০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনের মাছ ধরতে গিয়ে ১ জেলের মৃ*ত্যু

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • ২৭ Time View
blank
blank

 

 রাকিবুল হাসান ( সাতক্ষীরা )শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ

সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে  সাতক্ষীরা রেঞ্জের স্মার্ট পেট্রোল টিমের ধাওয়া খেয়ে হার্ট অ্যাটাকে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন নটাবেকী টহল ফাঁড়ি এলাকায়।

মৃত জেলে কয়রা উপজেলার নওশের সর্দারের পুত্র মোস্তফা সরদার ( ৪৫)

মাছ ধরতে যাওয়া একই নৌকায় থাকা শ্যামনগর উপজেলার ছোট ভেটখালী গ্রামের ফজর খাঁর পুত্র ইউসুফ খাঁ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় কিভাবে মাছ ধরতে গিয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসুফ খাঁ পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, গরিব মানুষ সংসার চালাতে পারছিনা। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব অসহায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এ জন্যই জীবিকার তাগিদে চুরি করে জীবনের রিক্স নিয়ে বিগত ৪-৫ দিন আগে আমরা তিনটা নৌকায় আট জন লোক যাই জাল নিয়ে চিংড়ি মাছ ধরতে গিয়েছিলাম সুন্দরবনের নটাবেকি এলাকায়। আমাদের একটা নৌকায় তিন জন মাছ বিক্রি করতে আসছিল। আর দুইটা নৌকায় পাঁচজন ছিলাম। আমরা দুইজন একটি খালে জাল টানতে ছিলাম বাকি আর একটি নৌকায় তিনজন পাশে আরো একটি খালে জাল টানছিল। আমরা জাল ট্রেনে নৌকায় উঠতে না উঠতে দেখি স্মার্ট পেট্রোল টিমের স্পিড বোট ভাসনা দিয়ে আসতেছে তখন নওশের ভাই আমাকে বলল স্মার্ট টিম আসতেছে মালে ওঠ তখন আমরা দুজন নৌকা ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে মালের ভিতর লুকাই। স্পিডবোট স্টার্ট দিয়ে আমাদের নৌকার পাশে এসে আমাদের নৌকাটা নিয়ে চলে যায়। নওশের ভাই সুন্দরবনের অনেক ভিতরে চলে যায় আমি তাকে খুঁজে বের করে বলি আপনি এতো ভিতরে কেন চলেন দেখি আমাদের ওই নৌকাটা এই দিকে আছে কিনা বলে দুইজন হেঁটে বড় নদীর দিকে বেরিয়ে আসি এর মধ্যে নওশাদ ভাই বলল আমার বুকে ব্যথা করছে। একটু পানি খেতে পারলে মনে হয় ভালো হয়ে যেত । এর কিছুক্ষণের মধ্যে ভাই আমাকে একটু ধরো আমি আর পারছি না। আমার বুকে খুব ব্যথা করছে। গাছের ডালপাতা ভেঙে তাকে শুয়ে দিলাম। পরে একটু সুস্থ্যতা অনুভব করলে তাকে গাছে হেলান দিয়ে বসিয়ে রেখে আমাদের নৌকার কাছে গিয়ে অন্যদের নওশের ভাইয়ের অসুস্থতার কথা বলে ডেকে নিয়ে এসে দেখি তিনি মারা গেছেন।

অপর নৌকার মাঝি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের মৃত আনসার শেখের পুত্র সবুজ শেখ বলেন স্মার্ট টিমের স্পিডবোটের শব্দ শুনতে পেয়ে আমরা খালের মাথায় ছিলাম। সন্ধ্যার পরে স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা চলে গেছে কিনা তা দেখার জন্য বের হয়ে আসলে সুন্দরবনের ভিতর থেকে ফজর আমাকে ডেকে বলে নওশের ভাইয়ের অসুস্থ। বনের ওখানে বসে আছে। সেখানে গিয়ে দেখি নওশের ভাই গাছ হেলাম দিয়ে আছে। কথা বলছেনা। গায়ে হাত দিয়ে দেখি শরীরের তাপ নেই। মারা গেছে। তখন আমরা তাকে নৌকায় করে নিয়ে বাড়ি চলে আসি।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরার রেঞ্জ সহযোগী হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনলাম একজন জেলে মাছ ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে। এই বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের স্মার্ট পেট্রোল টিমের টিম লিডার আনোয়ারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনের মাছ ধরতে গিয়ে ১ জেলের মৃ*ত্যু

