০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে ফসলি জমি থেকে মহাউৎসবে অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৫ Time View
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে অবস্থান করছে সামাজিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো,দেশব্যাপী মফস্বল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বত্র পর্যায়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও স্থানীয় দৌরাত্বের প্রভাবে ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়।

অন্তবর্তী সরকারের চলমান সময়ে উপজেলা পর্যায়ে জবরদখল,অধিপত্য বিস্তার,হামলা-মামলা,সন্ত্রাসী কর্মকান্ড,ধর্ষন-খুনের পাশাপাশি এ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মাটি ব্যাবসায়ীদের প্রকাশ্যে আইন অমান্যর চিত্র।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাটি খেগোদের দৌরাত্বের তথ্য সংগ্রহ করেছে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের একটি অনুসন্ধানী টিম।

মণিরামপুর পৌরসভার আশপাশ থেকে শুরু করে প্রতি ইউনিয়নে গড় ৪-৫টা পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ সরকারের বলুমহাল ও মাটি ব্যাবস্থা আইন,২০১০-এর ধারা-৫ এর ১ উপধারানুযায়ী পাম্প বা ট্রেটিং বা অন্যকোন মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলনে ধারা-৪এর(খ) অনুযায়ী নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ২ বছরের কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে উল্লেখ থাকলেও ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমি কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে মাটি খেগোরা।

সঠিক তদারকি ও আইন প্রয়োগের অভাবে আরো আগ্রাসী হয়ে উঠেছে অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ বালু এবং মাটি উত্তোলন সিন্ডিকেট।

জমির মালিকদের ঘের করার পরামর্শ ও নগদ অর্থের লোভ দেখিয়ে মাটি ব্যাবসায়ীরা মাটি কেটে নষ্ট করছে পরিবেশ ও ভৌগোলিক ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু,এমনকি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে জমির মালিক মাটি বিক্রি করতে না চাইলেও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

এদের সাথে স্থানীয় ভাটা মালিকেরা আছে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে,উপজেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র পেয়ে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী করছে বেশিরভাগ মাটি ব্যবসায়ী।

উপজেলার রহিতা,খেদাপাড়া,ঝাপা,মশ্বিমনগর,চালুয়াহাটি,হরিহরনগর,শ্যামকুড়,দূ্বাডাঙ্গা,মনোহরপুর,খানপুর,নেহালপুর,কুলটিয়া,হরিদাসকাঠি,ঢাকুরিয়া,ভোজগাতী ও মণিরামপুর সদর ইউনিয়নের পাকা রাস্তা,সলিং রাস্তা,অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাটি বহন কারি ডাম্প ট্রাক,ট্রলি।

রাস্তার টেম্পার নষ্ট হচ্ছে,মাটি রাস্তায় পড়ে ধূলাবালি জনসাধারণের ক্ষতি করছে,অতিরিক্ত গাড়ীর চাপে ছোটখাটো রাস্তার পাড় ভেংগে চলাচলের অনুউপযোগী হয়ে পড়েছে,কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে,পাড়া মহল্লায় মাটির গাড়ির আনাগোনায় কোমলমতী শিশুরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছে,এমন সব অভিযোগ করেছে একাধিক ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

সরেজমিনে দেখা যায়,মণিরামপুর-রাজগঞ্জ রোডের কাঠালতলা বাজারে আগে পর পর সোহাগ ব্রিকস ও মুন ব্রিকস এবং হালসার সান ব্রিকস কর্তৃপক্ষের মাটির ট্রাক-ট্রলি থেকে পড়ে যাওয়া পাকা রাস্তার উপর মাটির প্রলেপ।

যাতায়তকারী একাধিক ব্যাক্তি ও ভাড়া বহনকারী বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভারেরা জানায়-যে কোন মুহূর্তে যদি বৃষ্টি হয় এসমস্ত স্থানে স্থানে দূর্ঘটনা ঘটবে।

শ্যামকুড়,চালুয়াহাটি,খেদাপাড়া,রহিতা,ভোজগাতী,ঢাকুরিয়া,হরিদাসকাঠি ও খানপুর ইউনিয়নে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে মাটি ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা।

কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা ক্যামেরার সামনে আসতে নারাজ,স্থানীয় প্রভাব,ভাটা কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত ও উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতির কারনে এমন আগ্রাসী হয়ে উঠেছে মাটি খেগোরা বলে সত্যতা মিলেছে।

বিগত দিনে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও মণিরামপুর সহকারি কমিশনার ভূমির নিয়মিত মনিটরিংয়ে ২০১০সালের ভূমি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলেও বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,সেচ্চাসেবী সংগঠন এমনকি গনমাধ্যকর্মীদের দেওয়া তথ্যের বিপরীতে তেমন কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

তাহলে কি মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না ও মণিরামপুর সহকারি কমিশনার ভূমি নিয়াজ মাখদূম নীরব থেকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছেন মাটি খাদকদের!উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সচেতন মহলের এমনই অভিযোগের কয়েকটি রেকর্ড লিপিবদ্ধ হয়েছে।

বর্তমানে মণিরামপুর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের চলমান ভূমি আইনের প্রতি অবহেলার ধারাবাহিকতাই উপজেলা প্রশাসন পদক্ষেপের পরিবর্তে আইনের বইয়ের পাতায় রেখে নীরব থাকে তাহলে দ্রুতই জলবায়ু ও পরিবেশ ধীরে ধীরে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ফসলী জমি থেকে মাটি কাটাতে প্রথমত উপরের স্তরের উর্বর অংশ না থাকাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ফসলী জমি কমে যেয়ে কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের কৃষিতেই বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জানান,মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

