০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৩১ Time View
blank
blank

 

পরেশ দেবনাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি

“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে যশোরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেশবপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলা মিলে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্পের আওতায় ফরেইন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন-২৬) সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে দিনভর যশোরের আরআরএফ ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারে এ অনুষ্ঠানে কেশবপুরের মহাপ্রভু ভগবত সেবা সংঘের সম্পাদক অমিতেষ দাশ-এর সভাপতিত্বে এবং বাঘারপাড়া পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর সমন্বয়কারী মোঃ ইকরামুল কবির মিঠু-এর সঞ্চালনায়
প্রধান আলোচক ও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের এমঅ্যান্ডই, রিসার্চ অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট ফাতেমা মাহমুদা, কর্মকর্তা সায়্যেদুল ইসলাম, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ খোরশেদ আলম, ফিল্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অধীশ দাশ এবং এরিয়া কো-অর্ডিনেটর এস.এম. রাজু জবেদ, প্রবিণ সাংবাদিক পরেশ দেবনাথ। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মোঃ আশরাফুজ্জামান।
সংলাপে বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী, তরুণ এবং স্থানীয় নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যশোর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং মানবতার চর্চার মধ্য দিয়েই সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
খ্রিষ্টান প্রতিনিধি মাধবী মণ্ডল বলেন, “মানুষের প্রতি সহমর্মিতাই পারে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে।”
পুনিহার জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মুফতি সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবেশীর অধিকার আদায় এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
বাংলাদেশ দলিত পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার দাশ বলেন, সার্বজনিনতা ও মানুষের মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে পারলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
কেশবপুর ওয়ার্ড সভাপতি ও কেশবপুর খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আকমল হোসেন বলেন, হাঙ্গার প্রজেক্টের মাধ্যমে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তা উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আরো বেশি কাজ করে যেতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন, বাঘারপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রনয় সরকার, গাইদ ঘাট উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোঃ ওলিয়ার রহমান, পুরোহিত উত্তম কুমার দাস, বাঘারপাড়া খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন (পালক)-এর সভাপতি উত্তম কুমার মণ্ডল, কেশবপুর YPAC-এর সদস্য রাজিয়া সুলতানা প্রমূখ।
বক্তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, সংলাপ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি, সঠিক জ্ঞানের প্রসার এবং সর্বধর্মীয় অংশগ্রহণমূলক প্ল্যাটফর্ম গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপ থেকে বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলায় সম্প্রীতি কর্নার স্থাপন এবং সর্বধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাঘারপাড়ায় আগামী জুলাই-২৬ মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং কেশবপুরে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এ প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হবে বলে জানান।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি একটি শান্তি-সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ করেন মোঃ নজরুল ইসলাম, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন প্রণয় সরকার ও পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন মাধবী রাণী মণ্ডল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

যশোরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৩:০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
blank
blank

 

পরেশ দেবনাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি

“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে যশোরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেশবপুর ও বাঘারপাড়া উপজেলা মিলে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্পের আওতায় ফরেইন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন-২৬) সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে দিনভর যশোরের আরআরএফ ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারে এ অনুষ্ঠানে কেশবপুরের মহাপ্রভু ভগবত সেবা সংঘের সম্পাদক অমিতেষ দাশ-এর সভাপতিত্বে এবং বাঘারপাড়া পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর সমন্বয়কারী মোঃ ইকরামুল কবির মিঠু-এর সঞ্চালনায়
প্রধান আলোচক ও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের এমঅ্যান্ডই, রিসার্চ অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট ফাতেমা মাহমুদা, কর্মকর্তা সায়্যেদুল ইসলাম, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ খোরশেদ আলম, ফিল্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অধীশ দাশ এবং এরিয়া কো-অর্ডিনেটর এস.এম. রাজু জবেদ, প্রবিণ সাংবাদিক পরেশ দেবনাথ। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মোঃ আশরাফুজ্জামান।
সংলাপে বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী, তরুণ এবং স্থানীয় নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যশোর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং মানবতার চর্চার মধ্য দিয়েই সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
খ্রিষ্টান প্রতিনিধি মাধবী মণ্ডল বলেন, “মানুষের প্রতি সহমর্মিতাই পারে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে।”
পুনিহার জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মুফতি সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবেশীর অধিকার আদায় এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
বাংলাদেশ দলিত পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার দাশ বলেন, সার্বজনিনতা ও মানুষের মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে পারলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
কেশবপুর ওয়ার্ড সভাপতি ও কেশবপুর খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আকমল হোসেন বলেন, হাঙ্গার প্রজেক্টের মাধ্যমে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তা উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আরো বেশি কাজ করে যেতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন, বাঘারপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রনয় সরকার, গাইদ ঘাট উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোঃ ওলিয়ার রহমান, পুরোহিত উত্তম কুমার দাস, বাঘারপাড়া খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন (পালক)-এর সভাপতি উত্তম কুমার মণ্ডল, কেশবপুর YPAC-এর সদস্য রাজিয়া সুলতানা প্রমূখ।
বক্তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, সংলাপ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি, সঠিক জ্ঞানের প্রসার এবং সর্বধর্মীয় অংশগ্রহণমূলক প্ল্যাটফর্ম গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপ থেকে বাঘারপাড়া ও কেশবপুর উপজেলায় সম্প্রীতি কর্নার স্থাপন এবং সর্বধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাঘারপাড়ায় আগামী জুলাই-২৬ মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং কেশবপুরে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এ প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হবে বলে জানান।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি একটি শান্তি-সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ করেন মোঃ নজরুল ইসলাম, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন প্রণয় সরকার ও পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন মাধবী রাণী মণ্ডল।