০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনিরামপুরে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ চলছে সরকারের-উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৬ Time View
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরের দুঃখ হিসেবে পরিচিত ভবদহের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করলেন তিন উপদেষ্টা (২২ এপ্রিল) মঙ্গলবার দুপুরে ভবদহ স্লুইসগেট ২১ ভেন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, পরিবেশ বন ও জলবালয়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান,তিন উপদেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে ভবদহ কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, গতবারের মত এবার বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা না হয় সেই জন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ এলাকার নদী খনন কাজ শুরু হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে যেসব সেচ পাম্প কাজ করছে, সেগুলোর বিদ্যুৎ বিল ইতোমধ্যে ৪৬ শতাংশ কমিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ,এ এলাকার জন্য কৃষি ব্যাংকের ঋণের সুদ মওকুফের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান যাতে হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “২০০৫ সালে ভবদহ সমস্যার সমাধান করা সহজ ছিল।

বর্তমান সরকার এ সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি শুরু হয়েছে,পক্ষ-বিপক্ষ সবার কাছ থেকে এ ব্যাপারে মতামত নেওয়া হবে।

এরপর বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে”
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া সরকারি কলেজ মাঠে হেলিকপ্টারে নামেন এই তিন উপদেষ্টা,পরে ধান ক্ষেত পরিদর্শন করেন তারা।

যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল পলি পড়ে এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্যতা হারিয়েছে।

ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী দিয়ে পানি নামতে পারে না,বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ক্ষেতের ফসল ঘেরের মাছ সবই কেড়ে নেয় পানি,জলাবদ্ধতায় মগ্ন থাকে শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি এবং মাছের ঘের,এই অঞ্চলের ৪ লক্ষাধিক মানুষের ঠাঁই হয় মহাসড়কের ধারে বা স্কুল কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে।

অথচ বিগত চার দশকে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারগুলোর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা বেশিরভাগ লুটপাট করেছে,তাই বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি না পোহাতে মানুষেরা দীর্ঘদিন স্থায়ী সমাধানে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু ও আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

মনিরামপুরে ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ চলছে সরকারের-উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

Update Time : ১২:৪৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

যশোরের দুঃখ হিসেবে পরিচিত ভবদহের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করলেন তিন উপদেষ্টা (২২ এপ্রিল) মঙ্গলবার দুপুরে ভবদহ স্লুইসগেট ২১ ভেন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, পরিবেশ বন ও জলবালয়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান,তিন উপদেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে ভবদহ কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, গতবারের মত এবার বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা না হয় সেই জন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ এলাকার নদী খনন কাজ শুরু হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে যেসব সেচ পাম্প কাজ করছে, সেগুলোর বিদ্যুৎ বিল ইতোমধ্যে ৪৬ শতাংশ কমিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ,এ এলাকার জন্য কৃষি ব্যাংকের ঋণের সুদ মওকুফের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান যাতে হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “২০০৫ সালে ভবদহ সমস্যার সমাধান করা সহজ ছিল।

বর্তমান সরকার এ সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি শুরু হয়েছে,পক্ষ-বিপক্ষ সবার কাছ থেকে এ ব্যাপারে মতামত নেওয়া হবে।

এরপর বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে”
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া সরকারি কলেজ মাঠে হেলিকপ্টারে নামেন এই তিন উপদেষ্টা,পরে ধান ক্ষেত পরিদর্শন করেন তারা।

যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল পলি পড়ে এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্যতা হারিয়েছে।

ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী দিয়ে পানি নামতে পারে না,বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ক্ষেতের ফসল ঘেরের মাছ সবই কেড়ে নেয় পানি,জলাবদ্ধতায় মগ্ন থাকে শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি এবং মাছের ঘের,এই অঞ্চলের ৪ লক্ষাধিক মানুষের ঠাঁই হয় মহাসড়কের ধারে বা স্কুল কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে।

অথচ বিগত চার দশকে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারগুলোর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা বেশিরভাগ লুটপাট করেছে,তাই বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি না পোহাতে মানুষেরা দীর্ঘদিন স্থায়ী সমাধানে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু ও আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।