১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে ‘কুমড়ার বড়ি’ তৈরিতে ব্যস্ত নারীরা

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৩৪ Time View
blank
blank

রনি হোসেন, কেশবপুর

যশোরের কেশবপুরে ‘কুমড়ার বড়ি’ তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারীরা। শীত মৌসুমে শুরুতে বিভিন্ন এলাকার নারীরা সকালে ঘুম থেকে উঠে বড়ি তৈরি করার কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নারীদের পাশাপাশি শিশুরা একাজে সহযোগিতা করেন।

কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের সকালে বাড়ির ছাদে কিংবা গ্রামের মাঠে শাড়ি বা নতুন (নেটের) জালে চাল-কুমড়ার বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নারীরা। শীত এলেই গৃহ-বধুর সাথে সাথে গাঁয়ের মেয়েরাও নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে কুমড়া ও ঠিকরা কলাইয়ের বড়ি দিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই প্রাচীনকাল থেকে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে কুমড়ার বড়ি খুবই জনপ্রিয় একটি রেসিপি।

সরেজমিনে উপজেলার ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ী, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট, গৌরিঘোনা, সুফলাকাটি, পাঁজিয়া, কেশবপুর সদর, পৌরসভা, সাতবাড়ীয়া, হাসানপুর সহ বিভিন্ন গ্রাাম ঘুরে দেখা গেছে, এই শীতে কুমড়ার বড়ি দিতে চালকুমড়া আর (ঠিকরা) মাসকালাইয়ের চাহিদা বেড়ে গেছে।

এ উপজেলার বিভিন্ন গায়ের নারীরা চালকুমড়ার বড়ি তৈরি করে ব্যস্ত সময় পার করছে। পাঁজিয়া গ্রামের গৃহবধু ময়না বেগম বলেন, প্রতি বছরে শীত আসলে চাল-কুমড়া আর মাসকলাই মিশিয়ে এই বড়ি তৈরি করা হয়। পৌর শহরের কুলসুম বেগন বলেন, চাল-কুমড়ার বড়ি খেতে খুবই মজা। বিভিন্ন প্রকার তরকারির সাথে রান্না করে খেতে খুব মজা।

বেলকাটি গ্রামের তাসলি বেগম জানান, রাতভর মাসকলাই ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে শীতকে উপেক্ষা করে মাসকলাই বেটে পেস্ট করে এর পর ছিদ্র করা বাসনের কাঁকই দিয়ে চাল-কুমড়া কুরে মলমের মত তৈরি করে দুটিকে একসাথে মিশিয়ে তৈরী করা হয় কুমড়া-বড়ি। পাড়া মহল্লায় অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে বড়ি তৈরি করেন। ধনী গরীব সবাই এ বড়ির প্রতি দূর্বল কেননা বড়ি প্রতিটি তরকারিতে বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। তাই এই কুমড়া বড়ি মানুষের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয় একটি শীতের রেসিপি যা ধনী গরীব সকলেই মন ভরে উপভোগ করে থাকে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

কেশবপুরে ‘কুমড়ার বড়ি’ তৈরিতে ব্যস্ত নারীরা

Update Time : ০৪:১৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫
blank
blank

রনি হোসেন, কেশবপুর

যশোরের কেশবপুরে ‘কুমড়ার বড়ি’ তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারীরা। শীত মৌসুমে শুরুতে বিভিন্ন এলাকার নারীরা সকালে ঘুম থেকে উঠে বড়ি তৈরি করার কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নারীদের পাশাপাশি শিশুরা একাজে সহযোগিতা করেন।

কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের সকালে বাড়ির ছাদে কিংবা গ্রামের মাঠে শাড়ি বা নতুন (নেটের) জালে চাল-কুমড়ার বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নারীরা। শীত এলেই গৃহ-বধুর সাথে সাথে গাঁয়ের মেয়েরাও নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়ে কুমড়া ও ঠিকরা কলাইয়ের বড়ি দিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই প্রাচীনকাল থেকে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে কুমড়ার বড়ি খুবই জনপ্রিয় একটি রেসিপি।

সরেজমিনে উপজেলার ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ী, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট, গৌরিঘোনা, সুফলাকাটি, পাঁজিয়া, কেশবপুর সদর, পৌরসভা, সাতবাড়ীয়া, হাসানপুর সহ বিভিন্ন গ্রাাম ঘুরে দেখা গেছে, এই শীতে কুমড়ার বড়ি দিতে চালকুমড়া আর (ঠিকরা) মাসকালাইয়ের চাহিদা বেড়ে গেছে।

এ উপজেলার বিভিন্ন গায়ের নারীরা চালকুমড়ার বড়ি তৈরি করে ব্যস্ত সময় পার করছে। পাঁজিয়া গ্রামের গৃহবধু ময়না বেগম বলেন, প্রতি বছরে শীত আসলে চাল-কুমড়া আর মাসকলাই মিশিয়ে এই বড়ি তৈরি করা হয়। পৌর শহরের কুলসুম বেগন বলেন, চাল-কুমড়ার বড়ি খেতে খুবই মজা। বিভিন্ন প্রকার তরকারির সাথে রান্না করে খেতে খুব মজা।

বেলকাটি গ্রামের তাসলি বেগম জানান, রাতভর মাসকলাই ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে শীতকে উপেক্ষা করে মাসকলাই বেটে পেস্ট করে এর পর ছিদ্র করা বাসনের কাঁকই দিয়ে চাল-কুমড়া কুরে মলমের মত তৈরি করে দুটিকে একসাথে মিশিয়ে তৈরী করা হয় কুমড়া-বড়ি। পাড়া মহল্লায় অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে বড়ি তৈরি করেন। ধনী গরীব সবাই এ বড়ির প্রতি দূর্বল কেননা বড়ি প্রতিটি তরকারিতে বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। তাই এই কুমড়া বড়ি মানুষের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয় একটি শীতের রেসিপি যা ধনী গরীব সকলেই মন ভরে উপভোগ করে থাকে।