০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের উপর জনমনে ক্ষোভ গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অ’ভি’যো’গ গায়েব

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • ৪৮ Time View
blank
blank

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি:

রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানায় গত ২৩ জুন ২০২৫ ইং তারিখে সন্ধ্যার পর মারামারি সংক্রান্ত অভিযোগ ডিউটি অফিসার শাহাদুল এর হাতে অভিযোগ দাখিল করেন শ্রীমতি পূর্তিমা রানী (২৫)। অভিযোগ দাখিল করার পর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। শ্রীমতি পূর্তিমা রানী গত শুক্রবার (৪ জুলাই) গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হাজির হয়ে অভিযোগের পত্রটির খোঁজখবর নিতে এসে দেখেন ডিউটি অফিসারের টেবিলে একজন এ,এস,আই বসে আছেন। তাকে অভিযোগের বিষয়টি বললে তিনি অভিযোগের রেজিষ্টারে তার অভিযোগ অন্তর্ভূক্ত হয়নি এবং অভিযোগ ডিউটি অফিসার শাহাদুল গায়েব করে ফেলেছেন। এক ঘন্টা পর দুইজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের টেবিলে ওই ২৩ জুন দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার শাহাদুল চেয়ারে বসে আছেন। তাকে শ্রীমতি পূর্তিমা রানীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার রেজিষ্টার বহিতে ২৩ জুন তারিখের অভিযোগ রেজিষ্টার বহিতে অন্তর্ভূক্ত হয়নি এবং অন্য ফাইলে খুঁজাখুজি করলেও পাওয়া যায়নি। এ,এস,আই শাহাদুল বলেন, আমার হাতে যে সমস্ত অভিযোগ এসেছিল তা আমি রেজিষ্টার বহিতে উল্লেখ করেছি। তিনি অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন। শ্রীমতি পূর্তিমা রানী জানান, গত ২৩ জুন ২৫ ইং তারিখে আমি যখন থানায় হাজির হয়ে এ,এস,আই শাহাদুলকে অভিযোগপত্র জমা দেই তখন আমার সঙ্গে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক আব্দুল আলীম প্রামানিক উপস্থিত ছিলেন। বিবাদীগণের সঙ্গে আতাত করে ডিউটি অফিসার শাহাদুল আমার অভিযোগপত্রটি গায়েব করেছেন। আমি এর সুষ্ট তদন্ত চাই। গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল এমরান বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউয়িনের উত্তর কোলকোন্দ মাছুয়াপাড়া গ্রামের রমেশ চন্দ্র দাস এর কন্যা শ্রীমতি পূর্তিমা রানীর কুড়িগ্রাম যাত্রাপুর গ্রামের মুকুল দাস এর ছেলে পবিত্র চন্দ্র দাস এর সাথে সাড়ে সাত বছর আগে বিয়ে হয়। পূর্তিমা রানী ১২ জুন ২৫ ইং তারিখে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত ১৯ জুন রাত আনুমানিক ৭টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ভাই প্রদীপ চন্দ্র দাস (২৭) একই গ্রামের দীনেশ চন্দ্র রায় এর ছেলে মুকুল চন্দ্র দাস (৪০), সাগর চন্দ্র দাস (২৮), সবুজ চন্দ্র দাস (২৫), কন্যা নন্দিনী রানী দাস পূর্তিমা রানীকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বাবার বাড়িতে লাঠি দিয়ে এলোপাতারী মারপিট করে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে। দুই চোখে ঘুষি মারলে তার দুই চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে যায়। নন্দিনী রানী পূর্তিমা রানীর ৩ রতি ওজনের স্বর্ণের নাকফুল এবং ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল খুলিয়া নেয়। যার মূল্য অনুমান ৭০ হাজার টাকা। পিসিতো ভাই শংকর আগাইয়া আসিলে তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ৬টি সেলাই হয়। ওই রাতেই প্রতিবেশিরা পূর্তিমা রানীকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় পূর্তিমা রানী গত ২৩ জুন প্রদীপ চন্দ্র দাসসহ ৫ জনকে বিবাদী করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

