০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি সর কারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৫০ Time View
blank
blank

এনামুল কবীর এনাম,বদলগাছী নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দুটি বন্ধ থাকায় মাসে শতাধিক রোগী অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত । সেই সাথে সরকার হারাচ্ছেন রাজস্ব। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সচল ও একটি অচল অ্যাম্বুলেন্স প্রায় ৬ মাস ধরে ড্রাইভার না থাকায় রোগী সরবরাহ বন্ধ মর্মে হাসপাতাল সুএে জানা গেছে।
গত জুলাই মাসে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার স্বেচ্ছায় অবসরে চলে যান। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ড্রাইভার না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা বন্ধ রয়েছে। অধিক ভাড়া দিয়ে বেসরকারি মালিকানা অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নওগাঁ, রাজশাহী ও বগুড়া হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাচ্ছে সেবা বঞ্চিতরা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বদলগাছী থেকে নওগাঁ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভাড়া দিতে হত ৪০০ টাকা। অথচ বেসরকারি ও মালিকানা অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া দিতে হয় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

স্থানীয় জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স ২টি পড়ে রয়েছে, দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন কমপক্ষে ২/৫ জন রোগী এখান থেকে নওগাঁ, রাজশাহী ও বগুড়া রেফার্ড করে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় প্রায় ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে রোগী নওগাঁ ও রাজশাহী নিয়ে যায় রোগীর স্বজনরা। এই যদি হয় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা, তাহলে গরিব অসহায় মানুষ কোথায় যাবে।
উক্ত বিষয়ে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মো. আসাদ্দুজামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ড্রাইভার সংকটের কারণে দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের সেবা দিতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ড্রাইভারের জন্য অনেক বার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কানিস ফারহানা সাংবাদিক কে জানান, আমাদের জনবল সঙ্কট হওয়ার কারণে, গত প্রায় ৬ মাস থেকে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নেই। ড্রাইভারের জন্য বেশ কয়েক বার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সচল ও একটি অচল অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সচল অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক আধুনিক এবং অনেক ভালো মানের অ্যাম্বুলেন্স। এই অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থেকে নষ্ট না হয় সেই জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন আমার গাড়ির ড্রাইভার দিয়ে হাসপাতাল মাঠে কিছুক্ষণ চালিয়ে থাকি।

নওগাঁর সিভিল সার্জন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সঙ্কট হওয়ার কারণে বদলগাছীতে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নেই। বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সঙ্কট সহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছি।, যাতে করে এলাকার লোকজনের সমস্যা না হয়।
বদলগাছী উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাইদ অসুস্থ হলে বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে নওগাঁ সদরে রেফাট করলে দ্রুত নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্সের কারনে বিলম্বের কারণে তার মৃত্যু ঘটে স্হানীয় এলাকার স্বচেতন মহলের আবেগের কথা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি সর কারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ

Update Time : ১২:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪
blank
blank

এনামুল কবীর এনাম,বদলগাছী নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দুটি বন্ধ থাকায় মাসে শতাধিক রোগী অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত । সেই সাথে সরকার হারাচ্ছেন রাজস্ব। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সচল ও একটি অচল অ্যাম্বুলেন্স প্রায় ৬ মাস ধরে ড্রাইভার না থাকায় রোগী সরবরাহ বন্ধ মর্মে হাসপাতাল সুএে জানা গেছে।
গত জুলাই মাসে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার স্বেচ্ছায় অবসরে চলে যান। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ড্রাইভার না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা বন্ধ রয়েছে। অধিক ভাড়া দিয়ে বেসরকারি মালিকানা অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নওগাঁ, রাজশাহী ও বগুড়া হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাচ্ছে সেবা বঞ্চিতরা। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বদলগাছী থেকে নওগাঁ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভাড়া দিতে হত ৪০০ টাকা। অথচ বেসরকারি ও মালিকানা অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া দিতে হয় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

স্থানীয় জামায়াত নেতা জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স ২টি পড়ে রয়েছে, দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন কমপক্ষে ২/৫ জন রোগী এখান থেকে নওগাঁ, রাজশাহী ও বগুড়া রেফার্ড করে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় প্রায় ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে রোগী নওগাঁ ও রাজশাহী নিয়ে যায় রোগীর স্বজনরা। এই যদি হয় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা, তাহলে গরিব অসহায় মানুষ কোথায় যাবে।
উক্ত বিষয়ে
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মো. আসাদ্দুজামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ড্রাইভার সংকটের কারণে দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের সেবা দিতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ড্রাইভারের জন্য অনেক বার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কানিস ফারহানা সাংবাদিক কে জানান, আমাদের জনবল সঙ্কট হওয়ার কারণে, গত প্রায় ৬ মাস থেকে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নেই। ড্রাইভারের জন্য বেশ কয়েক বার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সচল ও একটি অচল অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সচল অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক আধুনিক এবং অনেক ভালো মানের অ্যাম্বুলেন্স। এই অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থেকে নষ্ট না হয় সেই জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন আমার গাড়ির ড্রাইভার দিয়ে হাসপাতাল মাঠে কিছুক্ষণ চালিয়ে থাকি।

নওগাঁর সিভিল সার্জন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সঙ্কট হওয়ার কারণে বদলগাছীতে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার নেই। বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার সঙ্কট সহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছি।, যাতে করে এলাকার লোকজনের সমস্যা না হয়।
বদলগাছী উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাইদ অসুস্থ হলে বদলগাছী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে নওগাঁ সদরে রেফাট করলে দ্রুত নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্সের কারনে বিলম্বের কারণে তার মৃত্যু ঘটে স্হানীয় এলাকার স্বচেতন মহলের আবেগের কথা।