১০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে সদ্য ঘোষিত বিএনপির ৬টি ইউনিয়ন কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬৩ Time View
blank
blank

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে সদ্য ঘোষিত বিএনপির ছয়টি ইউনিয়ন কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ত্যাগী, কারা নির্যাতিত, যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ এনে তা দ্রুত বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নবগঠিত কমিটিতে বিগত সময়ে কারা নির্যাতনের শিকার হওয়া ত্যাগী, যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে যোগ্যদের বাদ দিয়ে সুবিধামতো লোকদের নিয়ে পকেট কমিটি করা হয়েছে। দলের ত্যাগী নেতারা বিভিন্ন ইউনিয়নের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, অথচ নতুন কমিটিতে তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। বিএনপি হচ্ছে ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতাকর্মীদের দল, কিন্তু সদ্য ঘোষিত ছয়টি ইউনিয়ন কমিটিতে মাঠে থাকা কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়নি; এ কারণে প্রকৃত নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দ্বারা প্রত্যায়িত নেতা আ. সাত্তার বিগত দিনে সব নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থীদের অর্থদাতা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় কদমতলী থানায় একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার মামলা নম্বর ৩৪৬/২৫, তারিখ ২৯/০৫/২০২৫। তিনি আরও বলেন, ঢাকার আ. সাত্তার রাজনীতিতে স্বৈরাচারের প্রতিনিধি এবং বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি যারা ৫ তারিখের আগে মাঠে ছিলেন না, তাদেরকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলাম জানান, “আমরা সবসময় দলের নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু দলের শৃঙ্খলা রক্ষা ও তৃণমূলের ঐক্য বজায় রাখতে হলে অবিলম্বে এসব অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কমিটিগুলো বাতিল করতে হবে। অন্যথায় বাধ্য হয়ে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ফারুক, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আ. আজিজ মন্ডল, সদস্য সচিব রেজাউল করিম হক স্বপন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জার্জিস হোসেন সোহেল, খবির উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোর্সেদ শিবলী, এবং অন্যান্য নেতারা।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর উপজেলায় ১৯/০৫/২০২৫ তারিখ থেকে বিএনপির ৭টি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ২৯/০৫/২০২৫ তারিখে নাম প্রস্তাবনা গ্রহণ শেষ হয়। দীর্ঘ ৪ মাস পর রাজশাহী জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়াই ২৮/০৯/২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরীত কমিটি ০২/১০/২০২৫ তারিখে মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এর পর থেকে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

রাজশাহীর দুর্গাপুরে সদ্য ঘোষিত বিএনপির ৬টি ইউনিয়ন কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০১:৪৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
blank
blank

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে সদ্য ঘোষিত বিএনপির ছয়টি ইউনিয়ন কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ত্যাগী, কারা নির্যাতিত, যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ এনে তা দ্রুত বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নবগঠিত কমিটিতে বিগত সময়ে কারা নির্যাতনের শিকার হওয়া ত্যাগী, যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে যোগ্যদের বাদ দিয়ে সুবিধামতো লোকদের নিয়ে পকেট কমিটি করা হয়েছে। দলের ত্যাগী নেতারা বিভিন্ন ইউনিয়নের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, অথচ নতুন কমিটিতে তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে। বিএনপি হচ্ছে ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতাকর্মীদের দল, কিন্তু সদ্য ঘোষিত ছয়টি ইউনিয়ন কমিটিতে মাঠে থাকা কর্মীদের স্থান দেওয়া হয়নি; এ কারণে প্রকৃত নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দ্বারা প্রত্যায়িত নেতা আ. সাত্তার বিগত দিনে সব নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থীদের অর্থদাতা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় কদমতলী থানায় একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার মামলা নম্বর ৩৪৬/২৫, তারিখ ২৯/০৫/২০২৫। তিনি আরও বলেন, ঢাকার আ. সাত্তার রাজনীতিতে স্বৈরাচারের প্রতিনিধি এবং বিএনপির কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি যারা ৫ তারিখের আগে মাঠে ছিলেন না, তাদেরকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

নজরুল ইসলাম জানান, “আমরা সবসময় দলের নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু দলের শৃঙ্খলা রক্ষা ও তৃণমূলের ঐক্য বজায় রাখতে হলে অবিলম্বে এসব অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কমিটিগুলো বাতিল করতে হবে। অন্যথায় বাধ্য হয়ে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান ফারুক, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আ. আজিজ মন্ডল, সদস্য সচিব রেজাউল করিম হক স্বপন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জার্জিস হোসেন সোহেল, খবির উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোর্সেদ শিবলী, এবং অন্যান্য নেতারা।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর উপজেলায় ১৯/০৫/২০২৫ তারিখ থেকে বিএনপির ৭টি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ২৯/০৫/২০২৫ তারিখে নাম প্রস্তাবনা গ্রহণ শেষ হয়। দীর্ঘ ৪ মাস পর রাজশাহী জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়াই ২৮/০৯/২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরীত কমিটি ০২/১০/২০২৫ তারিখে মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এর পর থেকে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।