১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালার শিরাশুণীর হান্নানের মৃ-ত্যু কি আত্ম/হত্যা নাকি হ/ত্যা?

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৭ Time View
blank
blank

 

ইমরান হোসেন, তালা ::

তালার শিরাশুণীর হান্নান শেখ (৫৫) কি পরকীয়ার বলি হয়েছে? নাকি সে আত্নহত্যা করেছে? আজ রবিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি আমবাগানের গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের দাবি, পরকীয়ার বলি হিসেবে তাকে কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানাগেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শিরাশুণীর গুচ্ছগ্রামের মৃত শামছুর রহমান শেখ এর ছেলে হান্নান শেখ এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে বাড়ির পাশের জনৈক মিন্টু মিঞার আম বাগানের একটি গাছ থেকে। আগের রাতে একই গ্রামের অপর বাসিন্দা জনৈকা ফরিদা বেগমের সাথে তার বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয় জনৈক বিল্লাল জানান, আগের দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে তার বাড়ির সামনে মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী ফরিদা বেগমের সাথে হান্নান ঝগড়া করছিল। এসময় তাদের বাক-বিতন্ডায় রীতিমত অতিষ্ঠ হয়ে তিনি বাড়ি থেকে চিৎকার দিয়ে তাদের চুপ থাকতে বলে। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ফরিদা বেগমকে রক্তাক্ত আহতাবস্থায় সেখানে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে হান্নানকে তারা সেখানে দেখেননি। পরের দিন আজ সকালে স্থানীয়রা ফরিদার বাড়ির পেছনে মিন্টুর বাগানে আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফরিদা বেগম জানান, মৃত হান্নান নাকি তাকে বিভিন্ন সময় কূ-প্রস্তাব দিত। একপর্যায়ে শনিবার রাতে বাড়ির পাশের পোল্ট্রি ফার্মের মালিক সাইফুলকে তার বাড়ির বাথরুম থেকে বেরুতে দেখে তার সাথে ফরিদার খারাপ সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করে তার উপর হামলা ও মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। এরপর তিনি সেখানে সঙ্গা হারান।

যদিও মৃত হান্নানের পরিবারের অভিযোগ ফরিদার সাথে হান্নানের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তৃতীয় পক্ষ সাইফুলকে জড়িয়ে ফরিদার প্রতি হান্নানের সন্দেহ হলে বাদানুবাদ ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এর পরের দিন হান্নানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় ফরিদার বাড়ির পেছন থেকে।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদার দু’ ছেলে রয়েছে। যাদের একজন দেলোয়ার বাইরে ইটভাটায় কর্মরত। অন্যজন চুকনগর এলাকায় ডেকরেটরের কাজ করেন। মায়ের অসুস্থতার খবরে রাতে বাড়িতে ফিরে মাকে হাসপাতালে ভর্তির পর সকালে ফের চুকনগর কর্মস্থলে ফিরে যায়।

তবে হান্নানের মৃত্যুর কারণ কি? কেনই বা তিনি আতœহত্যা করলেন? পারিবারিক অভিযোগ ও এলাকায় গুঞ্জণ- আসলে হান্নান কি আতœহত্যা করেছে? নাকি তাকে কেউ হত্যা করেছে? তাদের ধারণা প্রেমজ সম্পর্কে নতুন করে কোন তৃতীয় পক্ষের নাম চলে আসতে পারে এমন আশংকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখে আতœহত্যা বলে প্রচার দেওয়া হচ্ছে। আর আতœহত্যা করলে তার পেছনে কারণটাই বা কি? দীর্ঘ দিন কারো সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সে অন্য কারোর সাথে সম্পর্ক জড়ানোটাকে ভালভাবে নিতে না পারার দু:খ, কষ্ট ও অভিমানে তিনি আতœহত্যা করেছেন?

যদিও আহত ফরিদার দাবি, মৃত হান্নান তাকে প্রায়শই কূ-প্রস্তাব দিত দাতে রাজী না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অন্যের সাথে তার পরকীয়ার কূৎসা রটায় ও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তবে কি ফরিদা কোন কথা লুকিয়ে যাচ্ছেন? নাকি তার মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কারণ? এমন নানা প্রশ্ন বারবার ঘুর-পাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।

সর্বশেষ মৃত হান্নানের বড় ভাই আব্দুল মান্নান রয়েছেন হান্নানের লাশের সাথে সাতক্ষীরায়। তিনি বলছেন, ফিরে তিনি ভাই হত্যায় থানায় মামলা করবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

তালার শিরাশুণীর হান্নানের মৃ-ত্যু কি আত্ম/হত্যা নাকি হ/ত্যা?

