০৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে মেলে না সার, কৃষকদের বি’ক্ষো’ভ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • ১০৪ Time View
blank
blank

 

সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী প্রতিনিধি :

সরকাার নিরধারিত মুললে সার না পাওয়া, বিক্রিতে সজন পিতি সহ নানান অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজশাহীর কাঁকনহাটের কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, এলাকার বিসিআইসির ডিলার তাদের সরকার নির্ধারিত দামে সার দেন না। বেশি টাকা দিলে সার দেন, তা না হলে বিভিনন অযুহাতে ফিরিয়ে দেন তাদের। আটকে রাখা সার তিনি পাচার করে দেন অন্য উপজেলায়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার ২৪ জুলাই

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহীর গোদাগাড়ী কাঁকনহাট বাজারে ফেসটুন বানার নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে পৌর শহরে তীব্র যানজট শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে কর্মসূচি শেষ করেন। সমাবেশ থেকে কাঁকনহাটের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স জি কে ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানানো হয়। তা না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। সমাবেশে কাঁকনহাট ও আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

সমাবেশে এলাকার কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, জি কে ট্রেডার্স পরিচালনা করেন তুহীনা আক্তার নামের এক নারী। তিনি সরকার নিরধারিত মুললের চাইতে বাড়তি টাকা ছাড়া সার দেন না। বাড়তি টাকা নেওয়ায় তিনি সার বিক্রির কোন রশিদ দেন না। বাধ্য হয়ে কৃষকদের সার নিতে হয়। এছাড়া ৫ বস্তা সার চাইলে তিনি ১০ কেজি দিয়ে ফিরিয়ে দেন। আবার অনেককে সার না দিয়েই ফিরিয়ে দেন। আটকে রাখা সার তিনি বেশি দামে পাশের তানোর উপজেলায় সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ কৃষকদের।
কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত ডিএপি সারের দাম এক বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা। তুহীনা আক্তার নেন ১ হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। টিএসপির দাম ১ হাজার ৩৫০ হলেও তিনি নেন দেড় হাজার টাকা। এছাড়া ১ হাজার টাকার, পটাশের দাম নেন ১ হাজার ২০০ টাকা। কয়েক বছর থেকে তিনি কৃষকদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা নিচ্ছেন।
কৃষক সমাবেশ থেকে মিনারুল ইসলাম নামের কৃষক বলেন, ‘আমি নিজে চাষাবাদের পাশাপাশি ট্রাক থেকে বিভিনন সময়ে মাল মাল নামানোর কাজ।করে থাকি। নিজে শত শত বস্তা সার তুহীনা আক্তারের গুদামে আনলোড করি। কিন্তু ২দিন যেতে না-যেতেই তিনি বলতে থাকেন কোন সার নেই। তিনি নাকি বাইরে থেকে বেশি দামে সার আনেন। এ কথা বলে তিনি কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করেন।
সমাবেশে কৃষকেরা দাবি করেন, বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করলে চাদা বাজির মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। ফলে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পান না। এবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায়। তারা সাহস করে তুহীনার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারা এখন মেসার্স জি কে ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মেসার্স জি কে ট্রেডার্সের দোকানে গিয়ে তুহীনা আক্তারকে পাওয়া যায়নি। দোকানে ছিলেন তার বাবা তাহাসেন আলী। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা ন্যায্য দামেই কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করেন। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করেন তাহাসেন আলী

এবিষয়ে গোদাগাড়ীর ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহে জি কে ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এরপর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তদন্ত কমিটি গতকাল শুনানি করেছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে মেলে না সার, কৃষকদের বি’ক্ষো’ভ

Update Time : ১১:১৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
blank
blank

 

সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী প্রতিনিধি :

সরকাার নিরধারিত মুললে সার না পাওয়া, বিক্রিতে সজন পিতি সহ নানান অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজশাহীর কাঁকনহাটের কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, এলাকার বিসিআইসির ডিলার তাদের সরকার নির্ধারিত দামে সার দেন না। বেশি টাকা দিলে সার দেন, তা না হলে বিভিনন অযুহাতে ফিরিয়ে দেন তাদের। আটকে রাখা সার তিনি পাচার করে দেন অন্য উপজেলায়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার ২৪ জুলাই

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহীর গোদাগাড়ী কাঁকনহাট বাজারে ফেসটুন বানার নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে পৌর শহরে তীব্র যানজট শুরু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে কর্মসূচি শেষ করেন। সমাবেশ থেকে কাঁকনহাটের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স জি কে ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানানো হয়। তা না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। সমাবেশে কাঁকনহাট ও আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

সমাবেশে এলাকার কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, জি কে ট্রেডার্স পরিচালনা করেন তুহীনা আক্তার নামের এক নারী। তিনি সরকার নিরধারিত মুললের চাইতে বাড়তি টাকা ছাড়া সার দেন না। বাড়তি টাকা নেওয়ায় তিনি সার বিক্রির কোন রশিদ দেন না। বাধ্য হয়ে কৃষকদের সার নিতে হয়। এছাড়া ৫ বস্তা সার চাইলে তিনি ১০ কেজি দিয়ে ফিরিয়ে দেন। আবার অনেককে সার না দিয়েই ফিরিয়ে দেন। আটকে রাখা সার তিনি বেশি দামে পাশের তানোর উপজেলায় সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ কৃষকদের।
কৃষকেরা জানান, সরকার নির্ধারিত ডিএপি সারের দাম এক বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা। তুহীনা আক্তার নেন ১ হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। টিএসপির দাম ১ হাজার ৩৫০ হলেও তিনি নেন দেড় হাজার টাকা। এছাড়া ১ হাজার টাকার, পটাশের দাম নেন ১ হাজার ২০০ টাকা। কয়েক বছর থেকে তিনি কৃষকদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা নিচ্ছেন।
কৃষক সমাবেশ থেকে মিনারুল ইসলাম নামের কৃষক বলেন, ‘আমি নিজে চাষাবাদের পাশাপাশি ট্রাক থেকে বিভিনন সময়ে মাল মাল নামানোর কাজ।করে থাকি। নিজে শত শত বস্তা সার তুহীনা আক্তারের গুদামে আনলোড করি। কিন্তু ২দিন যেতে না-যেতেই তিনি বলতে থাকেন কোন সার নেই। তিনি নাকি বাইরে থেকে বেশি দামে সার আনেন। এ কথা বলে তিনি কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করেন।
সমাবেশে কৃষকেরা দাবি করেন, বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করলে চাদা বাজির মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। ফলে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পান না। এবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায়। তারা সাহস করে তুহীনার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারা এখন মেসার্স জি কে ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মেসার্স জি কে ট্রেডার্সের দোকানে গিয়ে তুহীনা আক্তারকে পাওয়া যায়নি। দোকানে ছিলেন তার বাবা তাহাসেন আলী। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা ন্যায্য দামেই কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করেন। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করেন তাহাসেন আলী

এবিষয়ে গোদাগাড়ীর ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহে জি কে ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এরপর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তদন্ত কমিটি গতকাল শুনানি করেছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।