০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরের খান তৌহিদ কামাল ৪৪তম বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত:এলাকায় আনন্দ ও খুশির বন্যা

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১১:১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৪ Time View
blank
blank

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক প্রকাশিত ৪৪তম বিসিএসের সংশোধিত ফলাফলে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কৃতি সন্তান খান তৌহিদ কামাল প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সংশোধিত ফলাফলে এক হাজার ৬৮১ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এই আনন্দের খবর কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাস্তা গ্রামে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। মৃত মাস্টার জামশেদ আলী খানের ছোট ছেলে খান তৌহিদ কামাল এই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করায় পুরো এলাকায় আনন্দ ও খুশির বন্যা বইছে। তার এই অর্জন গ্রামের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।তৌহিদ কামালের এমন সাফল্যে এলাকাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

কাস্তা গ্রামের একজন প্রবীণ ব্যক্তি মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, তৌহিদ ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী। তার বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে বড় কর্মকর্তা হিসেবে দেখবে। আজ তৌহিদ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আমরা সবাই তার এই সাফল্যে গর্বিত। তৌহিদ আমাদের এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে।
তৌহিদের প্রতিবেশী মোঃ সজিব জানান, তৌহিদ সবসময়ই পড়ালেখার প্রতি ভীষণ মনোযোগী ছিল। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সে তার লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। তার এই সফলতা আমাদের সবার জন্য খুশির সংবাদ।
ওই গ্রামের ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হাসান বলেন, তৌহিদের ভাইয়ের এই অর্জন প্রমাণ করে, সঠিক চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে। সে আমাদের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা দোয়া করি তিনি যেন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। খান তৌহিদ কামাল তার অদম্য চেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে এই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তার এই জয় শুধু তার পরিবারের নয়, সমগ্র কেশবপুরবাসীর জন্য এক বিরাট আনন্দের বার্তা।
৪৪তম বিসিএস-এ প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত খান তৌহিদ কামালের বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাকে এই বিশাল অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আজ আমি ৪৪তম বিসিএসে প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই আনন্দের মুহূর্তে প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমার মাতা-পিতার প্রতি। বিশেষত আমার বাবা, মৃত মাস্টার জামশেদ খান-এর স্বপ্ন ছিল আমাকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেখা। আজ হয়তো তিনি এই দুনিয়াতে নেই, কিন্তু তাঁর দেখানো পথ এবং মায়ের অনুপ্রেরণাই আমার এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। তাদের দোয়া ও আত্মত্যাগ ছাড়া এই স্বপ্ন কখনোই পূরণ হতো না। আমার জন্মস্থান যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাস্তা গ্রামের সকল মুরব্বি, এলাকাবাসী এবং বন্ধুদের প্রতি আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনারা আমার জন্য যে ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন, তা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনাদের সকলের দোয়া ও শুভাশিসই আমার এগিয়ে চলার পথে পাথেয়। তারই পাশাপাশি আমার সকল শিক্ষক প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যাঁরা আমাকে জ্ঞান দান করেছেন, তাদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের সঠিক নির্দেশনা ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছানো খুবই কঠিন ছিল।
বিসিএস যাত্রাটি ছিল দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমি মনে করি, দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং নিরবচ্ছিন্ন অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। আজকের এই ফলাফল আমাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
তিনি আমি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা স্বপ্ন দেখুন, বড় স্বপ্ন দেখুন। আপনারা যদি মন থেকে চান তাহলে লক্ষ্য স্থির করে কাজ করেন, কোনো বাঁধাই আপনাদের থামাতে পারবে না। গ্রাম বা শহরের ভেদাভেদ সাফল্যের পথে কোনো বাধা নয়। শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং নিরলস প্রচেষ্টা। আজ থেকে আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দেশের জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। আমি সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবো এবং আমার জন্মস্থান কেশবপুরসহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমি একজন সৎ, দক্ষ এবং জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

