০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণ (২য় ধাপ) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০১:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৮৫ Time View
blank
blank

 

মোঃ আহসান হাবীব সুমন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

জেলা কমান্ডেন্টের কার্যালয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, জামালপুরের আয়োজনে উপজেলা/থানা আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ (২য় ধাপ) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।জামালপুর সদর পৌরসভার ১ নং ওয়াড পাথালিয়া আনসার ও ভিডিপি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলার সুযোগ্য ও সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র মাধ্যম নির্বাচন। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা যায়।”

তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চারটি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করে বলেন—নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনগণ, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র। এর মধ্যে তিনটি থাকলেও গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। তাই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে বাহিনীর দায়িত্ব তিন ধাপে পালন করতে হয়—
১) নির্বাচনের আগে
২) নির্বাচন চলাকালীন
৩) নির্বাচন শেষে।

তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “শতভাগ নিরপেক্ষতা, সততা ও প্রভাবমুক্ত থেকে আমরা দায়িত্ব পালন করব। দেশবাসী নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড কমিশনের অধীনে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি তিনি আনসার বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মানুষের সহযোগিতা ও সেবাই আনসার বাহিনীর মূল লক্ষ্য। “আনসার মানে হলো সহায়তাকারী। মদিনার আনসাররা যেমন সহায়তা করেছিলেন, তেমনি জনগণের প্রকৃত সহায়ক হিসেবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় ‘আনসার’ নামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।”

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার পথে অগ্রসর হচ্ছে। হাজারো শহীদের রক্ত ও ত্যাগের ফসলই আজকের এই অগ্রযাত্রা।

পুলিশ বাহিনীর অর্জনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত এক বছর এক মাসে বাংলাদেশ পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা করেনি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনই পুলিশের বড় সাফল্য।”

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আনসার বাহিনীকে দায়িত্বশীল, সহনশীল ও নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেই আনসার বাহিনীকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা কমান্ডেন্ট জনাব মীর বহর শাহাদাত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

জামালপুরে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণ (২য় ধাপ) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

Update Time : ০১:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
blank
blank

 

মোঃ আহসান হাবীব সুমন, নিজস্ব প্রতিবেদক :

জেলা কমান্ডেন্টের কার্যালয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, জামালপুরের আয়োজনে উপজেলা/থানা আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ (২য় ধাপ) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।জামালপুর সদর পৌরসভার ১ নং ওয়াড পাথালিয়া আনসার ও ভিডিপি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলার সুযোগ্য ও সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র মাধ্যম নির্বাচন। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা যায়।”

তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চারটি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করে বলেন—নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনগণ, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র। এর মধ্যে তিনটি থাকলেও গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। তাই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে বাহিনীর দায়িত্ব তিন ধাপে পালন করতে হয়—
১) নির্বাচনের আগে
২) নির্বাচন চলাকালীন
৩) নির্বাচন শেষে।

তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, “শতভাগ নিরপেক্ষতা, সততা ও প্রভাবমুক্ত থেকে আমরা দায়িত্ব পালন করব। দেশবাসী নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড কমিশনের অধীনে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি তিনি আনসার বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মানুষের সহযোগিতা ও সেবাই আনসার বাহিনীর মূল লক্ষ্য। “আনসার মানে হলো সহায়তাকারী। মদিনার আনসাররা যেমন সহায়তা করেছিলেন, তেমনি জনগণের প্রকৃত সহায়ক হিসেবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় ‘আনসার’ নামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।”

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার পথে অগ্রসর হচ্ছে। হাজারো শহীদের রক্ত ও ত্যাগের ফসলই আজকের এই অগ্রযাত্রা।

পুলিশ বাহিনীর অর্জনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত এক বছর এক মাসে বাংলাদেশ পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা করেনি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনই পুলিশের বড় সাফল্য।”

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আনসার বাহিনীকে দায়িত্বশীল, সহনশীল ও নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেই আনসার বাহিনীকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা কমান্ডেন্ট জনাব মীর বহর শাহাদাত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।