০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে অপহরণ  সদস্য গ্রেফতার

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:১১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৫২ Time View
blank
blank

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:ডিবির ইনচার্জ মোঃ আবুল হোসেন এর নেতৃত্বে

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে অ*পহ*রণ ও মু*ক্তিপ*ণ আদায়কারী চ*ক্রের ০৪ সদস্য গ্রে*ফতার এবং অ*পরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উ*দ্ধার সংক্রা*ন্ত প্রেস ব্রিফিং পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।

গত ২৬/১২/২০২৪ তারিখ ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সার্কুলেশন, ময়মনসিংহকে একটি চক্র দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে অপহরণ করে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়, তাকে ধাঁরালো অস্ত্র দ্বারা প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে এবং তার মোবাইল ফোন থেকে নিকট আত্মীয় ও পরিবারবর্গের কাছে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে মোট দুই লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ আদায় করে তাকে ত্রিশাল থানাধীন চেলেরঘাট এলাকায় আহত অবস্থায় নামিয়ে দিয়ে ঢাকার দিকে চলে যায়। এই ঘটনার পর গাজীপুর, শ্রীপুর, মাওনা, ভালুকা এবং ফুলপুরে একই প্রকৃতির একাধিক ঘটনা সম্পর্কে জেলা পুলিশের নিকট তথ্য পাওয়া গেলে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল চক্রটিকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করার জন্য কাজ শুরু করে। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখ তারা একইভাবে আরও একজন ভিকটিমকে অপহরণের জন্য প্রাইভেটকার নিয়ে বের হলে গোপন সূত্রে জেলা গোয়েন্দা শাখা তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় এবং একটি আভিযানিক দল গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি ত্রিশাল, ভালুকা-গফরগাঁও সড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাওনা ও শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হল-
মো: শাহাদত হোসেন (৪৬)
পিতা: মো: আব্দুল কাদের
ঠিকানা: খালমাগা, ছোট পাথরঘাটা, পাথরঘাটা, বরগুনা
বর্তমান: টেক কাথুরা, সালনা দোতলা মসজিদ, গাজীপুর সদর, গাজীপুর।
আব্দুস সালাম (৪৫)
পিতা: মো: আব্দুল কাদের
ঠিকানা: খালমাগা, ছোট পাথরঘাটা, পাথরঘাটা, বরগুনা
বর্তমান: টানবন্দি, মুখী স্কুল বাজার, পাগলা, ময়মনসিংহ।
মো: শিখন আলী (২০)
পিতা: মৃত ফকির আলী
ঠিকানা: বাখেরকান্দা, বাগবাড়ি বাজার শেরপুর সদর, শেরপুর।
. মো: আবু তাহের (৩৫)
পিতা: মৃত এছাক আলী
ঠিকানা: সোনাপুর, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।

গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, ০৫(পাঁচ) টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৮৭,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। চক্রটির মূল হোতা শাহাদত প্রায় ৮ বছর আগে মাওনা বাসস্ট্যান্ডে প্রাইভেটকার চালক থাকা অবস্থায় এই অপরাধকর্মে যুক্ত হয়, বিভিন্ন সময় একই পদ্ধতিতে ৫০ টিরও বেশি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এই দীর্ঘ সময়ে সে তিন দফায় প্রায় দুই বছর কারাভোগ করেছে। সর্বশেষ কাশিমপুর কারাগারে আটককৃত তাহেরের সাথে পরিচয় হয় এবং প্রায় দুই মাস আগে তারা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও তাদের পুরাতন পেশায় ফিরে আসে। শাহাদতের বড় ভাই সালাম ও তার আত্মীয় শিখন এই কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করত এবং ভিকটিমকে গাড়িতে তোলা,মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলা ইত্যাদি বিভিন্ন ভূমিকা পালন করত। তাদের ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তারা গত দুই মাসে প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকার লেনদেন করেছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানকালে চক্রটির আরো ৬ জন সক্রিয় সদস্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদেরকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা ও গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে অপহরণ  সদস্য গ্রেফতার