Update Time : ১২:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
blank
blank

 

ইমরান হোসেন, তালা ::

তালার শিরাশুণীর হান্নান শেখ (৫৫) কি পরকীয়ার বলি হয়েছে? নাকি সে আত্নহত্যা করেছে? আজ রবিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি আমবাগানের গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের দাবি, পরকীয়ার বলি হিসেবে তাকে কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানাগেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শিরাশুণীর গুচ্ছগ্রামের মৃত শামছুর রহমান শেখ এর ছেলে হান্নান শেখ এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে বাড়ির পাশের জনৈক মিন্টু মিঞার আম বাগানের একটি গাছ থেকে। আগের রাতে একই গ্রামের অপর বাসিন্দা জনৈকা ফরিদা বেগমের সাথে তার বাক-বিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়।

স্থানীয় জনৈক বিল্লাল জানান, আগের দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে তার বাড়ির সামনে মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী ফরিদা বেগমের সাথে হান্নান ঝগড়া করছিল। এসময় তাদের বাক-বিতন্ডায় রীতিমত অতিষ্ঠ হয়ে তিনি বাড়ি থেকে চিৎকার দিয়ে তাদের চুপ থাকতে বলে। এর কিছুক্ষণ পর বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ফরিদা বেগমকে রক্তাক্ত আহতাবস্থায় সেখানে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে হান্নানকে তারা সেখানে দেখেননি। পরের দিন আজ সকালে স্থানীয়রা ফরিদার বাড়ির পেছনে মিন্টুর বাগানে আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফরিদা বেগম জানান, মৃত হান্নান নাকি তাকে বিভিন্ন সময় কূ-প্রস্তাব দিত। একপর্যায়ে শনিবার রাতে বাড়ির পাশের পোল্ট্রি ফার্মের মালিক সাইফুলকে তার বাড়ির বাথরুম থেকে বেরুতে দেখে তার সাথে ফরিদার খারাপ সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করে তার উপর হামলা ও মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। এরপর তিনি সেখানে সঙ্গা হারান।

যদিও মৃত হান্নানের পরিবারের অভিযোগ ফরিদার সাথে হান্নানের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন তৃতীয় পক্ষ সাইফুলকে জড়িয়ে ফরিদার প্রতি হান্নানের সন্দেহ হলে বাদানুবাদ ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এর পরের দিন হান্নানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয় ফরিদার বাড়ির পেছন থেকে।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদার দু’ ছেলে রয়েছে। যাদের একজন দেলোয়ার বাইরে ইটভাটায় কর্মরত। অন্যজন চুকনগর এলাকায় ডেকরেটরের কাজ করেন। মায়ের অসুস্থতার খবরে রাতে বাড়িতে ফিরে মাকে হাসপাতালে ভর্তির পর সকালে ফের চুকনগর কর্মস্থলে ফিরে যায়।

তবে হান্নানের মৃত্যুর কারণ কি? কেনই বা তিনি আতœহত্যা করলেন? পারিবারিক অভিযোগ ও এলাকায় গুঞ্জণ- আসলে হান্নান কি আতœহত্যা করেছে? নাকি তাকে কেউ হত্যা করেছে? তাদের ধারণা প্রেমজ সম্পর্কে নতুন করে কোন তৃতীয় পক্ষের নাম চলে আসতে পারে এমন আশংকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখে আতœহত্যা বলে প্রচার দেওয়া হচ্ছে। আর আতœহত্যা করলে তার পেছনে কারণটাই বা কি? দীর্ঘ দিন কারো সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সে অন্য কারোর সাথে সম্পর্ক জড়ানোটাকে ভালভাবে নিতে না পারার দু:খ, কষ্ট ও অভিমানে তিনি আতœহত্যা করেছেন?

যদিও আহত ফরিদার দাবি, মৃত হান্নান তাকে প্রায়শই কূ-প্রস্তাব দিত দাতে রাজী না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অন্যের সাথে তার পরকীয়ার কূৎসা রটায় ও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তবে কি ফরিদা কোন কথা লুকিয়ে যাচ্ছেন? নাকি তার মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কারণ? এমন নানা প্রশ্ন বারবার ঘুর-পাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে।

সর্বশেষ মৃত হান্নানের বড় ভাই আব্দুল মান্নান রয়েছেন হান্নানের লাশের সাথে সাতক্ষীরায়। তিনি বলছেন, ফিরে তিনি ভাই হত্যায় থানায় মামলা করবেন।