কেশবপুরের খান তৌহিদ কামাল ৪৪তম বিসিএস সুপারিশপ্রাপ্ত:এলাকায় আনন্দ ও খুশির বন্যা

Update Time : ১১:১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
blank
blank

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক প্রকাশিত ৪৪তম বিসিএসের সংশোধিত ফলাফলে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কৃতি সন্তান খান তৌহিদ কামাল প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সংশোধিত ফলাফলে এক হাজার ৬৮১ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এই আনন্দের খবর কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাস্তা গ্রামে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। মৃত মাস্টার জামশেদ আলী খানের ছোট ছেলে খান তৌহিদ কামাল এই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করায় পুরো এলাকায় আনন্দ ও খুশির বন্যা বইছে। তার এই অর্জন গ্রামের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।তৌহিদ কামালের এমন সাফল্যে এলাকাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

কাস্তা গ্রামের একজন প্রবীণ ব্যক্তি মাওলানা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, তৌহিদ ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী। তার বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে বড় কর্মকর্তা হিসেবে দেখবে। আজ তৌহিদ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। আমরা সবাই তার এই সাফল্যে গর্বিত। তৌহিদ আমাদের এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে।
তৌহিদের প্রতিবেশী মোঃ সজিব জানান, তৌহিদ সবসময়ই পড়ালেখার প্রতি ভীষণ মনোযোগী ছিল। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সে তার লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। তার এই সফলতা আমাদের সবার জন্য খুশির সংবাদ।
ওই গ্রামের ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হাসান বলেন, তৌহিদের ভাইয়ের এই অর্জন প্রমাণ করে, সঠিক চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে। সে আমাদের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা দোয়া করি তিনি যেন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। খান তৌহিদ কামাল তার অদম্য চেষ্টা ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে এই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তার এই জয় শুধু তার পরিবারের নয়, সমগ্র কেশবপুরবাসীর জন্য এক বিরাট আনন্দের বার্তা।
৪৪তম বিসিএস-এ প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত খান তৌহিদ কামালের বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাকে এই বিশাল অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আজ আমি ৪৪তম বিসিএসে প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই আনন্দের মুহূর্তে প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমার মাতা-পিতার প্রতি। বিশেষত আমার বাবা, মৃত মাস্টার জামশেদ খান-এর স্বপ্ন ছিল আমাকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেখা। আজ হয়তো তিনি এই দুনিয়াতে নেই, কিন্তু তাঁর দেখানো পথ এবং মায়ের অনুপ্রেরণাই আমার এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। তাদের দোয়া ও আত্মত্যাগ ছাড়া এই স্বপ্ন কখনোই পূরণ হতো না। আমার জন্মস্থান যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাস্তা গ্রামের সকল মুরব্বি, এলাকাবাসী এবং বন্ধুদের প্রতি আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনারা আমার জন্য যে ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন, তা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনাদের সকলের দোয়া ও শুভাশিসই আমার এগিয়ে চলার পথে পাথেয়। তারই পাশাপাশি আমার সকল শিক্ষক প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যাঁরা আমাকে জ্ঞান দান করেছেন, তাদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের সঠিক নির্দেশনা ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছানো খুবই কঠিন ছিল।
বিসিএস যাত্রাটি ছিল দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমি মনে করি, দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং নিরবচ্ছিন্ন অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। আজকের এই ফলাফল আমাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
তিনি আমি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা স্বপ্ন দেখুন, বড় স্বপ্ন দেখুন। আপনারা যদি মন থেকে চান তাহলে লক্ষ্য স্থির করে কাজ করেন, কোনো বাঁধাই আপনাদের থামাতে পারবে না। গ্রাম বা শহরের ভেদাভেদ সাফল্যের পথে কোনো বাধা নয়। শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং নিরলস প্রচেষ্টা। আজ থেকে আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দেশের জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। আমি সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাবো এবং আমার জন্মস্থান কেশবপুরসহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমি একজন সৎ, দক্ষ এবং জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারি।