১২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেশাগ্রস্থ ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মা জমিলা বেগমসহ অন্য সন্তানরা

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • ৮৯ Time View
blank
blank

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে এক নেশাগ্রস্থ ছেলের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মা জমিলা বেগমসহ অন্য সন্তানেরা। ভুক্তভোগী জমিলা বেগম নগরীর খালিশপুর থানাধীন এন/ই-৪৮ নতুন কলোনী হাউজিং এলাকার মৃতঃ তৈয়ব আলী’র স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ করা হলেও প্রতিকার পাইনি ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পরে তিন ছেলে মোঃ রহমত আলী (হিরা), মোঃ রাহাত আলী (জসীম), মোঃ রহমান আলী (জীবন) ও এক মেয়ে মোসাঃ রাবেয়া খাতুন (লাকি) একত্রে বসবাস করে আসছিলাম। কিন্তু আমার মেজ ছেলে মোঃ রাহাত আলী (জসীম) নেশাগ্রস্থ হয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পরিবারের উপর অত্যাচার করতে থাকলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ গত ইং ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০ তারিখ শালিশের মাধ্যমে জসীমের ওয়ারেশ হিসাবে প্রাপ্ত অংশের মূল্য নির্ধারন করে নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে তার সকল টাকা পরিশোধ করা হয়। একই সাথে ওয়ারেশ স্বত্ত্ব স্বার্থ ত্যাগের ঘোষনা পত্র সম্পন্ন করে অন্যত্র চলে যায়। এরপরও তার অত্যাচার না থামায় তার সাথে আমি সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে ০২/০৩/২০১০ইং তারিখ দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় লিগ্যাল নোটিশ প্রকাশ করি। অথচ সে গত ১১-১০-২৪ইং তারিখে আমাদের বাসায় উপস্থিত হয় তার কিছু সহযোগী সহ সে বাড়িতে থাকতে চায় এবং পুন:রায় বাড়ির ভাগ চায়। আমার সন্তানদের বিভিন্ন ধরনের জীবননাসের হুমকি দেয়। এলাকাবাসির সহযোগিতায় সেদিন আমরা বেচে যাই। এরপর গত সোমবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৪ ঘটিকায় পুনরায় তার কিছু সহযোগিসহ বাড়িতে হামলা করে এবং বাড়ি ঘর জ্বালাও পোড়ানোর হুমকি দেয় এবং আমার সন্তানদের জীবননাসের হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে আরও বলেন, বর্তমানে আমিসহ আমার সন্তানেরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জমিলা বেগমের বড় ছেলে লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা) বলেন, আমার পিতার মৃত্যুর পর ভাই-বোনকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলাম। কখনো তাদেরকে পিতার অনুপস্থিতি বুঝতে দেইনি কিন্তু আমার মেজ ভাই মোঃ রাহাত আলী (জসীম) নেশাগ্রস্থ হয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পরিবারের উপর অত্যাচার করতে থাকলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ শালিশের মাধ্যমে ওয়ারেশ হিসাবে প্রাপ্ত অংশের মূল্য নির্ধারন করে নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে তার সকল টাকা পরিশোধ করা হয়। প্রমাণাদি আমাদের কাছে রয়েছে।

লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা) আরও বলেন, সরকার পতনের পর মোঃ রাহাত আলী (জসীম) আবারও সম্পত্তির ভাগ চায় না দিলে আমাকেসহ আমার পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। গত সোমবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৪ ঘটিকায় পুন:রায় তার কিছু সহযোগিসহ বাড়িতে হামলা করে এবং বাড়ি ঘর জ্বালাও পোড়ানোর হুমকি দেয় এবং আমার জীবননাসের হুমকি দেয়। আমি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন এই নেশাগ্রস্থ মোঃ রাহাত আলী (জসীম) ও সহযোগিদের হাত থেকে রক্ষা পাই।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগমের মেয়ে মোসাঃ রাবেয়া খাতুন (লাকি) বলেন, আমার পিতা মারা যাওয়ার পর আমার বড় ভাই লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা) আমাদের সকল দায়ীত্ব নিয়েছেন। আমাদের লেখাপড়া শেখানো বিয়ে দেওয়াসহ সকল খরচ আমার বড় ভাই করে আসছেন। এখন অব্দি আমার বড় ভাই পিতার রেখে যাওয়া কোন সম্পত্তি নিজের নামে করে নেন নাই। কিন্তু মোঃ রাহাত আলী (জসীম) নেশাগ্রস্থ হওয়ায় তার ভাগের সম্পত্তি নিয়ে সে আবারও আমার বড় ভাইকে  জীবননাসের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবী আমার বড় ভাই লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা)কে এই নেশাগ্রস্থ জসীমের হাত থেকে রক্ষা করুন।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগমের মোঃ রহমান আলী (জীবন) বলেন, আমার পিতা যখন মারা যান আমি তখন অনেক ছোট। পিতার কথা আমার মনেও নাই। আমার যে পিতা নাই সেটি কখনো বুঝতে দেয়নি আমার বড় ভাই লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা)। আমরা সকলেই এখনো এক সাথেই বসবাস করছি। জসীম তার ভাগের সম্পত্তি নিয়ে চলে যায়। এখন সে আবারও সম্পত্তির ভাগ চাচ্ছে না দিলে বড় ভাই ও আমাকে জীবননাসের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন আমাদের পরিবারকে এই নেশাগ্রস্থ জসীমের হাত থেকে রক্ষা করুন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

