০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে হারিয়ে যাওয়া পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৩৮ Time View
blank
blank

রনি হোসেন, কেশবপুর

প্রাচীনকাল থেকে বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি শিল্প বা মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। আজকাল কুমারপাড়ার মেয়েদের ব্যস্ততা অনেক কমে গেছে। তবে নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে এখনো কিছু কুমার পরিবার ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার এই ঐতিহ্য।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার কালাগাছি বাজারে যাওয়ার আগে রাস্তার পাশে পাল পাড়ায় কয়েক ঘর মৃৎ শিল্প ধরে রেখেছেন পৈতৃক এই পেশাকে। এছাড়াও পাঁজিয়া বাজার ও হাসানপুর বুড়িহাটি এলাকা সহ এ উপজেলার কয়েক গ্রামের পাল পাড়ায় চলে মৃৎ শিল্পর কাজ।

এ ব্যাপারে সাধন পাল জানান, লেখাপড়া তেমন শিখেননি, ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে মাটির এসব জিনিসপত্র বানানো শিখেছেন। এখন সময় খারাপ, তেমন বিক্রি হয় না, তবুও বিভিন্ন বাজারে বাজারে জিনিসপত্র নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। একসময় ব্যস্ত সময় পার করতেন আর এখন চাহিদা নেই বললেই চলে। তিনি আরও জানান, আগে সারা বছরই মাটির জিনিস পত্র তৈরি করতেন, তবে বৈশাখকে সামনে রেখে চৈত্রের শুরু থেকে কাজ বেড়ে যেতো। গ্রামে গ্রামে তখন বৈশাখী মেলা বসতো, দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করতেন।

আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী হবে সাগরদাঁড়িতে মধুমেলা। মেলার মাঠে শিশুদের জন্য ছোট্ট হাড়ি-পাতিল, পুতুল, ঘোড়ার গাড়ি-সহ মাটির তৈরি বিভিন্ন আবাস-পত্র বিক্রি হবে তার জন্যও এখন পাল পাড়ায় এসব আবাস-পত্র তৈরি করছেন বলে জানান তিনি।

এই ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কুমার বলা হয়। রান্নার হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, ভাঁড়, খাবারের সানকি, মটকি, সরা ইত্যাদি তৈরি করে থাকেন এরা।

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি, জ্বালানি কাঠ, শুকনো ঘাস, খড় ও বালি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

কেশবপুরে হারিয়ে যাওয়া পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

Update Time : ০৯:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
blank
blank

রনি হোসেন, কেশবপুর

প্রাচীনকাল থেকে বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি শিল্প বা মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। আজকাল কুমারপাড়ার মেয়েদের ব্যস্ততা অনেক কমে গেছে। তবে নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে এখনো কিছু কুমার পরিবার ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার এই ঐতিহ্য।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার কালাগাছি বাজারে যাওয়ার আগে রাস্তার পাশে পাল পাড়ায় কয়েক ঘর মৃৎ শিল্প ধরে রেখেছেন পৈতৃক এই পেশাকে। এছাড়াও পাঁজিয়া বাজার ও হাসানপুর বুড়িহাটি এলাকা সহ এ উপজেলার কয়েক গ্রামের পাল পাড়ায় চলে মৃৎ শিল্পর কাজ।

এ ব্যাপারে সাধন পাল জানান, লেখাপড়া তেমন শিখেননি, ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে মাটির এসব জিনিসপত্র বানানো শিখেছেন। এখন সময় খারাপ, তেমন বিক্রি হয় না, তবুও বিভিন্ন বাজারে বাজারে জিনিসপত্র নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। একসময় ব্যস্ত সময় পার করতেন আর এখন চাহিদা নেই বললেই চলে। তিনি আরও জানান, আগে সারা বছরই মাটির জিনিস পত্র তৈরি করতেন, তবে বৈশাখকে সামনে রেখে চৈত্রের শুরু থেকে কাজ বেড়ে যেতো। গ্রামে গ্রামে তখন বৈশাখী মেলা বসতো, দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করতেন।

আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহব্যাপী হবে সাগরদাঁড়িতে মধুমেলা। মেলার মাঠে শিশুদের জন্য ছোট্ট হাড়ি-পাতিল, পুতুল, ঘোড়ার গাড়ি-সহ মাটির তৈরি বিভিন্ন আবাস-পত্র বিক্রি হবে তার জন্যও এখন পাল পাড়ায় এসব আবাস-পত্র তৈরি করছেন বলে জানান তিনি।

এই ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কুমার বলা হয়। রান্নার হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, ভাঁড়, খাবারের সানকি, মটকি, সরা ইত্যাদি তৈরি করে থাকেন এরা।

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি, জ্বালানি কাঠ, শুকনো ঘাস, খড় ও বালি।