০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা হ*ত্যা মা’ম’লা’য় নারীসহ গ্রে’প্তা’র ৪

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৫৬ Time View
blank
blank

 

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া এক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের বাটাম, এক জোড়া কানের দুল ও নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৪৪, তারিখ ১৯ মে ২০২৬, জিআর নং-২২৮/২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলাটি রুজু করা হয়। গত ১৯ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে এসআই মো. বেল্লাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকায় মরিয়ম বেগম (২৮) নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), তার স্বামী রুবেল হোসেন (৩৫), শ্বশুর আনোয়ার হোসেন (৫৫) এবং দীপক সাহা (৩৫)। পুলিশ জানায়, নিহত মরিয়ম বেগম দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে সুমাইয়া আক্তার সুমির মেয়েকে পড়াতেন। গত ১৮ মে সকালে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে মরিয়ম বেগম অর্থ সংকটের কথা বলেন এবং টাকা ধার চান। পরে নিজের কানের দুল বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, সুমি ওই দুল দীপক সাহার কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন। একই দিন বিকেলে মরিয়ম বেগম টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমি ঘরের ভেতরে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়ম বেগমকে আঘাত করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। হত্যার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে প্রথমে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মরদেহ দুটি চটের বস্তায় ভরে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। রাতে বিষয়টি সুমি তার স্বামী ও শ্বশুরকে জানান। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়া আক্তার সুমি ও দীপক সাহা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে সুমি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

Popular Post
blank

মণিরামপুরে শ্যামকুড়বাসীর জন্য রফিকুলের প্রতিশ্রুতি চেয়ারম্যান হলে প্রতি মাসে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা হ*ত্যা মা’ম’লা’য় নারীসহ গ্রে’প্তা’র ৪

Update Time : ০২:১৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
blank
blank

 

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া এক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের বাটাম, এক জোড়া কানের দুল ও নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৪৪, তারিখ ১৯ মে ২০২৬, জিআর নং-২২৮/২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলাটি রুজু করা হয়। গত ১৯ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে এসআই মো. বেল্লাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকায় মরিয়ম বেগম (২৮) নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), তার স্বামী রুবেল হোসেন (৩৫), শ্বশুর আনোয়ার হোসেন (৫৫) এবং দীপক সাহা (৩৫)। পুলিশ জানায়, নিহত মরিয়ম বেগম দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে সুমাইয়া আক্তার সুমির মেয়েকে পড়াতেন। গত ১৮ মে সকালে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে মরিয়ম বেগম অর্থ সংকটের কথা বলেন এবং টাকা ধার চান। পরে নিজের কানের দুল বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, সুমি ওই দুল দীপক সাহার কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন। একই দিন বিকেলে মরিয়ম বেগম টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমি ঘরের ভেতরে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়ম বেগমকে আঘাত করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। হত্যার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে প্রথমে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মরদেহ দুটি চটের বস্তায় ভরে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। রাতে বিষয়টি সুমি তার স্বামী ও শ্বশুরকে জানান। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়া আক্তার সুমি ও দীপক সাহা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে সুমি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।