১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় রাজাপালংয়ে অবস্থিত, রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসার পরিদর্শন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৭৯ Time View
blank
blank

শাকুর মাহমুদ ,উখিয়া (কক্সবাজার):

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং, জাদিমুড়া স্টেশনে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত আধুনিক নকশায় গঠিত এবং প্রসিদ্ধ পদ্ধতিতে পরিচালিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসা” বর্তমানে একটি আলোচিত শিক্ষা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও উন্নয়ন মূলত মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব শাহা আলম কোম্পানির আর্থিক ও সার্বিক সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে মাদ্রাসাটি দ্রুত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে এটি এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্লে, নার্সারি, প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণী, তৃতীয় শ্রেণী, চতুর্থ শ্রেণী, ও পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কার্যক্রমটি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং শিক্ষার্থীরা এখান থেকে আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সঠিক মিশ্রণ লাভ করছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে, রাজাপালং মাদ্রাসার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা সৈয়েদ মনাজের আহসান এবং উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়ার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাকুর মাহমুদ চৌধুরী মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। তাঁরা মাদ্রাসার সমাপনী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার হল রুমসহ শ্রেণীকক্ষগুলো পরিদর্শন করেন এবং মাদ্রাসার পাঠদান কার্যক্রম ও পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মাওলানা সৈয়েদ মনাজের আহসান মাদ্রাসার পরিবেশ এবং শিক্ষার মান নিয়ে অত্যন্ত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাহমানিয়া মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক বিকাশ ঘটানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষকদের দক্ষতা এবং নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। মাদ্রাসার পরিচালনা অত্যন্ত সুন্দর এবং দায়িত্বশীল।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে, যা আমাদের যুব সমাজের শুদ্ধতা এবং উৎকর্ষে সহায়ক হবে।

সাংবাদিক শাকুর মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই মাদ্রাসাটি এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়। যেখানে সাধারণত শিক্ষার জন্য নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানের দেখা মেলে, সেখানে রাহমানিয়া মাদ্রাসা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার মিশ্রণ ঘটিয়ে এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এটি আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং এখানকার শিক্ষার মান আরও উচ্চতর হবে।

মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব শাহা আলম কোম্পানি মাদ্রাসাটি পরিদর্শন শেষে বলেন, রাহমানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিলো একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক এবং দ্বীনি শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে নয়, বরং ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আমি আনন্দিত যে, আজকের পরিদর্শনে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম এবং পরিপূরক পরিবেশ পরিদর্শকদের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভবিষ্যতে আরও নতুন শ্রেণী চালু করব এবং শিক্ষার মান আরো উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করব। আমি আশাবাদী, আমাদের এই প্রয়াস এলাকার শিশুদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা কমিটি এবং অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমরা সবাই মিলে মাদ্রাসাকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবো।

রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বিত একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন শ্রেণী চালু, শিক্ষার আধুনিক উপকরণের ব্যবহার এবং ছাত্রদের উন্নতির জন্য নতুন কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বস্ত ও আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ: শ্রেণী কক্ষগুলো সজ্জিত এবং পাঠদান অত্যন্ত সুষ্ঠু ও উন্নত। রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসা এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাজে ভূমিকা রাখছে, এবং ভবিষ্যতে এর উন্নতি ও বিস্তৃতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

উখিয়ায় রাজাপালংয়ে অবস্থিত, রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসার পরিদর্শন

Update Time : ০৯:১৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
blank
blank

শাকুর মাহমুদ ,উখিয়া (কক্সবাজার):

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং, জাদিমুড়া স্টেশনে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত আধুনিক নকশায় গঠিত এবং প্রসিদ্ধ পদ্ধতিতে পরিচালিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসা” বর্তমানে একটি আলোচিত শিক্ষা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও উন্নয়ন মূলত মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব শাহা আলম কোম্পানির আর্থিক ও সার্বিক সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে মাদ্রাসাটি দ্রুত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে এটি এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থীদের জন্য প্লে, নার্সারি, প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণী, তৃতীয় শ্রেণী, চতুর্থ শ্রেণী, ও পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কার্যক্রমটি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং শিক্ষার্থীরা এখান থেকে আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সঠিক মিশ্রণ লাভ করছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে, রাজাপালং মাদ্রাসার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাওলানা সৈয়েদ মনাজের আহসান এবং উপজেলা প্রেসক্লাব উখিয়ার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাকুর মাহমুদ চৌধুরী মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। তাঁরা মাদ্রাসার সমাপনী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার হল রুমসহ শ্রেণীকক্ষগুলো পরিদর্শন করেন এবং মাদ্রাসার পাঠদান কার্যক্রম ও পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মাওলানা সৈয়েদ মনাজের আহসান মাদ্রাসার পরিবেশ এবং শিক্ষার মান নিয়ে অত্যন্ত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাহমানিয়া মাদ্রাসা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক বিকাশ ঘটানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষকদের দক্ষতা এবং নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। মাদ্রাসার পরিচালনা অত্যন্ত সুন্দর এবং দায়িত্বশীল।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি ধর্মীয় শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে, যা আমাদের যুব সমাজের শুদ্ধতা এবং উৎকর্ষে সহায়ক হবে।

সাংবাদিক শাকুর মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই মাদ্রাসাটি এলাকার জন্য একটি গর্বের বিষয়। যেখানে সাধারণত শিক্ষার জন্য নানা ধরনের প্রতিষ্ঠানের দেখা মেলে, সেখানে রাহমানিয়া মাদ্রাসা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার মিশ্রণ ঘটিয়ে এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এটি আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং এখানকার শিক্ষার মান আরও উচ্চতর হবে।

মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ্ব শাহা আলম কোম্পানি মাদ্রাসাটি পরিদর্শন শেষে বলেন, রাহমানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিলো একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক এবং দ্বীনি শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে নয়, বরং ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আমি আনন্দিত যে, আজকের পরিদর্শনে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম এবং পরিপূরক পরিবেশ পরিদর্শকদের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভবিষ্যতে আরও নতুন শ্রেণী চালু করব এবং শিক্ষার মান আরো উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করব। আমি আশাবাদী, আমাদের এই প্রয়াস এলাকার শিশুদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা কমিটি এবং অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমরা সবাই মিলে মাদ্রাসাকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবো।

রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বিত একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন শ্রেণী চালু, শিক্ষার আধুনিক উপকরণের ব্যবহার এবং ছাত্রদের উন্নতির জন্য নতুন কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বস্ত ও আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ: শ্রেণী কক্ষগুলো সজ্জিত এবং পাঠদান অত্যন্ত সুষ্ঠু ও উন্নত। রাহমানিয়া তাহফিজুল কোরআন ও নূরানী মাদ্রাসা এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাজে ভূমিকা রাখছে, এবং ভবিষ্যতে এর উন্নতি ও বিস্তৃতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।