০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক দম্পতি সুকতারা ও মনিরুজ্জামান

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
  • ২৯ Time View
blank

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

blank

সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী (গোদাগাড়ী) প্রতিনিধি:

বিদেশ পাঠাবো ও বিভিন্ন কর্মসংস্থান তৈরি করে দেওয়ার অজুহাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রায় ৩০ জনের কাছ থেকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ছলচাতুরির মাধ্যমে প্রায় ২/৩ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে সুকতারা ও মনিরুজ্জামান নামে এক প্রতারক দম্পতি। প্রতারক দম্পতির ফাঁদে পড়ে এলাকার প্রায় ৩০ টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে দেখার কেউ নেই।
প্রতারক দম্পতি সুকতারা বেগম ও তার স্বামী মনিরুজ্জামান রাজশাহীর জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছিলো। সুকতারার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুরে ও তার স্বামী মনিরুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কামরাঙ্গাচালা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রতারণার অভিযোগ এনে প্রতারক দম্পতির বিরুদ্ধে ৪ ই জানুয়ারী বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার কার্যালয়ে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তোভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ভুক্তোভোগী মোসাঃ শারমিন খাতুন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতারক সুকতারা ও তার স্বামী মনিরুজ্জামান ৪-৫ বছর পূর্বে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে, এবং বাসুদেবপুর হাই কেয়ার মোড়ে একটি অন্যের দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ছোট পরিসরে একটি গার্মেন্টস এর ব্যবসা শুরু করে। সুকতারা বেগম নিজেকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে বড় পদে চাকুরি করেন বলে এলাকায় পরিচয় দিত। এই সুবাদে এলাকার জনসাধারণের সাথে পরিচয় হয়। এলাকায় প্রতারক দম্পতি উদ্যোক্তা হিসেবে, কুটির শিল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব, কাথা সেলাই, বুটিক্স এর কাজ জামা কাপড় বিভিন্ন ডিজাইনার ইত্যাদি কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সবাইকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখায়, বিদেশে পাঠানো, বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে স্বল্প সুদের ব্যাঙ্ক ঋণের মাধ্যমে পুজির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে প্রায় ৩০ জনকে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন উত্তোলন করায়। ঐ লোনের টাকা ব্যবসার পুঁজির হিসাবে টাকা ব্যবহার করা হবে বলে নিয়ে নেই প্রতারক দম্পতি। অতঃপর কিছুদিন লাভাংশ হিসেবে কিছু ব্যক্তিকে টাকাও প্রদান করে। তারা এলাকায় আসার দেড় বছরের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় জমি, বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করে। সে বাড়িতে একটি দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ে জমকালো আয়োজন, ভোজ সভা, পার্টি ইত্যাদি সেখানে তারা করত। গ্রামের সবাইকে ক্ষমতার দাপট দেখাতো এমপি,

মন্ত্রীর , ভয় দেখিয়ে।
গ্রামের প্রায় ৩০ জন মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২/৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেই। টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পট পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথেই তারাও পালিয়ে আত্বগোপনে চলে যায়।
ভুক্তভোগীরা প্রতারক দম্পতির সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেই। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা ফেরত দিতে নানা প্রকার ছলচাতুরি শুরু করে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে প্রতারক দম্পতিকে এলাকায় এসে হিসাব পরিশোধ করতে বললে কোনো টাকা ফেরত দিবে না বলে হুমকি প্রদান করে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রত্যেক কে বিভিন্ন মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। ইতিমধ্য বাসুদেবপুরের বাড়িটি বিক্রয়ের আলোচনা চলছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করলে ক্রেতাগণ নিতে চায়না।
এর আগে ভুক্তোভোগীরা প্রতারনার মাধ্যমে টাকা আত্বসাতের অভিযোগেএনে প্রতারক দম্পতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নিকট ২৩ শে ডিসেম্বর ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ২০ ডিসেম্বর লিখিত অভিযোগ দেন।
প্রতারক দম্পতি প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়া ভুক্তোভোগীরা সুবিচার ও প্রাপ্ত টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট শুভদৃষ্টি কামনা করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক দম্পতি সুকতারা ও মনিরুজ্জামান

