাষে শুরু করেছেন।তিনি ব্যবসায়ী রিপনকে অনুসরণ করে উন্নত সনাতন পদ্ধতির চিংড়ি চাষে সফল হতে অন্যান্য চিংড়ি চাষীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।