০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে স্কুল শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের নির্দেশদাতা সেই চেয়ারম্যান আটক

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৩৬ Time View
blank
blank

 

রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

“মেয়েটি বেয়াদব। মেরে তার পিঠের চামড়া ছিলে দেয়া উচিৎ ছিল।” স্কুল শিক্ষার্থী মোহনাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের নির্দেশদাতা কুড়িগ্রামের সেই চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিককে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২০ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ গ্রামের মোস্তফা মিয়ার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তারের ছোট বোন আশামণি (৯) হৃদরোগে ভুগছিল। মোহনার দাদি তার নাতনির চিকিৎসার জন্য তার বাবাকে একটি গরু দেন। এ নিয়ে মোহনার দুরসম্পর্কের দাদু আব্দুল কাদের মোহনার বাবাকে চোর সাব্যস্ত করে চৌকিদার পাঠিয়ে হুমকি দেন।
গত মঙ্গলবার মোহনা তার বাবাকে চোর অপবাদের প্রতিবাদ করলে আব্দুল কাদের উঠানেই মোহনাকে ধরে শারীরিক নির্যাতন করেন। তাকে প্রায় ছয় ঘণ্টা গাছে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে ওইদিন বেলা ৩টার দিকে রাজারহাট থানা পুলিশ মোহনাকে উদ্ধার করে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই দিন রাতেই মোহনার বাবা মোস্তফা মিয়া আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। রাতেই মায়া বেগম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিকের হুকুমে মেয়েটিকে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠলে চেয়ারম্যান বলেন, কিশোরী মেয়েটি বেয়াদেব। মেরে তার পিঠের চামড়া ছিলে দেয়া উচিৎ ছিল। তার এই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সমালোচনার ঝড় উঠে।
এবিষয়ে থানায় আব্দুল কাদের সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও এতে উক্ত চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়নি। তবুও বৃহস্পতিবার দুপুরে যৌথ বাহিনী চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এদিকে চেয়ারম্যানকে আসামি না করার বিষয়ে এলাকার জনমনে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তছলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

কুড়িগ্রামে স্কুল শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের নির্দেশদাতা সেই চেয়ারম্যান আটক

Update Time : ১২:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
blank
blank

 

রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

“মেয়েটি বেয়াদব। মেরে তার পিঠের চামড়া ছিলে দেয়া উচিৎ ছিল।” স্কুল শিক্ষার্থী মোহনাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের নির্দেশদাতা কুড়িগ্রামের সেই চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিককে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২০ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিককে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাব খাঁ গ্রামের মোস্তফা মিয়ার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তারের ছোট বোন আশামণি (৯) হৃদরোগে ভুগছিল। মোহনার দাদি তার নাতনির চিকিৎসার জন্য তার বাবাকে একটি গরু দেন। এ নিয়ে মোহনার দুরসম্পর্কের দাদু আব্দুল কাদের মোহনার বাবাকে চোর সাব্যস্ত করে চৌকিদার পাঠিয়ে হুমকি দেন।
গত মঙ্গলবার মোহনা তার বাবাকে চোর অপবাদের প্রতিবাদ করলে আব্দুল কাদের উঠানেই মোহনাকে ধরে শারীরিক নির্যাতন করেন। তাকে প্রায় ছয় ঘণ্টা গাছে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে ওইদিন বেলা ৩টার দিকে রাজারহাট থানা পুলিশ মোহনাকে উদ্ধার করে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই দিন রাতেই মোহনার বাবা মোস্তফা মিয়া আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। রাতেই মায়া বেগম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিকের হুকুমে মেয়েটিকে গাছে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠলে চেয়ারম্যান বলেন, কিশোরী মেয়েটি বেয়াদেব। মেরে তার পিঠের চামড়া ছিলে দেয়া উচিৎ ছিল। তার এই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সমালোচনার ঝড় উঠে।
এবিষয়ে থানায় আব্দুল কাদের সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও এতে উক্ত চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়নি। তবুও বৃহস্পতিবার দুপুরে যৌথ বাহিনী চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এদিকে চেয়ারম্যানকে আসামি না করার বিষয়ে এলাকার জনমনে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তছলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিককে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।