পুলিশের উপর জনমনে ক্ষোভ গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অ’ভি’যো’গ গায়েব

Update Time : ০১:৩২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
blank
blank

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি:

রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানায় গত ২৩ জুন ২০২৫ ইং তারিখে সন্ধ্যার পর মারামারি সংক্রান্ত অভিযোগ ডিউটি অফিসার শাহাদুল এর হাতে অভিযোগ দাখিল করেন শ্রীমতি পূর্তিমা রানী (২৫)। অভিযোগ দাখিল করার পর ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। শ্রীমতি পূর্তিমা রানী গত শুক্রবার (৪ জুলাই) গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হাজির হয়ে অভিযোগের পত্রটির খোঁজখবর নিতে এসে দেখেন ডিউটি অফিসারের টেবিলে একজন এ,এস,আই বসে আছেন। তাকে অভিযোগের বিষয়টি বললে তিনি অভিযোগের রেজিষ্টারে তার অভিযোগ অন্তর্ভূক্ত হয়নি এবং অভিযোগ ডিউটি অফিসার শাহাদুল গায়েব করে ফেলেছেন। এক ঘন্টা পর দুইজন গণমাধ্যমকর্মী থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের টেবিলে ওই ২৩ জুন দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার শাহাদুল চেয়ারে বসে আছেন। তাকে শ্রীমতি পূর্তিমা রানীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার রেজিষ্টার বহিতে ২৩ জুন তারিখের অভিযোগ রেজিষ্টার বহিতে অন্তর্ভূক্ত হয়নি এবং অন্য ফাইলে খুঁজাখুজি করলেও পাওয়া যায়নি। এ,এস,আই শাহাদুল বলেন, আমার হাতে যে সমস্ত অভিযোগ এসেছিল তা আমি রেজিষ্টার বহিতে উল্লেখ করেছি। তিনি অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন। শ্রীমতি পূর্তিমা রানী জানান, গত ২৩ জুন ২৫ ইং তারিখে আমি যখন থানায় হাজির হয়ে এ,এস,আই শাহাদুলকে অভিযোগপত্র জমা দেই তখন আমার সঙ্গে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক আব্দুল আলীম প্রামানিক উপস্থিত ছিলেন। বিবাদীগণের সঙ্গে আতাত করে ডিউটি অফিসার শাহাদুল আমার অভিযোগপত্রটি গায়েব করেছেন। আমি এর সুষ্ট তদন্ত চাই। গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল এমরান বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউয়িনের উত্তর কোলকোন্দ মাছুয়াপাড়া গ্রামের রমেশ চন্দ্র দাস এর কন্যা শ্রীমতি পূর্তিমা রানীর কুড়িগ্রাম যাত্রাপুর গ্রামের মুকুল দাস এর ছেলে পবিত্র চন্দ্র দাস এর সাথে সাড়ে সাত বছর আগে বিয়ে হয়। পূর্তিমা রানী ১২ জুন ২৫ ইং তারিখে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত ১৯ জুন রাত আনুমানিক ৭টার দিকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ভাই প্রদীপ চন্দ্র দাস (২৭) একই গ্রামের দীনেশ চন্দ্র রায় এর ছেলে মুকুল চন্দ্র দাস (৪০), সাগর চন্দ্র দাস (২৮), সবুজ চন্দ্র দাস (২৫), কন্যা নন্দিনী রানী দাস পূর্তিমা রানীকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বাবার বাড়িতে লাঠি দিয়ে এলোপাতারী মারপিট করে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে। দুই চোখে ঘুষি মারলে তার দুই চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে যায়। নন্দিনী রানী পূর্তিমা রানীর ৩ রতি ওজনের স্বর্ণের নাকফুল এবং ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল খুলিয়া নেয়। যার মূল্য অনুমান ৭০ হাজার টাকা। পিসিতো ভাই শংকর আগাইয়া আসিলে তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ৬টি সেলাই হয়। ওই রাতেই প্রতিবেশিরা পূর্তিমা রানীকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় পূর্তিমা রানী গত ২৩ জুন প্রদীপ চন্দ্র দাসসহ ৫ জনকে বিবাদী করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।