Update Time : ০৫:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
blank
blank

 

 রাকিবুল হাসান ( সাতক্ষীরা )শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ

সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে  সাতক্ষীরা রেঞ্জের স্মার্ট পেট্রোল টিমের ধাওয়া খেয়ে হার্ট অ্যাটাকে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন নটাবেকী টহল ফাঁড়ি এলাকায়।

মৃত জেলে কয়রা উপজেলার নওশের সর্দারের পুত্র মোস্তফা সরদার ( ৪৫)

মাছ ধরতে যাওয়া একই নৌকায় থাকা শ্যামনগর উপজেলার ছোট ভেটখালী গ্রামের ফজর খাঁর পুত্র ইউসুফ খাঁ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় কিভাবে মাছ ধরতে গিয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসুফ খাঁ পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, গরিব মানুষ সংসার চালাতে পারছিনা। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে খুব অসহায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এ জন্যই জীবিকার তাগিদে চুরি করে জীবনের রিক্স নিয়ে বিগত ৪-৫ দিন আগে আমরা তিনটা নৌকায় আট জন লোক যাই জাল নিয়ে চিংড়ি মাছ ধরতে গিয়েছিলাম সুন্দরবনের নটাবেকি এলাকায়। আমাদের একটা নৌকায় তিন জন মাছ বিক্রি করতে আসছিল। আর দুইটা নৌকায় পাঁচজন ছিলাম। আমরা দুইজন একটি খালে জাল টানতে ছিলাম বাকি আর একটি নৌকায় তিনজন পাশে আরো একটি খালে জাল টানছিল। আমরা জাল ট্রেনে নৌকায় উঠতে না উঠতে দেখি স্মার্ট পেট্রোল টিমের স্পিড বোট ভাসনা দিয়ে আসতেছে তখন নওশের ভাই আমাকে বলল স্মার্ট টিম আসতেছে মালে ওঠ তখন আমরা দুজন নৌকা ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে মালের ভিতর লুকাই। স্পিডবোট স্টার্ট দিয়ে আমাদের নৌকার পাশে এসে আমাদের নৌকাটা নিয়ে চলে যায়। নওশের ভাই সুন্দরবনের অনেক ভিতরে চলে যায় আমি তাকে খুঁজে বের করে বলি আপনি এতো ভিতরে কেন চলেন দেখি আমাদের ওই নৌকাটা এই দিকে আছে কিনা বলে দুইজন হেঁটে বড় নদীর দিকে বেরিয়ে আসি এর মধ্যে নওশাদ ভাই বলল আমার বুকে ব্যথা করছে। একটু পানি খেতে পারলে মনে হয় ভালো হয়ে যেত । এর কিছুক্ষণের মধ্যে ভাই আমাকে একটু ধরো আমি আর পারছি না। আমার বুকে খুব ব্যথা করছে। গাছের ডালপাতা ভেঙে তাকে শুয়ে দিলাম। পরে একটু সুস্থ্যতা অনুভব করলে তাকে গাছে হেলান দিয়ে বসিয়ে রেখে আমাদের নৌকার কাছে গিয়ে অন্যদের নওশের ভাইয়ের অসুস্থতার কথা বলে ডেকে নিয়ে এসে দেখি তিনি মারা গেছেন।

অপর নৌকার মাঝি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের মৃত আনসার শেখের পুত্র সবুজ শেখ বলেন স্মার্ট টিমের স্পিডবোটের শব্দ শুনতে পেয়ে আমরা খালের মাথায় ছিলাম। সন্ধ্যার পরে স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা চলে গেছে কিনা তা দেখার জন্য বের হয়ে আসলে সুন্দরবনের ভিতর থেকে ফজর আমাকে ডেকে বলে নওশের ভাইয়ের অসুস্থ। বনের ওখানে বসে আছে। সেখানে গিয়ে দেখি নওশের ভাই গাছ হেলাম দিয়ে আছে। কথা বলছেনা। গায়ে হাত দিয়ে দেখি শরীরের তাপ নেই। মারা গেছে। তখন আমরা তাকে নৌকায় করে নিয়ে বাড়ি চলে আসি।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির মাধ্যমে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরার রেঞ্জ সহযোগী হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে শুনলাম একজন জেলে মাছ ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে। এই বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের স্মার্ট পেট্রোল টিমের টিম লিডার আনোয়ারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।