
এম এ রহমান, কেশবপুর যশোর
যশোরের কেশবপুর বৈশাখে প্রচন্ড তাপদহন ও ভ্যাপশা গরম উপেক্ষা করে কৃষকের বোরোধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। একমন ধান বিক্রি করে একটা জনের মূল্য হচ্ছে না। একমন চিকন ধানের মূল্য ১৩শ টাকা আর একটা জনের মূল্য ১৪শ টাকা থেকে ১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের বাম্পার ফলন ও নেয্য মূল্য পাইলেও জনের দাম পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে কৃষক।
কেশবপুর উপজেলায় বোরোধান মৌসুমে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এবছর বোরোধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত না হলেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরোধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এবছর বোরোধান চাষে সার কীটনাশক তুলনামূল কম লাগলেও অনুকূল আবহাওয়ার মাঝে মধ্যে আকাশের বৃষ্টি হচ্ছে। কৃষক স্বল্পমূল্যে বোরোধানের আবাদ করে খুব খুশি হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম, ধানের বাম্পার ফলন, নতুন ধানের নেয্য মূল্যও পাচ্ছে কৃষক। এই সুযোগে কৃষাণীরা হাতিয়ে নিচ্ছে চাহিদা তুলনায় অনেক বেশি টাকা।
বৈশাখের প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপশা গরম, তারপরেও মাঝে মধ্যে আকাশে উঁকি দিচ্ছে সাদাকালো মেঘের ভেলা। জনের মূল্য দফায় দফায় বাড়ছে। এর মাঝে খেতের ধান সংগ্রহ করতে কৃষক মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এই সুযোগে কামলা জনেরা হাতিয়ে নিচ্ছে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি টাকা।
উপজেলায় ধানকাটা জনের চাহিদা বেশি হওয়ায় খুলনা জেলার কয়রা পাইকগাছা, কপিলমনি, সাতক্ষীরা জেলার তালা কলারোয়া উপজেলার ধানকাটা জন বিক্রি করতে কেশবপুর আসছে। আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া বা অন্যান্য জায়গা থেকে জন কিনে নিয়ে আসছে। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কেশবপুর অঞ্চলে বোরো ধানের চাষ আগাম শুরু হওয়ায় ধানকাটা জনের চাহিদা বেশি , সেই সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে কিষাণীরা।
সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভালুকঘর গ্রামের কৃষক হায়দার আলী বলেন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১ টা পযর্ন্ত জোনের দাম ১ হাজার টাকা, বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫/৬শ টাকা। আর মহিলা জনের সাথে কথা বলা দায় তাদের চাহিদা বেশি। উপজেলা জাহানপুর গ্রামের কৃষক বিশিষ্ট দলিল লেখক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন একমন ধান বিক্রি করে একটা জনের দাম হচ্ছে না। একমন (৪০ কেজি) ধানের মূল্য বর্তমান বাজার দর ১৩শ টাকা থেকে ১৩৫০ টাকা। আর একটা জনের মূল্য সকাল থেকে দুপুর একটা পযর্ন্ত ১৪শ থেকে ১৬০০ টাকা।
কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে দেখা গেছে অনেক কৃষকের ধান, যারা আগেভাগে লাগিয়েছিল তারা ধান কেটে পরিস্কার করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে আগামী ১৫ দিনের ভিতরে সকল কৃষকের ধান বাড়িতে যাবে বলে অনেক কৃষক মনে করছেন।











