১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজাপুরে ছাত্রী ১২ জন, শিক্ষক-কর্মচারি ১৫ জনের মাসে বেতন উত্তোলন হয় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

blank
blank

ঝালকাঠির রাজাপুরের তারাবুনিয়া আমেনা খাতুন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নামে মাত্র শিক্ষার্থী দিয়ে কোনমতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। কাগজ কলমে ছাত্রী ২০৭ জন দেখালেও বাস্তবে ৭০ জন আছে দাবি করে সুপার জানান নিয়মিত আসে ৩০ জন কিন্তু বাস্তবে সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে ৭ ক্লাসে উপস্থিত দেখা গেছে মাত্র ১২ জন। সরেজমিনে দেখা গেছে, দশম শ্রেণিতে ১ জন ছাত্রী, ৯ম শ্রেণিতে ২ জন ছাত্রী, ৮ম শ্রেণিতে ২ জন ছাত্রী, ৭ম শ্রেণিতে ৩ জন ছাত্রী, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১ জন ছাত্রী ও ৫ম শ্রেণিতে ৩ উপস্থিত দেখা গেছে। ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারি ১৫ জনের প্রতি মাসে বেতন উত্তোলন হয় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু পনের জন শিক্ষক-কর্মচারির মধ্যেও কৃষি শিক্ষক ফারজানা ও আয়া সালমা বেগমসহ আরও কয়েকজনকে মাদ্রাসায় দেখা যায়নি।

স্থানীয় আবুল কাইউম, দুলাল ও হোসেন আলী অভিযোগ জানান, অধিকাংশ শিক্ষকই যথাযথভাবে মাদ্রাসায় আসেন না আবার এলেও দুপুরের পর আর থাকেন না। সুপার বিভিন্ন অযুহাতে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব দুরব্যবস্থার কারনে ভেঙে পরেছে মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা। মাদ্রাসায় মাসে সরকারের লাখ লাখ টাকা বেতন দিলেও তা বেস্তে যাচ্ছে বলেও স্থানীদের মাঝে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও ছাত্রী উপস্থিতি কম থাকায় শিক্ষক কর্মচারিদের উদাসিনতাকে দায়ী করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন সমাজ। স্থানীয়রা অভিযোগে জানায়, প্রতিদিন দুপুর হলেই মাদ্রাসা ছুটি দিয়ে দেয়া হয়।

এরপর দেড়টা ২ টা টার দিকে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে মাদ্রাসার সুপারসহ শিক্ষক-কর্মচারিরা চলে যান। এছাড়া সুপার বিভিন্ন অজুহাতে যথাযথভাবে মাদ্রাসা না থেকে উপজেলা মিটিং ও কাজের দোহাই দিয়ে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন তিনি। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারিদের এমন উদাসিন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম এবং সঠিকভাবে পাঠদানও হয় না। তারাবুনিয়া আমেনা খাতুন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার রুস্তুম আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দুজন শিক্ষক-কর্মচারি মৌখিক ছুটিতে রয়েছে।

এছাড়া যথা নিয়মেই পাঠদান করানো হয়। একই এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় ছাত্রীর সংখ্যা কম এবং গ্রাম হওয়ায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম হয়। ছাত্রী বাড়ানো ও উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে শিক্ষকরা চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তফা আলম বলেন, মাদ্রাসাটি সরেজমিনে পরিদর্শন পূবর্ক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

রাজাপুরে ছাত্রী ১২ জন, শিক্ষক-কর্মচারি ১৫ জনের মাসে বেতন উত্তোলন হয় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

Update Time : ০৭:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
blank
blank

ঝালকাঠির রাজাপুরের তারাবুনিয়া আমেনা খাতুন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নামে মাত্র শিক্ষার্থী দিয়ে কোনমতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। কাগজ কলমে ছাত্রী ২০৭ জন দেখালেও বাস্তবে ৭০ জন আছে দাবি করে সুপার জানান নিয়মিত আসে ৩০ জন কিন্তু বাস্তবে সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে ৭ ক্লাসে উপস্থিত দেখা গেছে মাত্র ১২ জন। সরেজমিনে দেখা গেছে, দশম শ্রেণিতে ১ জন ছাত্রী, ৯ম শ্রেণিতে ২ জন ছাত্রী, ৮ম শ্রেণিতে ২ জন ছাত্রী, ৭ম শ্রেণিতে ৩ জন ছাত্রী, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১ জন ছাত্রী ও ৫ম শ্রেণিতে ৩ উপস্থিত দেখা গেছে। ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারি ১৫ জনের প্রতি মাসে বেতন উত্তোলন হয় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু পনের জন শিক্ষক-কর্মচারির মধ্যেও কৃষি শিক্ষক ফারজানা ও আয়া সালমা বেগমসহ আরও কয়েকজনকে মাদ্রাসায় দেখা যায়নি।

স্থানীয় আবুল কাইউম, দুলাল ও হোসেন আলী অভিযোগ জানান, অধিকাংশ শিক্ষকই যথাযথভাবে মাদ্রাসায় আসেন না আবার এলেও দুপুরের পর আর থাকেন না। সুপার বিভিন্ন অযুহাতে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব দুরব্যবস্থার কারনে ভেঙে পরেছে মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা। মাদ্রাসায় মাসে সরকারের লাখ লাখ টাকা বেতন দিলেও তা বেস্তে যাচ্ছে বলেও স্থানীদের মাঝে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ও ছাত্রী উপস্থিতি কম থাকায় শিক্ষক কর্মচারিদের উদাসিনতাকে দায়ী করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন সমাজ। স্থানীয়রা অভিযোগে জানায়, প্রতিদিন দুপুর হলেই মাদ্রাসা ছুটি দিয়ে দেয়া হয়।

এরপর দেড়টা ২ টা টার দিকে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে মাদ্রাসার সুপারসহ শিক্ষক-কর্মচারিরা চলে যান। এছাড়া সুপার বিভিন্ন অজুহাতে যথাযথভাবে মাদ্রাসা না থেকে উপজেলা মিটিং ও কাজের দোহাই দিয়ে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন তিনি। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারিদের এমন উদাসিন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম এবং সঠিকভাবে পাঠদানও হয় না। তারাবুনিয়া আমেনা খাতুন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার রুস্তুম আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দুজন শিক্ষক-কর্মচারি মৌখিক ছুটিতে রয়েছে।

এছাড়া যথা নিয়মেই পাঠদান করানো হয়। একই এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় ছাত্রীর সংখ্যা কম এবং গ্রাম হওয়ায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম হয়। ছাত্রী বাড়ানো ও উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে শিক্ষকরা চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তফা আলম বলেন, মাদ্রাসাটি সরেজমিনে পরিদর্শন পূবর্ক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।