০৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় মাদকের রমরমা ব্যবসা পুলিশ অভিযান দিলেই হতে হয় হয়রানির শিকার

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৩৭ Time View
blank
blank

বাগমারায় মাদকের রমরমা ব্যবসা পুলিশ অভিযান দিলেই হতে হয় হয়রানির শিকার।

বাগমারা(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় একাধিক স্পর্টে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিনব কায়দায় কৌশল পরিবর্তন করে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা বানিজ্য। এই মাদক ব্যবসায়ীদের স্পট গুলোতে পুলিশ হামলা দিলে হয়তো হয় বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক ধরার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে স্থানীয় প্রশাসন। তাই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাপোর্ট দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি ভাবে মাদক নির্মূল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া অতি জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। রাজশাহীর বাগমারার মধ্যে মাদক বিক্রির অন্যতম স্পর্ট গুলো হলেও  উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গপাড়া, তেলিপুকুর গাঙ্গপাড়া, সাঁকোয়া শিদকারি, ভবানিগঞ্জ দেউলিয়া, মোহনগঞ্জ এলাকায় চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

শীর্ষ মাদক স্পর্ট হিসাবে পরিচিত সাঁকোয়া শিকদারি বাজারের তেল পাম্পের পিছনে ও গাঙ্গপাড়া বাজার এলাকা। উপজেলার শিকদারি বাজারে তেল পাম্পের পিছনে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিকদারি তেল পাম্পের পিছনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আত্রাই, নলডাঙ্গা উপজেলা থেকে শতাধিক মটরসাইকেল নিয়ে মাদক সেবন করতে আসছে একাধিক যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। শিকদারি সাঁকোয়া গ্রামের মৃত আসেক আলীর ছেলে শীর্ষ মাদক সম্রাট মাহাবুর ও তার স্ত্রী মোছা আছিয়া বিবি এসব মাদক বিক্রি করছে।

মাহাবুরকে বেশ কিছুদিন আগে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তার স্ত্রীকে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করেছিলো জেলা ডিবি পুলিশ। কিছু দিন জেল হাজতে থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের ব্যপরোয়া হয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা করছে এই দম্পত্তি। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে ম্যনেজ করে তারা মাদক কারবারি করছে দীর্ঘদিন যাবত। তাদের মাদক কারবারের  বিরুদ্ধে কে প্রতিবাদ করলে হুমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায় তারা। এ কারনে কেউ তাদের মাদক কারবারের প্রতিবাদ করতে সাহস পাইনা।

অপরদিকে বাগমারা উপজেলার তেলিপুকুর,আউচপাড়া ইউনিয়ন  গাঙ্গপাড়া বাজার, ও একই ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ১ মাইলের মধ্যে কানাইশহর সোনারপাড়া মোড়ে চলছে প্রকাশ্যে ফেনসিডিল বিক্রি। দিন রাত ২৪ ঘন্টা চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা। প্রকাশ্যে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত তেলিপুকুর গাঙ্গপাড়া মোড়ে শতাধিক মাদক সেবীরা ওই স্পর্টে গিয়ে মাদক সেবন করছে। সে খানে ইয়াবা ১ পিচ ৩০০ টাকা, ফেনসিডিল ১ পিচ ২৪০০ টাকা, হেরোইন তো অনেক দাম, গাঁজা ১৫০ টাকা পুরিয়া  বিক্রি করা হয়।

এছাড়াও হাটগাঙ্গপাড়া কাঁনাইশহর এলাকার সাহেব আলীর দুই ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আতাবুল ও তার ছোট ভাই আসাদুল। সে ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসাবে চিন্হিত। দীর্ঘদিন যাবত আতাবুল ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।

স্থানিয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যনেজ না করে এভাবে প্রকাশ্যে মাদক কারবার করা সম্ভব না। দ্রুত এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যুবসমাজ ধংস হয়ে যাবে। এভাবে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ফলে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ উপজেলায় মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কিছু মাদক বিরোধী অভিযানে থানা পুলিশ ও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ কিছু মাদক কারবারিদের মাদকসহ গ্রেপ্তার করলেও মাদকের গটফাদাররা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

বাগমারা থানার অফিসার তৌহিদুল ইসলাম বলেন,  থানা এলাকায় কোন মাদক ব্যবসা থাকবে না। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। যারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুত সকল মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিষয় রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রফিকুল আলম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত রয়েছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন থানা, তদন্ত কেন্দ্র ও জেলা ডিবি পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদকসহ মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মাদক মামলা হচ্ছে। রাজশাহী জেলায় তালিকা ভূক্ত মাদক কারবারিদের পুলিশ নজর দারিতে রেখেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

