০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে কেশবপুরের পিএফজির উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • ৪৩ Time View
blank
blank

 

পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি

“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর এমআইপিএস প্রকল্পের আওতায় কেশবপুরের পিএফজির উদ্যোগে এক সম্প্রীতির সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শণিবার (১৪ মার্চ-২৬) কেশবপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ ওই সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে সামাজিক ঐক্যের আহ্বান বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, পিস অ্যাম্বাসেডর সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসেন। প্রধান সমন্বয়কারী কবি মুনছুর আজাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দীন আলা।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা সম্প্রীতি রক্ষা, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং মাদক নির্মূল বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসাথে কাজ করতে না পারলে কিশোর অপরাধ ও সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।
অধ্যাপক আবু জাফর কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে আলিয়া মাদ্রাসার খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। কেশবপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মেহেদি হাসান বলেন, অনেক সময় কলেজে ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল যোগাযোগের অপব্যবহারও দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে দেয়।
বিএনপি নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা কমিটি গঠন এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। খ্রিস্টান প্রতিনিধি মানিক দাশ বলেন, অনুপযুক্ত মানুষ উপযুক্ত স্থানে অবস্থান করলে সম্প্রীতি নষ্ট হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হাফেজ মাওলানা হাফিজুর রহমান ধর্মীয় বয়ানের মাধ্যমে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেন।
কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম পারিবারিক ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সংঘাতের কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আটজন মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। পিস অ্যাম্বাসেডর সুফিয়া পারভিন শিখা বলেন, অল্প বয়সে সম্পর্ক ও বাল্যবিবাহ অনেক সময় সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে যা পরে বড় সংঘাতে রূপ নেয়।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এস.এম.রাজু জবেদ সর্বধর্মীয় ঐক্য পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে সম্প্রীতি বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসাইন বলেন, সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কর্মসূচির পর নিয়মিত ফলোআপ জরুরি। তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে হামলার শিকার হলেও তারা সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কাজ থেকে পিছিয়ে পড়বে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

কেশবপুরে কেশবপুরের পিএফজির উদ্যোগে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Update Time : ০২:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
blank
blank

 

পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি

“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর এমআইপিএস প্রকল্পের আওতায় কেশবপুরের পিএফজির উদ্যোগে এক সম্প্রীতির সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শণিবার (১৪ মার্চ-২৬) কেশবপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ ওই সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে সামাজিক ঐক্যের আহ্বান বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, পিস অ্যাম্বাসেডর সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসেন। প্রধান সমন্বয়কারী কবি মুনছুর আজাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দীন আলা।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা সম্প্রীতি রক্ষা, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং মাদক নির্মূল বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসাথে কাজ করতে না পারলে কিশোর অপরাধ ও সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।
অধ্যাপক আবু জাফর কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে আলিয়া মাদ্রাসার খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। কেশবপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মেহেদি হাসান বলেন, অনেক সময় কলেজে ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল যোগাযোগের অপব্যবহারও দ্বন্দ্ব বাড়িয়ে দেয়।
বিএনপি নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা কমিটি গঠন এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। খ্রিস্টান প্রতিনিধি মানিক দাশ বলেন, অনুপযুক্ত মানুষ উপযুক্ত স্থানে অবস্থান করলে সম্প্রীতি নষ্ট হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হাফেজ মাওলানা হাফিজুর রহমান ধর্মীয় বয়ানের মাধ্যমে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দেন।
কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম পারিবারিক ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সংঘাতের কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আটজন মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। পিস অ্যাম্বাসেডর সুফিয়া পারভিন শিখা বলেন, অল্প বয়সে সম্পর্ক ও বাল্যবিবাহ অনেক সময় সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে যা পরে বড় সংঘাতে রূপ নেয়।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এস.এম.রাজু জবেদ সর্বধর্মীয় ঐক্য পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে সম্প্রীতি বজায় রাখতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসাইন বলেন, সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কর্মসূচির পর নিয়মিত ফলোআপ জরুরি। তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে হামলার শিকার হলেও তারা সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার কাজ থেকে পিছিয়ে পড়বে না।