০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকে মুখরীত কুয়াকাটা সৈকত

  • blank Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৪৬ Time View
blank
blank

 

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।।

 

দীর্ঘ একমাস পর পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা এখন পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঈদের দিন বিকাল থেকে সৈকতে এসকল পর্যটকের আগমন ঘটে। আগত পর্যটকরা স্নিগ্ধ সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসিয়ে হই হুল্লোরে মেতেছেন। অনেকে প্রিয়জনকে নিয়ে সেলফি তুলে স্মৃতির পাতায় রেখে দিচ্ছেন। অনেকে সৈকতের বিভিন্ন বাহনে চরে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে সমুদ্রের তীড়ে আছরে পড়া ঢেউ সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। মোটকথা সৈকতে বিরাজ করছে ঈদ উৎসবের আমেজ। এদিকে গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, ঝাউবন ও শুটকি পল্লীসহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের উচ্ছাসিত উপস্থিতি। আগতদের ভীড়ে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল মোটেল। নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিষ্ট, থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
যশোর থেকে আসা দম্পতি সুমন-সীমা বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে গতকাল কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছি। গতকাল সৈকতে তেমন পর্যটক ছিল না। কিন্তু সকালে পুরো সৈকত দেখলাম পর্যটকে মুখর। অনেক লোক একসাথে দেখে বেশ ভালো লাগছে। তবে হোটেলে খাবারের দাম, ফটোগ্রাফারদের বাড়াবাড়ি এবং মোটরসাইকেল চালকদের ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানারকম অস্বস্তি। বরগুনা থেকে আসা পর্যটক ইমন খান বলেন, আজ সকালে মোটরসাইকেল যোগে এখানে এসেছি। কুয়াকাটার উল্লেখযোগ্য স্পটগুলো ঘুরে সন্ধ্যায় ফিরে যাব। তিনি আরও জানান, সবজায়গাতেই পর্যটকদের ভীড় থাকায় আরও আনন্দ হচ্ছে।
সৈকত লাগোয়া কসমেটিক্স দোকানী সুলতান আকন বলেন, গতকাল আশপাশের এলাকার পর্যটক ছিলো। বিক্রি মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আশা করছি আজ আরও বেশি পর্যটক আসবে এবং আমরা বিগত এক মাসের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো। সৈকতে হরেক পদের ভ্রাম্যমান আচার বিক্রেতা মোসলেম মিয়া বলেন, রমজানে কুয়াকাটায় কোন পর্যটক ছিলোনা। আমি গতকাল বিকালে আমার ভ্রাম্যমান দোকান নিয়ে সৈকতে নেমেছি। রাতে বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। অনেক পর্যটক আসছে আশা করছি আজ আরো বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক)সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, ঈদের ছুটিতে অনেক দিন পরে আজকে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত এখন সৈকত। তাই পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল কুয়াকাটার ১৬টি পেশার মানুষ খুশি। সকল পেশার মানুষই আজ পর্যটকদের সেবা দিয়ে আনন্দিত।
কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে আমাদের ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। লম্বা এই ছুটিকে কেন্দ্র করে ভালো একটা সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি সামনের পুরো মাসজুড়ে ভালো পর্যটক পাব।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অনার্স এসোসিয়েশন’র সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, পর্যটকদের এমন উপচেপড়া ভীড় আগামী ৪এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ঈদের ছুটিতে আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত করেছি। ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ করে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। তাই তাদের সেবায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information
blank

blank

আহত পত্রিকা বিক্রেতা বুলবুলের পাশে তানোর প্রেসক্লাব

ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকে মুখরীত কুয়াকাটা সৈকত

Update Time : ০৩:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫
blank
blank

 

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।।

 

দীর্ঘ একমাস পর পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা এখন পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঈদের দিন বিকাল থেকে সৈকতে এসকল পর্যটকের আগমন ঘটে। আগত পর্যটকরা স্নিগ্ধ সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসিয়ে হই হুল্লোরে মেতেছেন। অনেকে প্রিয়জনকে নিয়ে সেলফি তুলে স্মৃতির পাতায় রেখে দিচ্ছেন। অনেকে সৈকতের বিভিন্ন বাহনে চরে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে সমুদ্রের তীড়ে আছরে পড়া ঢেউ সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। মোটকথা সৈকতে বিরাজ করছে ঈদ উৎসবের আমেজ। এদিকে গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, ঝাউবন ও শুটকি পল্লীসহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের উচ্ছাসিত উপস্থিতি। আগতদের ভীড়ে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল মোটেল। নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিষ্ট, থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
যশোর থেকে আসা দম্পতি সুমন-সীমা বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে গতকাল কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছি। গতকাল সৈকতে তেমন পর্যটক ছিল না। কিন্তু সকালে পুরো সৈকত দেখলাম পর্যটকে মুখর। অনেক লোক একসাথে দেখে বেশ ভালো লাগছে। তবে হোটেলে খাবারের দাম, ফটোগ্রাফারদের বাড়াবাড়ি এবং মোটরসাইকেল চালকদের ব্যবহার নিয়ে রয়েছে নানারকম অস্বস্তি। বরগুনা থেকে আসা পর্যটক ইমন খান বলেন, আজ সকালে মোটরসাইকেল যোগে এখানে এসেছি। কুয়াকাটার উল্লেখযোগ্য স্পটগুলো ঘুরে সন্ধ্যায় ফিরে যাব। তিনি আরও জানান, সবজায়গাতেই পর্যটকদের ভীড় থাকায় আরও আনন্দ হচ্ছে।
সৈকত লাগোয়া কসমেটিক্স দোকানী সুলতান আকন বলেন, গতকাল আশপাশের এলাকার পর্যটক ছিলো। বিক্রি মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আশা করছি আজ আরও বেশি পর্যটক আসবে এবং আমরা বিগত এক মাসের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো। সৈকতে হরেক পদের ভ্রাম্যমান আচার বিক্রেতা মোসলেম মিয়া বলেন, রমজানে কুয়াকাটায় কোন পর্যটক ছিলোনা। আমি গতকাল বিকালে আমার ভ্রাম্যমান দোকান নিয়ে সৈকতে নেমেছি। রাতে বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। অনেক পর্যটক আসছে আশা করছি আজ আরো বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক)সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, ঈদের ছুটিতে অনেক দিন পরে আজকে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত এখন সৈকত। তাই পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল কুয়াকাটার ১৬টি পেশার মানুষ খুশি। সকল পেশার মানুষই আজ পর্যটকদের সেবা দিয়ে আনন্দিত।
কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে আমাদের ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। লম্বা এই ছুটিকে কেন্দ্র করে ভালো একটা সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি সামনের পুরো মাসজুড়ে ভালো পর্যটক পাব।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অনার্স এসোসিয়েশন’র সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, পর্যটকদের এমন উপচেপড়া ভীড় আগামী ৪এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ঈদের ছুটিতে আমরা বিভিন্ন পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত করেছি। ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ করে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। তাই তাদের সেবায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।