বাগমারায় মাদকের রমরমা ব্যবসা পুলিশ অভিযান দিলেই হতে হয় হয়রানির শিকার

Update Time : ১১:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
blank
blank

বাগমারায় মাদকের রমরমা ব্যবসা পুলিশ অভিযান দিলেই হতে হয় হয়রানির শিকার।

বাগমারা(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় একাধিক স্পর্টে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিনব কায়দায় কৌশল পরিবর্তন করে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা বানিজ্য। এই মাদক ব্যবসায়ীদের স্পট গুলোতে পুলিশ হামলা দিলে হয়তো হয় বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক ধরার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে স্থানীয় প্রশাসন। তাই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাপোর্ট দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি ভাবে মাদক নির্মূল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া অতি জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। রাজশাহীর বাগমারার মধ্যে মাদক বিক্রির অন্যতম স্পর্ট গুলো হলেও  উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের হাটগাঙ্গপাড়া, তেলিপুকুর গাঙ্গপাড়া, সাঁকোয়া শিদকারি, ভবানিগঞ্জ দেউলিয়া, মোহনগঞ্জ এলাকায় চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

শীর্ষ মাদক স্পর্ট হিসাবে পরিচিত সাঁকোয়া শিকদারি বাজারের তেল পাম্পের পিছনে ও গাঙ্গপাড়া বাজার এলাকা। উপজেলার শিকদারি বাজারে তেল পাম্পের পিছনে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিকদারি তেল পাম্পের পিছনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আত্রাই, নলডাঙ্গা উপজেলা থেকে শতাধিক মটরসাইকেল নিয়ে মাদক সেবন করতে আসছে একাধিক যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। শিকদারি সাঁকোয়া গ্রামের মৃত আসেক আলীর ছেলে শীর্ষ মাদক সম্রাট মাহাবুর ও তার স্ত্রী মোছা আছিয়া বিবি এসব মাদক বিক্রি করছে।

মাহাবুরকে বেশ কিছুদিন আগে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তার স্ত্রীকে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করেছিলো জেলা ডিবি পুলিশ। কিছু দিন জেল হাজতে থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের ব্যপরোয়া হয়ে মাদকের রমরমা ব্যবসা করছে এই দম্পত্তি। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনকে ম্যনেজ করে তারা মাদক কারবারি করছে দীর্ঘদিন যাবত। তাদের মাদক কারবারের  বিরুদ্ধে কে প্রতিবাদ করলে হুমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায় তারা। এ কারনে কেউ তাদের মাদক কারবারের প্রতিবাদ করতে সাহস পাইনা।

অপরদিকে বাগমারা উপজেলার তেলিপুকুর,আউচপাড়া ইউনিয়ন  গাঙ্গপাড়া বাজার, ও একই ইউনিয়নের হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ১ মাইলের মধ্যে কানাইশহর সোনারপাড়া মোড়ে চলছে প্রকাশ্যে ফেনসিডিল বিক্রি। দিন রাত ২৪ ঘন্টা চলে মাদকের রমরমা ব্যবসা। প্রকাশ্যে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত তেলিপুকুর গাঙ্গপাড়া মোড়ে শতাধিক মাদক সেবীরা ওই স্পর্টে গিয়ে মাদক সেবন করছে। সে খানে ইয়াবা ১ পিচ ৩০০ টাকা, ফেনসিডিল ১ পিচ ২৪০০ টাকা, হেরোইন তো অনেক দাম, গাঁজা ১৫০ টাকা পুরিয়া  বিক্রি করা হয়।

এছাড়াও হাটগাঙ্গপাড়া কাঁনাইশহর এলাকার সাহেব আলীর দুই ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আতাবুল ও তার ছোট ভাই আসাদুল। সে ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসাবে চিন্হিত। দীর্ঘদিন যাবত আতাবুল ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।

স্থানিয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যনেজ না করে এভাবে প্রকাশ্যে মাদক কারবার করা সম্ভব না। দ্রুত এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যুবসমাজ ধংস হয়ে যাবে। এভাবে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ফলে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ উপজেলায় মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক কিছু মাদক বিরোধী অভিযানে থানা পুলিশ ও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ কিছু মাদক কারবারিদের মাদকসহ গ্রেপ্তার করলেও মাদকের গটফাদাররা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

বাগমারা থানার অফিসার তৌহিদুল ইসলাম বলেন,  থানা এলাকায় কোন মাদক ব্যবসা থাকবে না। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। যারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুত সকল মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিষয় রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রফিকুল আলম বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত রয়েছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন থানা, তদন্ত কেন্দ্র ও জেলা ডিবি পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদকসহ মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মাদক মামলা হচ্ছে। রাজশাহী জেলায় তালিকা ভূক্ত মাদক কারবারিদের পুলিশ নজর দারিতে রেখেছে।