সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিজয়নগর কলোনির রাজমিস্ত্রি সাবেদুল ইসলামের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় সুস্থ তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এলাকাবাসীর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তার ‘খুনিদের’ বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছেন তারা।২ই আগস্ট রোববার সকালে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার
‘ রাজাবাড়ীহাট এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিলও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত মানববন্ধন এ সভাপতিত্ব করেন এলাকার সমাজসেবক আব্দুর রউফ। মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে সাবেদুলের এলাকা সহও তার আশেপাশে এলাকা থেকে ফেস্টুন হাতে প্রায় ৫০০ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।এ সময় তাদের মধ্যে মুখে একটাই স্লোগান ছিল সাবেদুল হত্যার বিচার চাই, বিচার চাই,
উল্লেখ্য যে গত ২৪ জুলাই সকালে সাবেদুল বাড়ি থেকে বের হয়, দুইদিন নিখোঁজ থাকার পর ২৬ জুলাই ভোরে রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি হাট বিজিবি চেকপোষ্টের একশত গজ উত্তর পূর্ব কোণে ভূমি অফিসের পাশের একটি পুকুরে তার ভাসমান অবস্থায় সাবেদুলএর মরদেহ উদ্ধার করে প্রেমতলী ফাড়ী পুলিশ স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে । তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, চোখে ঢোকানো হয়েছিল পিন।
এছাড়া ও তার জিহ্বা কাটা হয়েছিল, শরীরে ঢালা হয়েছিল গরম পানি।এর ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা ফোস্কা হয়ে উঠেছিল। তবে এ নিয়ে পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় ৭ দিন অতিবাহিত হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন কোন তৎপর দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি তার পরিবারের। এলাকাবাসীরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলছেন। খুনিদের শনাক্তকরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা
নিহত সাবেদুলের স্ত্রী আদরা খাতুন মানববন্ধনে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘জিহ্বা কাটা হয়েছে, দাঁত ভাঙা হয়েছে, তার চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। গরম পানিও ঢালা হয়েছে। আমার স্বামীকে যারা নির্মমভাবে খুন করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, কিছুটা থেমে সাড়ে ৪ বছরের মেয়েকে দেখিয়ে ডুকরে কাঁদতে থাকেন আদরা। বলেন, ‘আমি ছোট মেয়েটাকে নিয়ে এখন কোথায় যাব? আমরা বাচ্চাকে যে এতিম করেছে তার আমি বিচার চাই।’
সাবেদুলের মা আবেদা বেগম বলেন, ‘শেষবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাবেদুল বলেছিল মা আমি যদি মারা যায় আমার লাশটা এনে মাটি দিয়ে দিয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছে। আমরাও যথেষ্ট ভাবে অনুসন্ধান করছি। আমরা লাশের ময়নাতদন্ত করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবেবলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।