০১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে খাঁটি তালের রস খেতে ভীড় করছে মানুষ

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
  • ২১ Time View
blank
blank

 

রনি হোসেন, কেশবপুর

শীতে যেমন খেজুর রসের চাহিদা থাকে তেমনই গরমে থাকে তালের রসের চাহিদা। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি গরমের শুরু থেকে তালের রস বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেছেন অনেকেই।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার আনাচে কানাচে অনেকেই অন্যান্য পেশার পাশাপাশি তাল গাছ থেকে রস নামিয়ে বিক্রি করে সংসারে আয়ের হাল ধরেছে।

যশোরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় পানীয় তালের রস। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে মনকে সতেজ, ঠাণ্ডা আর চোখে ঘুম আনতে তালের রস বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সরেজমিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বায়সা-শ্রীরামপুর সড়কের পাশে বসে ফজর আলী (৪৬) বিক্রিয় করছেন খাঁটি তালের রস। ফজর আলীর পিতা সাখাওয়াত হোসেন (৬৮) প্রতিদিন ১২টি তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এই মৌসুমের শুরু থেকে আগামী ৫ মাস পযন্ত তালের রস সংগ্রহ করেন তারা। যে তাল গাছে তাল ধরে না তার জট ও যে গাছে তাল ধরে উভয় প্রকার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকেন।

অন্যদিকে উপজেলার পাঁজিয়া এলাকার গাছি আজীম জোয়াদ্দার। তিনি জানান, পাঁজিয়া ইউনিয়নের বেলকাটি গ্রামে তার বাড়ী। তিনি পেশায় একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি তিনি কয়েকমাস তালের রস বিক্রিয় করেন। প্রতিদিন ৫/৬ টি তাল গাছ থেকে প্রায় ১৫/২০ লিটার রস হয়। প্রতি গ্লাস রস ১০ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করা হয়। তিনি আরো জানান, একটা তাল গাছ থেকে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও বিকেলে তিন ধাপে ২০-২৫ গ্লাস রস সংগ্রহ করি। প্রতি গ্লাস রস এখন ১০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে।

এছাড়াও এ উপজেলার সুফলাকাটি, গৌরিঘোনা, সাগরদাঁড়ি, ত্রিমোহিনী, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে দেখা যায় তালের রস সংগ্রহের একই চিত্র। উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামে দেখা যায় জটা তাল গাছ। সেখান থেকে রস সংগ্রহ করে প্রতিদিন আয় করেন গাছিরা।

গাছিরা বলছেন তালগাছ কমে যাওয়ায় তেমন রস সংগ্রহ করা যায় না। এদিকে রসের চাহিদাও অনেক বেশি। অনেকেই শখের বসে দূর দূরান্ত থেকে এখানে এসে তালের রস পান করে যান। প্রতি গ্লাস তালের রস এখানে ১০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে।

রস পান করতে আসা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম  জানান, এখানকার তালের রস ভেজাল মুক্ত, মিষ্টি ও সুস্বাদু। আমাদের এলাকায় সবচেয়ে বেশি তালের রস সংগ্রহ করা হয়। প্রচন্ড গরমে তালের রস খেয়ে অনেক তৃপ্তি পেলাম। আমাদের মুরুব্বিদের কাছ থেকে শুনে এসেছি তালের রস মানুষের জন্য খুবই উপকারী। তাই মাঝে মধ্যে এখান থেকে তালের রস খাই।

বাজার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। যাওয়ার সময় তালের রস খাই। এখানকার তালের রস ভেজাল মুক্ত, মিষ্টি ও সুস্বাদু। আমাদের উচিত বেশি করে তালগাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা। তালগাছ থেকে আমরা শুধু রসই পাই না, এতে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পায়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকি পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

কেশবপুরে খাঁটি তালের রস খেতে ভীড় করছে মানুষ

Update Time : ০৪:১৪:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
blank
blank

 

রনি হোসেন, কেশবপুর

শীতে যেমন খেজুর রসের চাহিদা থাকে তেমনই গরমে থাকে তালের রসের চাহিদা। অন্যান্য কাজের পাশাপাশি গরমের শুরু থেকে তালের রস বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেছেন অনেকেই।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার আনাচে কানাচে অনেকেই অন্যান্য পেশার পাশাপাশি তাল গাছ থেকে রস নামিয়ে বিক্রি করে সংসারে আয়ের হাল ধরেছে।

যশোরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় পানীয় তালের রস। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে মনকে সতেজ, ঠাণ্ডা আর চোখে ঘুম আনতে তালের রস বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

সরেজমিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বায়সা-শ্রীরামপুর সড়কের পাশে বসে ফজর আলী (৪৬) বিক্রিয় করছেন খাঁটি তালের রস। ফজর আলীর পিতা সাখাওয়াত হোসেন (৬৮) প্রতিদিন ১২টি তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এই মৌসুমের শুরু থেকে আগামী ৫ মাস পযন্ত তালের রস সংগ্রহ করেন তারা। যে তাল গাছে তাল ধরে না তার জট ও যে গাছে তাল ধরে উভয় প্রকার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকেন।

অন্যদিকে উপজেলার পাঁজিয়া এলাকার গাছি আজীম জোয়াদ্দার। তিনি জানান, পাঁজিয়া ইউনিয়নের বেলকাটি গ্রামে তার বাড়ী। তিনি পেশায় একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি তিনি কয়েকমাস তালের রস বিক্রিয় করেন। প্রতিদিন ৫/৬ টি তাল গাছ থেকে প্রায় ১৫/২০ লিটার রস হয়। প্রতি গ্লাস রস ১০ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করা হয়। তিনি আরো জানান, একটা তাল গাছ থেকে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও বিকেলে তিন ধাপে ২০-২৫ গ্লাস রস সংগ্রহ করি। প্রতি গ্লাস রস এখন ১০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে।

এছাড়াও এ উপজেলার সুফলাকাটি, গৌরিঘোনা, সাগরদাঁড়ি, ত্রিমোহিনী, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে দেখা যায় তালের রস সংগ্রহের একই চিত্র। উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামে দেখা যায় জটা তাল গাছ। সেখান থেকে রস সংগ্রহ করে প্রতিদিন আয় করেন গাছিরা।

গাছিরা বলছেন তালগাছ কমে যাওয়ায় তেমন রস সংগ্রহ করা যায় না। এদিকে রসের চাহিদাও অনেক বেশি। অনেকেই শখের বসে দূর দূরান্ত থেকে এখানে এসে তালের রস পান করে যান। প্রতি গ্লাস তালের রস এখানে ১০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে।

রস পান করতে আসা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম  জানান, এখানকার তালের রস ভেজাল মুক্ত, মিষ্টি ও সুস্বাদু। আমাদের এলাকায় সবচেয়ে বেশি তালের রস সংগ্রহ করা হয়। প্রচন্ড গরমে তালের রস খেয়ে অনেক তৃপ্তি পেলাম। আমাদের মুরুব্বিদের কাছ থেকে শুনে এসেছি তালের রস মানুষের জন্য খুবই উপকারী। তাই মাঝে মধ্যে এখান থেকে তালের রস খাই।

বাজার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। যাওয়ার সময় তালের রস খাই। এখানকার তালের রস ভেজাল মুক্ত, মিষ্টি ও সুস্বাদু। আমাদের উচিত বেশি করে তালগাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা। তালগাছ থেকে আমরা শুধু রসই পাই না, এতে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পায়।