মণিরামপুরে ফসলি জমি থেকে মহাউৎসবে অবৈধ ভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ

Update Time : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
blank
blank

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, মনিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে অবস্থান করছে সামাজিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো,দেশব্যাপী মফস্বল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বত্র পর্যায়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও স্থানীয় দৌরাত্বের প্রভাবে ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়।

অন্তবর্তী সরকারের চলমান সময়ে উপজেলা পর্যায়ে জবরদখল,অধিপত্য বিস্তার,হামলা-মামলা,সন্ত্রাসী কর্মকান্ড,ধর্ষন-খুনের পাশাপাশি এ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মাটি ব্যাবসায়ীদের প্রকাশ্যে আইন অমান্যর চিত্র।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাটি খেগোদের দৌরাত্বের তথ্য সংগ্রহ করেছে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের একটি অনুসন্ধানী টিম।

মণিরামপুর পৌরসভার আশপাশ থেকে শুরু করে প্রতি ইউনিয়নে গড় ৪-৫টা পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ সরকারের বলুমহাল ও মাটি ব্যাবস্থা আইন,২০১০-এর ধারা-৫ এর ১ উপধারানুযায়ী পাম্প বা ট্রেটিং বা অন্যকোন মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলনে ধারা-৪এর(খ) অনুযায়ী নির্দেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ২ বছরের কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবে উল্লেখ থাকলেও ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমি কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে মাটি খেগোরা।

সঠিক তদারকি ও আইন প্রয়োগের অভাবে আরো আগ্রাসী হয়ে উঠেছে অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ বালু এবং মাটি উত্তোলন সিন্ডিকেট।

জমির মালিকদের ঘের করার পরামর্শ ও নগদ অর্থের লোভ দেখিয়ে মাটি ব্যাবসায়ীরা মাটি কেটে নষ্ট করছে পরিবেশ ও ভৌগোলিক ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু,এমনকি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে জমির মালিক মাটি বিক্রি করতে না চাইলেও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

এদের সাথে স্থানীয় ভাটা মালিকেরা আছে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে,উপজেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র পেয়ে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী করছে বেশিরভাগ মাটি ব্যবসায়ী।

উপজেলার রহিতা,খেদাপাড়া,ঝাপা,মশ্বিমনগর,চালুয়াহাটি,হরিহরনগর,শ্যামকুড়,দূ্বাডাঙ্গা,মনোহরপুর,খানপুর,নেহালপুর,কুলটিয়া,হরিদাসকাঠি,ঢাকুরিয়া,ভোজগাতী ও মণিরামপুর সদর ইউনিয়নের পাকা রাস্তা,সলিং রাস্তা,অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাটি বহন কারি ডাম্প ট্রাক,ট্রলি।

রাস্তার টেম্পার নষ্ট হচ্ছে,মাটি রাস্তায় পড়ে ধূলাবালি জনসাধারণের ক্ষতি করছে,অতিরিক্ত গাড়ীর চাপে ছোটখাটো রাস্তার পাড় ভেংগে চলাচলের অনুউপযোগী হয়ে পড়েছে,কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে,পাড়া মহল্লায় মাটির গাড়ির আনাগোনায় কোমলমতী শিশুরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছে,এমন সব অভিযোগ করেছে একাধিক ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

সরেজমিনে দেখা যায়,মণিরামপুর-রাজগঞ্জ রোডের কাঠালতলা বাজারে আগে পর পর সোহাগ ব্রিকস ও মুন ব্রিকস এবং হালসার সান ব্রিকস কর্তৃপক্ষের মাটির ট্রাক-ট্রলি থেকে পড়ে যাওয়া পাকা রাস্তার উপর মাটির প্রলেপ।

যাতায়তকারী একাধিক ব্যাক্তি ও ভাড়া বহনকারী বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভারেরা জানায়-যে কোন মুহূর্তে যদি বৃষ্টি হয় এসমস্ত স্থানে স্থানে দূর্ঘটনা ঘটবে।

শ্যামকুড়,চালুয়াহাটি,খেদাপাড়া,রহিতা,ভোজগাতী,ঢাকুরিয়া,হরিদাসকাঠি ও খানপুর ইউনিয়নে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে মাটি ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা।

কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা ক্যামেরার সামনে আসতে নারাজ,স্থানীয় প্রভাব,ভাটা কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত ও উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতির কারনে এমন আগ্রাসী হয়ে উঠেছে মাটি খেগোরা বলে সত্যতা মিলেছে।

বিগত দিনে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও মণিরামপুর সহকারি কমিশনার ভূমির নিয়মিত মনিটরিংয়ে ২০১০সালের ভূমি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলেও বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,সেচ্চাসেবী সংগঠন এমনকি গনমাধ্যকর্মীদের দেওয়া তথ্যের বিপরীতে তেমন কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

তাহলে কি মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না ও মণিরামপুর সহকারি কমিশনার ভূমি নিয়াজ মাখদূম নীরব থেকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছেন মাটি খাদকদের!উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সচেতন মহলের এমনই অভিযোগের কয়েকটি রেকর্ড লিপিবদ্ধ হয়েছে।

বর্তমানে মণিরামপুর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের চলমান ভূমি আইনের প্রতি অবহেলার ধারাবাহিকতাই উপজেলা প্রশাসন পদক্ষেপের পরিবর্তে আইনের বইয়ের পাতায় রেখে নীরব থাকে তাহলে দ্রুতই জলবায়ু ও পরিবেশ ধীরে ধীরে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ফসলী জমি থেকে মাটি কাটাতে প্রথমত উপরের স্তরের উর্বর অংশ না থাকাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ফসলী জমি কমে যেয়ে কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের কৃষিতেই বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জানান,মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার।