০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সখীপুরে টাকা না পেয়ে নানিকে নৃশংসভাবে হত্যা। ৮ ঘণ্টার মধ্যে নাতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশের চৌকস দল

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১১:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩ Time View
blank
blank

 

মোঃ মেরাজ শিকদার,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে টাকা চেয়ে না পেয়ে নানিকে হাতুড়ি ও দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে সখীপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় পুলিশের তৎপরতা ও দক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা চলছে।
নিহত নারীর নাম বেদেনা কোচ (৬৫)। তিনি উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পরেশ চন্দ্র কোচের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের নাতি নয়ন কোচ (১৮) মঙ্গলবার বিকেলে নানির কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই নয়ন কোচ নানিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
রাত নয়টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ কালিদাস বাজারে গেলে নয়ন কোচ নানির বাড়িতে অবস্থান নেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে বেদেনা কোচের মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর দা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর বিছানার ওপর রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরেশ কোচ বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপরই শুরু হয় অভিযান। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা কৌশল কাজে লাগিয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটার দিকে সখীপুরের সীমান্ত এলাকা থেকে অভিযুক্ত নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। নয়ন কোচ উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি ওই গ্রামের শ্যামল কোচের ছেলে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন কোচ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। নয়ন কোচ দাবি করেন, নানি তাঁর সঙ্গে সব সময় খারাপ আচরণ করতেন।
এ ঘটনায় বুধবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে নাতি নয়ন কোচকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

সখীপুরে টাকা না পেয়ে নানিকে নৃশংসভাবে হত্যা। ৮ ঘণ্টার মধ্যে নাতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশের চৌকস দল

Update Time : ১১:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank
blank

 

মোঃ মেরাজ শিকদার,টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে টাকা চেয়ে না পেয়ে নানিকে হাতুড়ি ও দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে সখীপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় পুলিশের তৎপরতা ও দক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা চলছে।
নিহত নারীর নাম বেদেনা কোচ (৬৫)। তিনি উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পরেশ চন্দ্র কোচের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের নাতি নয়ন কোচ (১৮) মঙ্গলবার বিকেলে নানির কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাতেই নয়ন কোচ নানিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
রাত নয়টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ কালিদাস বাজারে গেলে নয়ন কোচ নানির বাড়িতে অবস্থান নেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে বেদেনা কোচের মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর দা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর বিছানার ওপর রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরেশ কোচ বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপরই শুরু হয় অভিযান। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা কৌশল কাজে লাগিয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটার দিকে সখীপুরের সীমান্ত এলাকা থেকে অভিযুক্ত নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। নয়ন কোচ উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি ওই গ্রামের শ্যামল কোচের ছেলে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন কোচ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। নয়ন কোচ দাবি করেন, নানি তাঁর সঙ্গে সব সময় খারাপ আচরণ করতেন।
এ ঘটনায় বুধবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে নাতি নয়ন কোচকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের আগেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।