০১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুরগির বিষ্ঠা ফেলে পরিবেশ দূষণ, ব্যবস্থা চায় স্থানীয়রা

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
  • ৩১ Time View
blank
blank

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী আতাহার এলাকায় শিল্পবর্জ্য ফেলে দূষণ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে, গভীর রাতে মুরগির বিষ্ঠা ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা আশপাশের কৃষি জমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (০৮ মার্চ) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ঝিলিম ইউনিয়নের দক্ষিণ শহর গ্রাম এবং রাঁধুনীডাঙ্গা ছোট পাইকোড়তলা রাস্তার পাশে ফসলি জমিতে মুরগির বিষ্ঠার স্তূপ পড়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে নাবা পোল্ট্রি ফার্মের ঠিকাদাররা ট্রাকভর্তি মুরগির বিষ্ঠা এনে এখানে ফেলে যান। ফলে তীব্র দুর্গন্ধে বসবাস ও চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ফসলি জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, পানির রঙ বদলে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

একজন কৃষক আমিন (৬৫) বলেন, “আমাদের জমির পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুর্গন্ধে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে তারা বর্জ্য ফেলা একটি ট্রাক আটক করেছিলেন, কিন্তু চালক ও শ্রমিকরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে আতঙ্কের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, “এমন কোনো বিষয় আমাদের জানানো হয়নি। তবে ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী নির্দিষ্ট জায়গার ঠিকানা দিয়ে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা চান, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুরগির বিষ্ঠা ফেলে পরিবেশ দূষণ, ব্যবস্থা চায় স্থানীয়রা

Update Time : ০২:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
blank
blank

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী আতাহার এলাকায় শিল্পবর্জ্য ফেলে দূষণ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে, গভীর রাতে মুরগির বিষ্ঠা ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা আশপাশের কৃষি জমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (০৮ মার্চ) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ঝিলিম ইউনিয়নের দক্ষিণ শহর গ্রাম এবং রাঁধুনীডাঙ্গা ছোট পাইকোড়তলা রাস্তার পাশে ফসলি জমিতে মুরগির বিষ্ঠার স্তূপ পড়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে নাবা পোল্ট্রি ফার্মের ঠিকাদাররা ট্রাকভর্তি মুরগির বিষ্ঠা এনে এখানে ফেলে যান। ফলে তীব্র দুর্গন্ধে বসবাস ও চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ফসলি জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, পানির রঙ বদলে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।

একজন কৃষক আমিন (৬৫) বলেন, “আমাদের জমির পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুর্গন্ধে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে তারা বর্জ্য ফেলা একটি ট্রাক আটক করেছিলেন, কিন্তু চালক ও শ্রমিকরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে আতঙ্কের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, “এমন কোনো বিষয় আমাদের জানানো হয়নি। তবে ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী নির্দিষ্ট জায়গার ঠিকানা দিয়ে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিতে সহজ হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা চান, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হোক।