
সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী :
রাজশাহীর বাগমারায় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে সাংবাদিককে বের করে দিলেন ইউএনও। এ ঘটনায় গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে । চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্তে হতভাগ হয়েছেন রাজশাহীর বাগমারায় কর্মরত সাংবাদিকরা । তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।
জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের শুরু হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ১৫ এপ্রিল) বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজে তথ্য সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রে প্রবেশ করেন বাগমারা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইউসুফ আলী সরকার। তিনি ওই কেন্দ্রের অফিস সহকারীর রুমে যান তথ্য সংগ্রহের জন্য। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় কেন্দ্রে প্রবেশ করেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম।
এ সময় কেন্দ্রে সাংবাদিক দেখেই উত্তেজিত হন ইউএনও। সে সময় বার বার সাংবাদিক কে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকেন ইউএন ও। এক পর্যায়ে তিনি সংবাদ কর্মীকে অফিস সহকারীর ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এ সময় ইউ এন ও বলেন তার অনুমতি ছাড়া কোন পরীক্ষা কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। অন্যদিকে ওই দিনই ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজে পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকা ৩ জন শিক্ষককে অনিয়মের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। উল্লেখ যে ওই শিক্ষকরা আগামী ১ বছর কোন পরীক্ষায় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এছাড়াও ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আরো কোন অনিয়ম সংগঠিত হয় কিনা সেটা জানার আগেই ইউএনও এমন কর্মকান্ড করে বসে। অনিয়মের ঘটনায় সাংবাদিকরা খবর পেয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর অনিয়ম ঢাকতে কেন্দ্রে বিনা অনুমতিতে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন আচরণে ক্ষুদ্ধ হন বাগমারার সাংবাদিকরা বর্তমান অন্তরর্র্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের মত করে সরকারি বেসরকারি অফিস, আদালত ও সমাজের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনিয়ম গুলো পত্রিকায় প্রকাশ করবেন। অথচ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকরা কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেনা । তাহলে গণমাধ্যমকর্মীরা কি তার নির্দেশ মতে চলবে? এমন প্রশ্ন এখন সাংবাদিকদের । অনতিবিলম্বে তিনি তার এমন উদ্দেশ্যে প্রণোদিত নির্দেশ প্রত্যাহার না করলে বাগমারায় কর্মরত সাংবাদিকরা তার সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে তিনি নিজেকে তার উবর্ধতন কর্মকর্তার কাছে ভাল সাজার জন্য পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে সঙ্গে করে সাংবাদিক নিয়ে যান কেন্দ্রে । কেউ যেনো গোপনে পরীক্ষা কেন্দ্রের কোন অনিয়ম তুলে ধরতে না পারে সে জন্য কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা প্রদান করা হয়।
উক্ত ঘটনায় সাংবাদিক ইউসুফ আলী সরকার বলেন, তথ্যের জন্য ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজের অফিস সহকারীর কাছে যায়। ওই সময় হঠাৎ করে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সে সময় আমাকে দেখতে পান ইউএনও। এ সময় সবার সামনে আমাকে কেন্দ্রের মধ্যে থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। সাংবাদিক কে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয়া ঠিক করেননি তিনি। ওই দিনই অনিয়মের ঘটনায় তিন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সাংবাদিকরা যেন তথ্য না পায় সে কারনে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না তিনি।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রিসিভ না করাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।











