
মোঃ মাসুম বিল্লাল, মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
যশোরের মনিরামপুরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ঝাঁপা বাওর থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কাজ চলছে,বারবার অভিযোগ করার পরও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবার হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ঝাঁপা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি ইমরান হোসেন,গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ইমরান হোসেন জানান, গত (২৮ আগস্ট) বৃহস্পতিবার তিনি সরাসরি মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্নাকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিলেন,কিন্তু প্রশাসন তাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১ লা সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে ইমরান হোসেন অবৈধ বালি উত্তোলনের ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে শরীফ (পিতা: লিয়াকত আলী), তুহিন (পিতা: হাবিবুর রহমান), যুবলীগ নেতা রনি (পিতা: নূর ইসলাম), শিমুল (পিতা: কাশেম), রায়হান (পিতা: আইয়ুব মেম্বার), ফারুক (পিতা: মৃত মকছেদ) প্রমুখের নাম এসেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এরা সকলে অবৈধ বালি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
গ্রামবাসীরা জানান, অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে,কিন্তু প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সাহস করে ভিডিও ধারণ করতে যাওয়ায় ইমরানকে রক্তাক্ত করে ফেলে রাখা হয়,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, অভিযোগের মুখে (২ রা সেপ্টেম্বর) মনিরামপুর উপজেলার এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান লোক দেখানো অভিযান চালান,তবে ওই অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি,এমনকি কোনো জরিমানাও করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসী এটিকে “দায়সারা অভিযান” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ের কারণেই অবৈধ বালি ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না। এতে একদিকে পরিবেশ ও কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রতিবাদীরা। এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এবিষয়ে জানতে এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলে তিনি মেসেজের উত্তরে বলেন,”আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছিলো গত পরশু দিন (০১ লা সেপ্টেম্বর), আমি লোক পাঠিয়ে সেদিনই এটা বন্ধ করেছি বেলা ৩ টার দিকে,গতকাল (০২ রা সেপ্টেম্বর) জেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট এসেছিলো,সরেজমিনে আমরা গিয়ে যে সংযোগ পাইপগুলো পেয়েছি সেগুলো স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবার জন্য। ধন্যবাদ”
এসিল্যান্ডের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, জেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিলেও উপজেলা প্রশাসন দায়সারা ভাবে কাজ করেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩ রা সেপ্টেম্বর) বিকালে ঝাঁপা বাওড় সংলগ্ন কোমলপুর বাজারে জামায়াতে ইসলামী বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ের কারণে অবৈধ বালি ব্যবসা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে শুধু পরিবেশ ও কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে না, বরং প্রতিবাদকারীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আ স ম উবাইদুল্লাহ, পেশাজীবী ফরমের সভাপতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনিরামপুর শাখা,বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর,মাওলানা ফরিদুদ্দিন খান, ডা. শরিফুল ইসলাম এবং ঝাঁপা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. মোদ্দাছের হোসেন।
বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।











