১০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে থানা প্রেসক্লাব সভাপতির দুই পুত্র’কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার এবং কেশবপুর থানায় অভিযোগ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪০ Time View
blank
blank

 

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুরে ক্যারাম খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে আজাদ ইকতিয়ারের দুই ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি লোহার রড, হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে দুই ভাইকে মারধর করেন। এ ঘটনায় বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কেশবপুর পৌরসভার আনতাপোল এলাকার বাসিন্দা এ কে আজাদ ইকতিয়ার কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কেশবপুর থানাধীন থানার মোড় ডাকবাংলা রোড সংলগ্ন একটি মুদি দোকানের ভেতরে ক্যারাম খেলার সময় এ কে আজাদ ইকতিয়ারের ছেলে তৌফিক আজাদ মাহিন (১৮)-এর সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তৌফিককে উদ্ধার করে বিষয়টি তার বড় ভাই মুস্তাফিক আজাদ প্রান্ত (২৬)-কে মোবাইল ফোনে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে বড় ভাই মুস্তাফিক আজাদ প্রান্ত ঘটনাস্থলে গেলে তার ছোট ভাইকে মারধরের কারণ জানতে চান। এ সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগকারীর দাবি, একপর্যায়ে ১ নম্বর অভিযুক্ত জাহিদ বিশ্বাস, ২ নম্বর অভিযুক্ত মো. আবু সাঈদ ও ৩ নম্বর অভিযুক্ত মো. সোহাগ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জন ব্যক্তি লোহার রড, হাতুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুস্তাফিক আজাদ প্রান্তের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলার একপর্যায়ে তার হাতে ও দুই হাঁটুতে সাধারণ কাটা-জখম হয় এবং পায়ের হাড়ের ফুলে যাওয়ার মতো আঘাতের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। পরে আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে ছোট ছেলে তৌফিক আজাদ মাহিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বড় ছেলে মুস্তাফিক আজাদ প্রান্তকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বড় ছেলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে এ কে আজাদ ইকতিয়ার অভিযুক্ত হিসেবে জাহিদ বিশ্বাস (৩০), পিতা-মৃত জালাল বিশ্বাস; মো. আবু সাঈদ (১৯), পিতা-মৃত জালাল বিশ্বাস; এবং মো. সোহাগ হোসেন (৩০), পিতা-মৃত রিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাস-এর নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগে তাদের ঠিকানা আনতাপোল, কেশবপুর পৌরসভা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, কেশবপুর, যশোর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তার দুই ছেলেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. রায়হান বিশ্বাস (৬০), পিতা-মৃত শামসুর বিশ্বাস; মো. আঃ হানিম বিশ্বাস (৫৫), পিতা-মৃত আঃ রহিম বিশ্বাস এবং মুক্তি বিশ্বাস (৫৫), স্বামী-মো. রায়হান বিশ্বাসের নাম রয়েছে।
এ কে আজাদ ইকতিয়ার অভিযোগে বলেন, তার দুই ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়েছে এবং তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

কেশবপুরে থানা প্রেসক্লাব সভাপতির দুই পুত্র’কে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার এবং কেশবপুর থানায় অভিযোগ

Update Time : ০৪:৫১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
blank
blank

 

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুরে ক্যারাম খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে আজাদ ইকতিয়ারের দুই ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি লোহার রড, হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে দুই ভাইকে মারধর করেন। এ ঘটনায় বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কেশবপুর পৌরসভার আনতাপোল এলাকার বাসিন্দা এ কে আজাদ ইকতিয়ার কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কেশবপুর থানাধীন থানার মোড় ডাকবাংলা রোড সংলগ্ন একটি মুদি দোকানের ভেতরে ক্যারাম খেলার সময় এ কে আজাদ ইকতিয়ারের ছেলে তৌফিক আজাদ মাহিন (১৮)-এর সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তৌফিককে উদ্ধার করে বিষয়টি তার বড় ভাই মুস্তাফিক আজাদ প্রান্ত (২৬)-কে মোবাইল ফোনে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে বড় ভাই মুস্তাফিক আজাদ প্রান্ত ঘটনাস্থলে গেলে তার ছোট ভাইকে মারধরের কারণ জানতে চান। এ সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগকারীর দাবি, একপর্যায়ে ১ নম্বর অভিযুক্ত জাহিদ বিশ্বাস, ২ নম্বর অভিযুক্ত মো. আবু সাঈদ ও ৩ নম্বর অভিযুক্ত মো. সোহাগ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জন ব্যক্তি লোহার রড, হাতুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুস্তাফিক আজাদ প্রান্তের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলার একপর্যায়ে তার হাতে ও দুই হাঁটুতে সাধারণ কাটা-জখম হয় এবং পায়ের হাড়ের ফুলে যাওয়ার মতো আঘাতের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। পরে আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে ছোট ছেলে তৌফিক আজাদ মাহিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বড় ছেলে মুস্তাফিক আজাদ প্রান্তকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বড় ছেলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে এ কে আজাদ ইকতিয়ার অভিযুক্ত হিসেবে জাহিদ বিশ্বাস (৩০), পিতা-মৃত জালাল বিশ্বাস; মো. আবু সাঈদ (১৯), পিতা-মৃত জালাল বিশ্বাস; এবং মো. সোহাগ হোসেন (৩০), পিতা-মৃত রিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাস-এর নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগে তাদের ঠিকানা আনতাপোল, কেশবপুর পৌরসভা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, কেশবপুর, যশোর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তার দুই ছেলেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. রায়হান বিশ্বাস (৬০), পিতা-মৃত শামসুর বিশ্বাস; মো. আঃ হানিম বিশ্বাস (৫৫), পিতা-মৃত আঃ রহিম বিশ্বাস এবং মুক্তি বিশ্বাস (৫৫), স্বামী-মো. রায়হান বিশ্বাসের নাম রয়েছে।
এ কে আজাদ ইকতিয়ার অভিযোগে বলেন, তার দুই ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়েছে এবং তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।