০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মমতার হ*ত্যা*কা*রী*দের গ্রে/ফ/তা/র/স/হ ফঁ’সি’র দাবী সহপাঠী ও শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪১ Time View
blank
blank

 

জাকির হোসেন,নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নিয়ামতপুরে চাঞ্চল্যকর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মমতা আক্তার মিমের হত্যাকারীদের দ্রত গ্রেফতারসহ ফঁসির দাবী জানিয়েছেন তার সহপাঠীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী। আজ বুধবার সকাল ১১টায় তল্লা সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত মমতার স্মরনসভায় দোয়া ও মা সমাবেশে এ দাবী জানান সহপাঠী, শিক্ষক ও অভিভাবক বৃন্দ।

স্মরনসভায় বক্তারা বলেন, এটি একটি হত্যাকান্ড। মমতা বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে কৌশলে আটকিয়ে ধর্ষন করে খুনিরা। এরপর তার মরদেহ বিদ্যালয়ের সন্নিকটের একটি ডোবার পানিতে কলাগাছ চাপিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার দু’দিনপর গন্ধ ছড়ালে গ্রামবাসী গন্ধের সুত্র ধরে ওই ডোবায় ফেলা রাখা কলাগাছ লাঠি দিয়ে আলগা করলে মিমের দেহের অংশ বিশেষ ভেসে উঠে পানির উপর। পরে পুলিশকে খবর দিলে মমতা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় নিয়ামতপুর থানা পুলিশ।
মমতার সহপাঠী পপি ও তোহুরা বন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানায়, ঘটনার দিন আগেও মিমের সাথে তারা খেলা করেছে, মজা করেছে। আজ সেই বন্ধু বখাটে নেশাগ্রস্থদের কবলে পড়ে নির্মম ভাবে খুন হতে হলো।
এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তারা। তাদের হৃদয় বিদারক কান্নায় পুরো পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে যায়, আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠে। উপস্থিত সকলের চোখ বেয়ে নেমে আসে জল। কান্নাজড়িত কন্ঠে তাদের একটায় দাবী এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করা। যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না হয়।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তৃতা করেন গ্রামবাসী ফিরোজ আল মুজাহিদ, শরিফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক এনতাজ আলী, লতা খাতুন, মমতার বাবা মিনহাজুল, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও লক্ষীতাড়া ভাদরন্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমন নির্মম খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আাইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন।

উল্লেখ্য, মমতা আক্তার মিম নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার তল্লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় মিম। ঘটনার দু’দিন পর শনিবার বিকালে বিদ্যালয়ের পার্শবর্তী একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিয়ামতপুর থানা পুলিশ তল্লা গ্রামের আসাদ আলী (৫৫), সোরাইন বাবু (৩০), শিমুলকে (২৮) গ্রােফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মমতার হ*ত্যা*কা*রী*দের গ্রে/ফ/তা/র/স/হ ফঁ’সি’র দাবী সহপাঠী ও শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর

Update Time : ০৩:০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
blank
blank

 

জাকির হোসেন,নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নিয়ামতপুরে চাঞ্চল্যকর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মমতা আক্তার মিমের হত্যাকারীদের দ্রত গ্রেফতারসহ ফঁসির দাবী জানিয়েছেন তার সহপাঠীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী। আজ বুধবার সকাল ১১টায় তল্লা সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত মমতার স্মরনসভায় দোয়া ও মা সমাবেশে এ দাবী জানান সহপাঠী, শিক্ষক ও অভিভাবক বৃন্দ।

স্মরনসভায় বক্তারা বলেন, এটি একটি হত্যাকান্ড। মমতা বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে কৌশলে আটকিয়ে ধর্ষন করে খুনিরা। এরপর তার মরদেহ বিদ্যালয়ের সন্নিকটের একটি ডোবার পানিতে কলাগাছ চাপিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার দু’দিনপর গন্ধ ছড়ালে গ্রামবাসী গন্ধের সুত্র ধরে ওই ডোবায় ফেলা রাখা কলাগাছ লাঠি দিয়ে আলগা করলে মিমের দেহের অংশ বিশেষ ভেসে উঠে পানির উপর। পরে পুলিশকে খবর দিলে মমতা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় নিয়ামতপুর থানা পুলিশ।
মমতার সহপাঠী পপি ও তোহুরা বন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানায়, ঘটনার দিন আগেও মিমের সাথে তারা খেলা করেছে, মজা করেছে। আজ সেই বন্ধু বখাটে নেশাগ্রস্থদের কবলে পড়ে নির্মম ভাবে খুন হতে হলো।
এসব কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তারা। তাদের হৃদয় বিদারক কান্নায় পুরো পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে যায়, আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠে। উপস্থিত সকলের চোখ বেয়ে নেমে আসে জল। কান্নাজড়িত কন্ঠে তাদের একটায় দাবী এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করা। যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না হয়।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তৃতা করেন গ্রামবাসী ফিরোজ আল মুজাহিদ, শরিফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক এনতাজ আলী, লতা খাতুন, মমতার বাবা মিনহাজুল, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও লক্ষীতাড়া ভাদরন্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমন নির্মম খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আাইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন।

উল্লেখ্য, মমতা আক্তার মিম নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার তল্লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় মিম। ঘটনার দু’দিন পর শনিবার বিকালে বিদ্যালয়ের পার্শবর্তী একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিয়ামতপুর থানা পুলিশ তল্লা গ্রামের আসাদ আলী (৫৫), সোরাইন বাবু (৩০), শিমুলকে (২৮) গ্রােফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।