Update Time : ১২:১১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
blank
blank

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:ডিবির ইনচার্জ মোঃ আবুল হোসেন এর নেতৃত্বে

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে অ*পহ*রণ ও মু*ক্তিপ*ণ আদায়কারী চ*ক্রের ০৪ সদস্য গ্রে*ফতার এবং অ*পরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উ*দ্ধার সংক্রা*ন্ত প্রেস ব্রিফিং পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।

গত ২৬/১২/২০২৪ তারিখ ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সার্কুলেশন, ময়মনসিংহকে একটি চক্র দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে অপহরণ করে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়, তাকে ধাঁরালো অস্ত্র দ্বারা প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে এবং তার মোবাইল ফোন থেকে নিকট আত্মীয় ও পরিবারবর্গের কাছে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে মোট দুই লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ আদায় করে তাকে ত্রিশাল থানাধীন চেলেরঘাট এলাকায় আহত অবস্থায় নামিয়ে দিয়ে ঢাকার দিকে চলে যায়। এই ঘটনার পর গাজীপুর, শ্রীপুর, মাওনা, ভালুকা এবং ফুলপুরে একই প্রকৃতির একাধিক ঘটনা সম্পর্কে জেলা পুলিশের নিকট তথ্য পাওয়া গেলে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল চক্রটিকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করার জন্য কাজ শুরু করে। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখ তারা একইভাবে আরও একজন ভিকটিমকে অপহরণের জন্য প্রাইভেটকার নিয়ে বের হলে গোপন সূত্রে জেলা গোয়েন্দা শাখা তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় এবং একটি আভিযানিক দল গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি ত্রিশাল, ভালুকা-গফরগাঁও সড়ক এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাওনা ও শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হল-
মো: শাহাদত হোসেন (৪৬)
পিতা: মো: আব্দুল কাদের
ঠিকানা: খালমাগা, ছোট পাথরঘাটা, পাথরঘাটা, বরগুনা
বর্তমান: টেক কাথুরা, সালনা দোতলা মসজিদ, গাজীপুর সদর, গাজীপুর।
আব্দুস সালাম (৪৫)
পিতা: মো: আব্দুল কাদের
ঠিকানা: খালমাগা, ছোট পাথরঘাটা, পাথরঘাটা, বরগুনা
বর্তমান: টানবন্দি, মুখী স্কুল বাজার, পাগলা, ময়মনসিংহ।
মো: শিখন আলী (২০)
পিতা: মৃত ফকির আলী
ঠিকানা: বাখেরকান্দা, বাগবাড়ি বাজার শেরপুর সদর, শেরপুর।
. মো: আবু তাহের (৩৫)
পিতা: মৃত এছাক আলী
ঠিকানা: সোনাপুর, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।

গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, ০৫(পাঁচ) টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৮৭,০০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। চক্রটির মূল হোতা শাহাদত প্রায় ৮ বছর আগে মাওনা বাসস্ট্যান্ডে প্রাইভেটকার চালক থাকা অবস্থায় এই অপরাধকর্মে যুক্ত হয়, বিভিন্ন সময় একই পদ্ধতিতে ৫০ টিরও বেশি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এই দীর্ঘ সময়ে সে তিন দফায় প্রায় দুই বছর কারাভোগ করেছে। সর্বশেষ কাশিমপুর কারাগারে আটককৃত তাহেরের সাথে পরিচয় হয় এবং প্রায় দুই মাস আগে তারা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও তাদের পুরাতন পেশায় ফিরে আসে। শাহাদতের বড় ভাই সালাম ও তার আত্মীয় শিখন এই কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করত এবং ভিকটিমকে গাড়িতে তোলা,মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলা ইত্যাদি বিভিন্ন ভূমিকা পালন করত। তাদের ব্যবহৃত বিকাশ একাউন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তারা গত দুই মাসে প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকার লেনদেন করেছে। জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানকালে চক্রটির আরো ৬ জন সক্রিয় সদস্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদেরকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা ও গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।