
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর পৌর শহরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, গালিগালাজ ও জমি দখলের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মোঃ আমিনুর রহমান (৪৩) নামে এক ব্যক্তি।
আমিনুর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের মূলগ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সানার ছেলে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌর শহরের ২৮ নম্বর ভোগতী নরেন্দ্রপুর মৌজায় এসএ খতিয়ান নম্বর ১০৯৬, এসএ দাগ নম্বর ১১৬৮, আরএস খতিয়ান নম্বর ১৮০ এবং আরএস দাগ নম্বর ২৮৯৮-এর অন্তর্ভুক্ত ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর বাবা ১৯৮৬ সালে জমিটি ক্রয় করে রেজিস্ট্রি ও নামজারি সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে তাঁরা সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আমিনুর রহমান।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন কাস্তা গ্রামের এরফান সরদারের ছেলে জিয়ার সরদার এবং ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত খয়রাত আলী সরদারের ছেলে হযরত আলী সরদার, মোঃ গনি সরদার, ওসমান সরদার, তুরফান সরদার, সকিনা বিবি, সুখজান বিবি, হাজেরা খাতুন ও তারা বিবি।
অভিযোগকারী আরও জানান, সীমানাপ্রাচীর ভাঙার কারণ জানতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করেন। এ সময় জমি দখলসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এর আগেও জমি দখলের উদ্দেশ্যে বসতঘরে তালা লাগানো এবং গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান আমিনুর রহমান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, পৌর শহরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










