
সাইফুল ইসলাম (,গোদাগাড়ী) রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর জেলার গোদাগাড়ী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) জোন-১ এ গভীর নলকূপে অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সহকারী প্রকৌশলী : আব্দুল লতিফ সরকারের অপসারণ ও অপারেটর নিয়োগ স্থগিত এবং একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শী অপারেটরদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন অপারেটর নিয়োগের দাবিতে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা বিএমডিএ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
জানা যায় ২ ই জানুয়ারী সকালে বিক্ষুব্ধ কৃষক বিএমডিএ অফিস ঘেরাও করে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে তারা গোদাগাড়ী ডাইংপাড়া চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে রাজশাহীর গোদাগাড়ী বিএমডিএ অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন , রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুর মালেক, গোদাগাড়ী উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সৈবুর রহমান, রাজশাহী গোদাগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহেদুর রহমান বাক্কার, গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউপির সাবেক চেয়ারমান গোলাম মোস্তফা, যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান ডালিম, ,গোদাগাড়ী উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক বেদার উদ্দিন বিদ্যুৎ, সহ আরো অনেকে।
বক্তাগণ বলেন, একটি দলের মতাদর্শী সহকারী প্রকৌশলী আর্থিক সুবিধা নিয়ে একটি দলের মতাদর্শীদের অপারেটর নিয়োগ দিয়েছেন। তারা বলেন, আব্দুল লতিফএর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত ও একটি দলের মতাদর্শী অপারেটরদের অব্যাহতি দিয়ে কৃষকের মতামতের ভিত্তিতে অপারেটর নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে আগামিতে আরো বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান বিক্ষিপ্তরা । তা না হলে প্রয়োজনে বিএমডিএর প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় রাজশাহীর , গোদাগাড়ী উপজেলায় বিএমডিএর প্রায় ৮০০ টির ওপর গভীর নলকুপ রয়েছে।
বক্তারা বলেন, নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা না হলে প্রয়োজনে সাধারণ কৃষকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তারা বলেন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে একটি দলের দায়িত্বশীল নেতা এবং তাদের দোসরেরা অপারেটর নিয়োগ পেয়েছেন কি বিবেচনায়! এটা অবশ্যই অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্যদের পাশাপাশি একটি দলের মতাদর্শীদের অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ,সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ একটি দলের মতাদর্শীদের অপারেটর নিয়োগ দিয়েছেন।
তারা আরো বলেন, সারাদেশে যখন একটি দলের মতাদর্শী দোসরদের প্রতিরোধ করা হচ্ছে, তখন গোদাগাড়ীতে একটি দলের মতাদর্শীদের পুর্নবাসন করতেই তাদের অপারেটর নিয়োগ করা হয়েছে। একটি দলের খোলসে যারা দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর গভীর নলকূপ নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ কৃষকদের শোষণ করে মোটাতাজা হয়েছে,তারাই আবার অপারেটর নিয়োগ পেয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর অপারেটর নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর পরই সাধারণ কৃষকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। উপজেলা জুড়ে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড় ,বইছে মুখরুচক নানা গুঞ্জন, জনমনেও দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।
এদিকে অপারেটর নিয়োগ নীতিমালায় বলা হয়েছে, যিনি অপারেটর নিয়োগ পাবেন তিনি কোনো অবস্থাতেই অন্যকোন ব্যক্তিকে দিয়ে নলকুপ পরিচালনা করতে পারবেন না এবং তাকে রাতেনিয়মিত নলকুপের ঘরে অবস্থান করতে হবে। এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই নলকুপ স্কীমে তার নিজস্ব ফসলি জমি থাকতে হবে ইত্যাদি শর্ত দেয়া হয়েছে। অথচ একটি দলের মতাদর্শী পরিবারের এমন নারী-পুরুষ অপারেটর নিয়োগ করা হয়েছে, তারা রাতে নলকুপের ঘরে অবস্থান তো দূরের কথা নলকুপে যাবেই না। বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিয়ে অপারেটর নিয়োগ নিয়ে এখন তারা অন্যকে দিয়ে নলকুপ পরিচালনা করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা যায়।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএমডিএ গোদাগাড়ী -১ জোনের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সরকারকে অফিসে না পাওয়ায় ও তার সাথে মোবাইল ফোনে পাওয়া না যাওয়ায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।











