১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় ভালুকিয়া কেজি স্কুলে বিদায় ও বৃত্তি সনদ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৪৬ Time View
blank
blank

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকেঃ

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নে অবস্থিত স্বনামধন্য আধুনিক শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালুকিয়া কিডস্ হ্যাভেন কিন্ডারগার্টেন-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় এবং বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন (বিকেএ) কর্তৃক ২০২৩ সালে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। এটি ছিল বিদ্যালয়ের ১০ বছর পূর্তির একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে এই স্মরণীয় মুহূর্ত উদযাপন করেছেন।

অনুষ্ঠানটির সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে, যা পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ শাহিন আলম, এবং ত্রিপিটক পাঠ করেন রুদ্র রাজ বড়ুয়া। এসময় বিদ্যালয়ের প্রথাগত ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এড. আব্দুর রহিম, এবং সভাপতিত্ব করেন হাজী আশরাফ মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবু প্রভাত বড়ুয়া, মোঃ সিকদার, মোস্তফা কামাল শাহিন, এবং মিজানুর রহমান মিজান। বিশেষ অতিথিরা বক্তৃতা দেন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের জীবনে শিক্ষা ও নৈতিকতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যালয় আজ ১০ বছরে পদার্পণ করেছে। ধীরে ধীরে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি শক্তিশালী শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল এবং এখনো তা—প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সুস্থ, সফল ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আজ, এই বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বিদায় নেওয়া আমাদের জন্য এক মর্মাহত মুহূর্ত, কিন্তু তাদের সফলতার প্রতি আমাদের বিশ্বাস অটুট।

বিদ্যালয়ের সফলতা এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রমের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এডভোকেট আব্দুর রহিম প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি মোজাম্মেল স্যারের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজকের এই বিদ্যালয় একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতে এই বিদ্যালয় জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, ইনশাল্লাহ।

অনুষ্ঠানের পর বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। তাদের মধ্যে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ, ক্রেস্ট, মেডেল এবং অর্থ প্রদান করা হয়। এটি ছিল একটি উৎসাহব্যঞ্জক মুহূর্ত, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরবর্তী পথচলায় অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহাদ বিন রহিম। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মিসেস আঙ্গুলি বড়ুয়া এবং শাহিনা আক্তার লুৎফা। তাঁরা বিদ্যালয়ের সাধারণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেন।

অনুষ্ঠান শেষে, সকল উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা একসাথে দোয়া অনুষ্ঠিত করেন, যাতে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে আরও সফল হতে পারেন। এরপর নাস্তা বিতরণ করা হয়, এবং সকলেই একত্রিত হয়ে আনন্দময় পরিবেশে অনুষ্ঠানটি শেষ করেন।

ভালুকিয়া কিডস্ হ্যাভেন কিন্ডারগার্টেনের এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি বিদায় অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল একটি নতুন যাত্রার সূচনা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

উখিয়ায় ভালুকিয়া কেজি স্কুলে বিদায় ও বৃত্তি সনদ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন

Update Time : ০২:৪০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪
blank
blank

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়া থেকেঃ

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নে অবস্থিত স্বনামধন্য আধুনিক শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালুকিয়া কিডস্ হ্যাভেন কিন্ডারগার্টেন-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় এবং বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন (বিকেএ) কর্তৃক ২০২৩ সালে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান। এটি ছিল বিদ্যালয়ের ১০ বছর পূর্তির একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে এই স্মরণীয় মুহূর্ত উদযাপন করেছেন।

অনুষ্ঠানটির সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে, যা পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ শাহিন আলম, এবং ত্রিপিটক পাঠ করেন রুদ্র রাজ বড়ুয়া। এসময় বিদ্যালয়ের প্রথাগত ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এড. আব্দুর রহিম, এবং সভাপতিত্ব করেন হাজী আশরাফ মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবু প্রভাত বড়ুয়া, মোঃ সিকদার, মোস্তফা কামাল শাহিন, এবং মিজানুর রহমান মিজান। বিশেষ অতিথিরা বক্তৃতা দেন এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং তাদের জীবনে শিক্ষা ও নৈতিকতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যালয় আজ ১০ বছরে পদার্পণ করেছে। ধীরে ধীরে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি শক্তিশালী শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল এবং এখনো তা—প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সুস্থ, সফল ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আজ, এই বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বিদায় নেওয়া আমাদের জন্য এক মর্মাহত মুহূর্ত, কিন্তু তাদের সফলতার প্রতি আমাদের বিশ্বাস অটুট।

বিদ্যালয়ের সফলতা এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রমের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এডভোকেট আব্দুর রহিম প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি মোজাম্মেল স্যারের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজকের এই বিদ্যালয় একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতে এই বিদ্যালয় জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, ইনশাল্লাহ।

অনুষ্ঠানের পর বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। তাদের মধ্যে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ, ক্রেস্ট, মেডেল এবং অর্থ প্রদান করা হয়। এটি ছিল একটি উৎসাহব্যঞ্জক মুহূর্ত, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরবর্তী পথচলায় অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহাদ বিন রহিম। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মিসেস আঙ্গুলি বড়ুয়া এবং শাহিনা আক্তার লুৎফা। তাঁরা বিদ্যালয়ের সাধারণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেন।

অনুষ্ঠান শেষে, সকল উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা একসাথে দোয়া অনুষ্ঠিত করেন, যাতে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে আরও সফল হতে পারেন। এরপর নাস্তা বিতরণ করা হয়, এবং সকলেই একত্রিত হয়ে আনন্দময় পরিবেশে অনুষ্ঠানটি শেষ করেন।

ভালুকিয়া কিডস্ হ্যাভেন কিন্ডারগার্টেনের এই অনুষ্ঠানটি শুধু একটি বিদায় অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল একটি নতুন যাত্রার সূচনা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।