নেশাগ্রস্থ ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মা জমিলা বেগমসহ অন্য সন্তানরা

Update Time : ০৩:৩১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
blank
blank

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে এক নেশাগ্রস্থ ছেলের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মা জমিলা বেগমসহ অন্য সন্তানেরা। ভুক্তভোগী জমিলা বেগম নগরীর খালিশপুর থানাধীন এন/ই-৪৮ নতুন কলোনী হাউজিং এলাকার মৃতঃ তৈয়ব আলী’র স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ করা হলেও প্রতিকার পাইনি ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পরে তিন ছেলে মোঃ রহমত আলী (হিরা), মোঃ রাহাত আলী (জসীম), মোঃ রহমান আলী (জীবন) ও এক মেয়ে মোসাঃ রাবেয়া খাতুন (লাকি) একত্রে বসবাস করে আসছিলাম। কিন্তু আমার মেজ ছেলে মোঃ রাহাত আলী (জসীম) নেশাগ্রস্থ হয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পরিবারের উপর অত্যাচার করতে থাকলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ গত ইং ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০ তারিখ শালিশের মাধ্যমে জসীমের ওয়ারেশ হিসাবে প্রাপ্ত অংশের মূল্য নির্ধারন করে নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে তার সকল টাকা পরিশোধ করা হয়। একই সাথে ওয়ারেশ স্বত্ত্ব স্বার্থ ত্যাগের ঘোষনা পত্র সম্পন্ন করে অন্যত্র চলে যায়। এরপরও তার অত্যাচার না থামায় তার সাথে আমি সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে ০২/০৩/২০১০ইং তারিখ দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় লিগ্যাল নোটিশ প্রকাশ করি। অথচ সে গত ১১-১০-২৪ইং তারিখে আমাদের বাসায় উপস্থিত হয় তার কিছু সহযোগী সহ সে বাড়িতে থাকতে চায় এবং পুন:রায় বাড়ির ভাগ চায়। আমার সন্তানদের বিভিন্ন ধরনের জীবননাসের হুমকি দেয়। এলাকাবাসির সহযোগিতায় সেদিন আমরা বেচে যাই। এরপর গত সোমবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৪ ঘটিকায় পুনরায় তার কিছু সহযোগিসহ বাড়িতে হামলা করে এবং বাড়ি ঘর জ্বালাও পোড়ানোর হুমকি দেয় এবং আমার সন্তানদের জীবননাসের হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে আরও বলেন, বর্তমানে আমিসহ আমার সন্তানেরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জমিলা বেগমের বড় ছেলে লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা) বলেন, আমার পিতার মৃত্যুর পর ভাই-বোনকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলাম। কখনো তাদেরকে পিতার অনুপস্থিতি বুঝতে দেইনি কিন্তু আমার মেজ ভাই মোঃ রাহাত আলী (জসীম) নেশাগ্রস্থ হয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পরিবারের উপর অত্যাচার করতে থাকলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ শালিশের মাধ্যমে ওয়ারেশ হিসাবে প্রাপ্ত অংশের মূল্য নির্ধারন করে নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে তার সকল টাকা পরিশোধ করা হয়। প্রমাণাদি আমাদের কাছে রয়েছে।

লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা) আরও বলেন, সরকার পতনের পর মোঃ রাহাত আলী (জসীম) আবারও সম্পত্তির ভাগ চায় না দিলে আমাকেসহ আমার পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। গত সোমবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৪ ঘটিকায় পুন:রায় তার কিছু সহযোগিসহ বাড়িতে হামলা করে এবং বাড়ি ঘর জ্বালাও পোড়ানোর হুমকি দেয় এবং আমার জীবননাসের হুমকি দেয়। আমি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন এই নেশাগ্রস্থ মোঃ রাহাত আলী (জসীম) ও সহযোগিদের হাত থেকে রক্ষা পাই।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগমের মেয়ে মোসাঃ রাবেয়া খাতুন (লাকি) বলেন, আমার পিতা মারা যাওয়ার পর আমার বড় ভাই লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা) আমাদের সকল দায়ীত্ব নিয়েছেন। আমাদের লেখাপড়া শেখানো বিয়ে দেওয়াসহ সকল খরচ আমার বড় ভাই করে আসছেন। এখন অব্দি আমার বড় ভাই পিতার রেখে যাওয়া কোন সম্পত্তি নিজের নামে করে নেন নাই। কিন্তু মোঃ রাহাত আলী (জসীম) নেশাগ্রস্থ হওয়ায় তার ভাগের সম্পত্তি নিয়ে সে আবারও আমার বড় ভাইকে  জীবননাসের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবী আমার বড় ভাই লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা)কে এই নেশাগ্রস্থ জসীমের হাত থেকে রক্ষা করুন।

ভুক্তভোগী জমিলা বেগমের মোঃ রহমান আলী (জীবন) বলেন, আমার পিতা যখন মারা যান আমি তখন অনেক ছোট। পিতার কথা আমার মনেও নাই। আমার যে পিতা নাই সেটি কখনো বুঝতে দেয়নি আমার বড় ভাই লেখক ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী (হিরা)। আমরা সকলেই এখনো এক সাথেই বসবাস করছি। জসীম তার ভাগের সম্পত্তি নিয়ে চলে যায়। এখন সে আবারও সম্পত্তির ভাগ চাচ্ছে না দিলে বড় ভাই ও আমাকে জীবননাসের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন আমাদের পরিবারকে এই নেশাগ্রস্থ জসীমের হাত থেকে রক্ষা করুন।