০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কপোতাক্ষ তীরে ভেঙে পড়ল মধুসূদনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বটবৃক্ষ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৯২ Time View
blank
blank

 

রিপোর্ট, শেখ মোস্তফা কামাল

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত -এর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বটবৃক্ষটি কালবৈশাখীর ভয়াবহ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। প্রবল ঝড়ের আঘাতে শতবর্ষী এই গাছটি শেকড়সহ উপড়ে গিয়ে নদীর ভেতরে পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই বটবৃক্ষটি শুধু একটি গাছ ছিল না, বরং এটি বহন করছিল মধুসূদনের শৈশব স্মৃতি ও সাহিত্যিক আবেগ। কবি এই বটগাছকে ঘিরেই একটি সনেট রচনা করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি ছিল সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ।

এলাকাবাসী আরও জানান, এই বটতলায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা করতেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ফলে এটি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি প্রতীকও।

হঠাৎ আজ(২ই-২০২৬,ইং) শনিবার দুপুরে কালবৈশাখীর তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই গাছটি ভেঙে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকার মানুষের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একটি গাছের পতন নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের অবসান।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই ঐতিহাসিক স্থানের সংরক্ষণ ও পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই স্মৃতিচিহ্নের গুরুত্ব অটুট রাখা যায়।

 

“কপোতাক্ষ নদ” (বটবৃক্ষ স্মৃতিবিজড়িত)

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে,

সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;

সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে

শোনে মায়া-যন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে

জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!

বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,

কিন্তু এ স্নেহের তৃষা মিটে কার জলে?

দুগ্ধ-সরোবর-রূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে!

আর কি হবে দেখা তব কপোতাক্ষ তীরে?

জন্মভূমি! কত দূরে আজি পড়ি আছি!

হায়! কোথা সেই বটতল, সেই ছায়া ঘেরা ঘর,

যেখানে বসি ভাবতাম কাব্যের রাশি!

এই কবিতায় তিনি তাঁর শৈশবের স্মৃতি, কপোতাক্ষ নদ এবং সেই নদীর তীরে থাকা বটবৃক্ষের প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে “সেই বটতল” লাইনটি তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বটগাছের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।

উল্লেখ্য,গত বছরে কবির স্মৃতিতে জড়িত আরও একটি গাছ (কাঠবাদাম) সেটিও উপড়ে গিয়েছিলো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কপোতাক্ষ তীরে ভেঙে পড়ল মধুসূদনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বটবৃক্ষ

Update Time : ০৩:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
blank
blank

 

রিপোর্ট, শেখ মোস্তফা কামাল

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত -এর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বটবৃক্ষটি কালবৈশাখীর ভয়াবহ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। প্রবল ঝড়ের আঘাতে শতবর্ষী এই গাছটি শেকড়সহ উপড়ে গিয়ে নদীর ভেতরে পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই বটবৃক্ষটি শুধু একটি গাছ ছিল না, বরং এটি বহন করছিল মধুসূদনের শৈশব স্মৃতি ও সাহিত্যিক আবেগ। কবি এই বটগাছকে ঘিরেই একটি সনেট রচনা করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি ছিল সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ।

এলাকাবাসী আরও জানান, এই বটতলায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা করতেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ফলে এটি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি প্রতীকও।

হঠাৎ আজ(২ই-২০২৬,ইং) শনিবার দুপুরে কালবৈশাখীর তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই গাছটি ভেঙে পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকার মানুষের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু একটি গাছের পতন নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের অবসান।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই ঐতিহাসিক স্থানের সংরক্ষণ ও পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই স্মৃতিচিহ্নের গুরুত্ব অটুট রাখা যায়।

 

“কপোতাক্ষ নদ” (বটবৃক্ষ স্মৃতিবিজড়িত)

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে,

সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;

সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে

শোনে মায়া-যন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে

জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!

বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,

কিন্তু এ স্নেহের তৃষা মিটে কার জলে?

দুগ্ধ-সরোবর-রূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে!

আর কি হবে দেখা তব কপোতাক্ষ তীরে?

জন্মভূমি! কত দূরে আজি পড়ি আছি!

হায়! কোথা সেই বটতল, সেই ছায়া ঘেরা ঘর,

যেখানে বসি ভাবতাম কাব্যের রাশি!

এই কবিতায় তিনি তাঁর শৈশবের স্মৃতি, কপোতাক্ষ নদ এবং সেই নদীর তীরে থাকা বটবৃক্ষের প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে “সেই বটতল” লাইনটি তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বটগাছের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।

উল্লেখ্য,গত বছরে কবির স্মৃতিতে জড়িত আরও একটি গাছ (কাঠবাদাম) সেটিও উপড়ে গিয়েছিলো।