Update Time : ০২:২৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
blank
blank

সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী (গোদাগাড়ী) প্রতিনিধি:

বিদেশ পাঠাবো ও বিভিন্ন কর্মসংস্থান তৈরি করে দেওয়ার অজুহাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রায় ৩০ জনের কাছ থেকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ছলচাতুরির মাধ্যমে প্রায় ২/৩ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে সুকতারা ও মনিরুজ্জামান নামে এক প্রতারক দম্পতি। প্রতারক দম্পতির ফাঁদে পড়ে এলাকার প্রায় ৩০ টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে দেখার কেউ নেই।
প্রতারক দম্পতি সুকতারা বেগম ও তার স্বামী মনিরুজ্জামান রাজশাহীর জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছিলো। সুকতারার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুরে ও তার স্বামী মনিরুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কামরাঙ্গাচালা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রতারণার অভিযোগ এনে প্রতারক দম্পতির বিরুদ্ধে ৪ ই জানুয়ারী বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার কার্যালয়ে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তোভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ভুক্তোভোগী মোসাঃ শারমিন খাতুন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতারক সুকতারা ও তার স্বামী মনিরুজ্জামান ৪-৫ বছর পূর্বে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে, এবং বাসুদেবপুর হাই কেয়ার মোড়ে একটি অন্যের দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ছোট পরিসরে একটি গার্মেন্টস এর ব্যবসা শুরু করে। সুকতারা বেগম নিজেকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে বড় পদে চাকুরি করেন বলে এলাকায় পরিচয় দিত। এই সুবাদে এলাকার জনসাধারণের সাথে পরিচয় হয়। এলাকায় প্রতারক দম্পতি উদ্যোক্তা হিসেবে, কুটির শিল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব, কাথা সেলাই, বুটিক্স এর কাজ জামা কাপড় বিভিন্ন ডিজাইনার ইত্যাদি কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সবাইকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখায়, বিদেশে পাঠানো, বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে স্বল্প সুদের ব্যাঙ্ক ঋণের মাধ্যমে পুজির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে প্রায় ৩০ জনকে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন উত্তোলন করায়। ঐ লোনের টাকা ব্যবসার পুঁজির হিসাবে টাকা ব্যবহার করা হবে বলে নিয়ে নেই প্রতারক দম্পতি। অতঃপর কিছুদিন লাভাংশ হিসেবে কিছু ব্যক্তিকে টাকাও প্রদান করে। তারা এলাকায় আসার দেড় বছরের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় জমি, বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করে। সে বাড়িতে একটি দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ে জমকালো আয়োজন, ভোজ সভা, পার্টি ইত্যাদি সেখানে তারা করত। গ্রামের সবাইকে ক্ষমতার দাপট দেখাতো এমপি,

মন্ত্রীর , ভয় দেখিয়ে।
গ্রামের প্রায় ৩০ জন মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২/৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেই। টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পট পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথেই তারাও পালিয়ে আত্বগোপনে চলে যায়।
ভুক্তভোগীরা প্রতারক দম্পতির সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেই। কিন্তু পরবর্তীতে টাকা ফেরত দিতে নানা প্রকার ছলচাতুরি শুরু করে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে প্রতারক দম্পতিকে এলাকায় এসে হিসাব পরিশোধ করতে বললে কোনো টাকা ফেরত দিবে না বলে হুমকি প্রদান করে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রত্যেক কে বিভিন্ন মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। ইতিমধ্য বাসুদেবপুরের বাড়িটি বিক্রয়ের আলোচনা চলছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করলে ক্রেতাগণ নিতে চায়না।
এর আগে ভুক্তোভোগীরা প্রতারনার মাধ্যমে টাকা আত্বসাতের অভিযোগেএনে প্রতারক দম্পতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান নিকট ২৩ শে ডিসেম্বর ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ২০ ডিসেম্বর লিখিত অভিযোগ দেন।
প্রতারক দম্পতি প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়া ভুক্তোভোগীরা সুবিচার ও প্রাপ্ত টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট শুভদৃষ্টি কামনা করেছে।